Kakoli Ghosh Dastidar: NCPI-এর নামবদল? মতের মিল হচ্ছে না তৃণমূলত্যাগী সাংসদদের? জল্পনা তুঙ্গে, সুকান্ত বললেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’
NCPI Name Change Row: নাম পাল্টাচ্ছে NCPI দলের? কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলের পোস্ট ঘিরে জল্পনা।

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর রাতারাতি উত্থান। রাতারাতিই তৃণমূলত্যাগী সাংসদরা গিয়ে যোগদান করেন। তবে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা NCPI-এর নাম কি বদলাচ্ছে এবার? জল্পনা উস্কে দিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন তিনি, যাতে NCPI-কে তিনি 'বহুজন সমাজ এনসিপিআই মুভমেন্ট ট্রাস্ট' বলে উল্লেখ করেছেন। সেই নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। কারণ মালা রায়ের দাবি, কোনও আলোচনাই হয়নি বিষয়টি নিয়ে। (NCPI Name Change Row)
সোশ্যাল মিডিয়ায় যে পোস্ট করেন বৈদ্যনাথ, তাতে তিনি লেখেন, 'Bahujan Samaaj NCPI Movement Trust- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একটি উদ্যোগ। আমাদের উদ্দেশ্য তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি, মুসলিম এবং মহিলা-সহ পিছিয়ে পড়া ও বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নের কাজ করা। শিক্ষা, স্কলারশিপ, ল্যাপটপ সহায়তা, স্কিল ডেভলপমেন্ট, লাইব্রেরি, কম্পিউটার সেন্টার, বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার। এই উদ্য়োগ অনুপ্রাণিত নারায়ণ গুরু, জ্যোতিরাও ফুলে, সাবিত্রীবাই ফুলে, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, রোকেয়া বেগম, বিআর আম্বেদকর এবং বিপি মন্ডলের সামাজিক ন্যায় ও সমতার আদর্শের'। (Kakoli Ghosh Dastidar)
বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক পালাবদল ঘটেছে। তৃণমূলকে সরিয়ে শুধুমাত্র বিজেপি ক্ষমতায় আসেনি, ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। দল ছত্রখান হতেই পিঠটান দেন জোড়াফুল প্রতীকে জয়ী হওয়া ২০ জন সাংসদ। রাতারাতি দলবদল করে তদানীন্তন অখ্যাত NCPI-তে যোগ দেন তাঁরা। শিবির বদলে কেন্দ্রে NDA-তে যুক্ত হন সকলে। NCPI-এর বিজেপি সংযোগ নিয়ে সেই সময় মুখে মুখে বহু চর্চা শোনা গেলেও, তেমন কোনও বড় পরিবর্তন ঘটেনি। সেই আবহেই দলের নামের আগে 'বহুজন' যুক্ত করা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
কাকলি যদিও অন্য ব্য়াখ্যা দিয়েছেন। NCPI-এর অন্যরাও অন্য যুক্তি তুলে ধরছেন এ নিয়ে। সেই আবহে এবিপি আনন্দে মালা বলেন, "আমার ঠিক জানা নেই। ব্যক্তিগত ভাবে আমরা যে ২০ জন সাংসদ NCPI-তেই ছিলাম, সেখানেই আছি। এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি কোথাও। নিজেদের মধ্যেও হয়নি, কোনও সভাতেও ঠিক হয়নি এটা। এব্যাপারে যিনি পোস্ট করেছেন, তিনি বলতে পারবেন কেন করেছেন। কারও ব্যক্তিগত মতামতের উপর দল চলে না বলেই জানি আমি। যিনি করেছেন, তিনিই ব্যাখ্যা করতে পারবেন। আমাদের কোনও মন্তব্য নেই। NCPI-তে ছিলাম, আছি থাকব। অন্য কোনও দলে মার্জ হয়নি।"
আরও পড়ুন: নাম বদলাচ্ছে NCPI দলের? দুই সাংসদের দু’রকম ব্যাখ্যা, জল্পনা তুঙ্গে
কাকলি যদিও জানিয়েছেন, দলের নাম বদল হয়নি। কাদের জন্য কাজ করবেন তাঁরা, সেটা বোঝাতেই বিশেষণটি যোগ করা হয়েছে। সকলের জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাঁরা। তাঁর কথায়, "NCPI দলটা নতুন। আমরা ২০ জন সাংসদ যোগদান করেছি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রায় মাথা পেতে নিয়ে...বাংলার মানুষ কিন্তু যে দল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলাম, সেই দলকে পরিত্যাগ করেছেন। ভোটে বোঝা গিয়েছে। তাই নতুন দলে যোগদান করেছি আমরা। অল্প পরিচিত দল। সেই দল সবার জন্য কাজ করবে বলে একটা অ্য়াডজেক্টিভ। দলটার নাম NCPI. বহুজন মানে সবাইকে নিয়ে চলা হবে। আলাদা দল কোত্থেকে হবে? কাদের জন্য উন্নয়ন করা হবে, কাদের জন্য কাজ করা হবে, তা বোঝাতে শব্দটা বসানো হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সকলকে নিয়ে, সকলের জন্য কাজ করা হবে।"
তবে মালা এবং কাকলির দুই রকম মন্তব্যে জল্পনা আরও বেড়ে গিয়েছে। দু'জন দু'রকম ব্যাখ্যা কেন দিচ্ছেন? তাঁদের মধ্যে কি মতপার্থক্য ঘটছে? তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান কি ফুটে উঠছে না? উঠছে প্রশ্ন। কারণ বৈদ্যনাথের পোস্টে NCPI-এর চিফ হুইপ, প্রবীণ সাংসদ কাকলির ছবি রয়েছে। দলে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আবার মালা বলছেন, 'ব্যক্তিগত মতামতে দল চলে না'। ফলে NCPI-এর ঐক্যবদ্ধ ভাবটা কোথাও নষ্ট হল বলে মনে করা হচ্ছে।
এই গোটা বিতর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, "NCPI একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল। NDA-তে আমাদের সঙ্গে আছে। একটি স্বতন্ত্র দল তাদের নামের সামনে, পিছনে কী লাগাবে, মেকআপ না লিপস্টিক লাগাবে, তা নিয়ে আমাদের অসুবিধা নেই। রাজনীতিতে এত কিছু নিয়ে মন্তব্য করতে নেই যে ভবিষ্যতে কী হবে। আমি বলব, ওয়েট অ্যান্ড সি।"
Before You Go
Jadavpur University: মেরামত করে ফিরল ঐতিহ্যের এমব্লেম, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি যাদবপুরে






















