Kamduni: গণধর্ষণের পর নৃশংস খুন, ১৩ বছর পার, ভোটের আগে এখনও সুবিচারের আশায় কামদুনি
Kamduni News: এক যুগেরও বেশি সময় কেটে গেছে। একের পর এক ভোট এসেছে, মিলেছে নানা আশ্বাস, প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বিচার? মেয়ে হারানো পরিবারটার দাবি, তা আজও অধরাই

সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা: গণধর্ষণের পর নৃশংস খুন। ২০১৩ সালে কামদুনিতে উদ্ধার হয়েছিল কলেজ ছাত্রীর দেহ। ১৩ বছর কেটে গেছে। মূল অভিযুক্ত ৬ জনের মধ্যে ৪ জনই বেকসুর খালাস হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টে এখনও মামলা চলছে। আর কয়েক মাস পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এরকম কত ভোট আসে যায়। সুবিচারের অপেক্ষা ফুরায় না কামদুনির।
২০১৩ থেকে ২০২৬। এক যুগেরও বেশি সময় কেটে গেছে। একের পর এক ভোট এসেছে, মিলেছে নানা আশ্বাস, প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বিচার? মেয়ে হারানো পরিবারটার দাবি, তা আজও অধরাই। কলেজ পড়ুয়া মেয়ের ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া মৃতদেহের স্মৃতি। আজও দিনরাত কুড়ে কুড়ে খায় এই মা-বাবাকে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৭ই জুন কামদুনির কান্না নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্য়কে! পাঁচিল ঘেরা এই ফাঁকা জমি থেকে উদ্ধার হয় এক কলেজ ছাত্রীর মৃতদেহ! গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল তাঁকে। এই নৃশংস ঘটনার দশদিন পর, উত্তর ২৪ পরগনার ছোট্ট জনপদে পা রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ''১৫ দিনের মধ্য়ে চার্জশিট দিয়ে দেওয়া হবে। আমরা দরকার হলে ফাঁসি এবং মৃত্য়ুদণ্ড দুটোই আমরা চাইব। কোর্টের কাছে চাইবে গভর্নমেন্ট।''
এরপর কামদুনিকাণ্ডের তদন্তভার যায় CID-র হাতে। পরবর্তীকালে ব্য়াঙ্কশাল আদালত। ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। কিন্তু ২০২৩-এর ৬ অক্টোবর কামদুনিকাণ্ডে ৩ জন দোষী সাব্যস্তের ফাঁসির সাজা রদ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। ২ দোষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় ও ৪ জনকে খালাস করে হাইকোর্ট।
এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে কামদুনি। CID তদন্ত নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে কামদুনিবাসী। কামদুনিকাণ্ডের প্রতিবাদী ও নিহত ছাত্রীর বান্ধবী টুম্পা কয়াল বলেন, ''আমরা এই আশা কোনও দিন করিনি, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের পর আমরা এই আশা সত্যিই করিনি।'' কামদুনিতে নিহত কলেজছাত্রীর ভাই জানিয়েছিলেন, ''কামদুনির পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আমাদের উকিল উপস্থিত আছেন। রাজ্য সরকারের উকিল উপস্থিত নেই। তার কারণেই কেসটা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তার অভাবও বোধ করছি আমরা প্রতিনিয়ত।''
হাইকোর্টের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেছে নিহত ছাত্রীর পরিবার। মামলা আজও ঝুলে রয়েছে। কামদুনিবাসীর সঙ্গী আজও নিরাপত্তাহীনতা। ভোট আসে, ভোট যায়। কামদুনির বিচারের অপেক্ষা আর ফুরোয় না। কিনতু, আর কতদিন?






















