Modi at Singur: তৃণমূলে আর 'আস্থা নেই', 'মোদিই পারবেন কারখানা করতে', TATA গাড়ির মডেল বানিয়ে এনে আশায় সিঙ্গুরবাসী!
যে সিঙ্গুর নিয়েই পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির পালাবদল ঘটেছিল, এবার সেই সিঙ্গুরেই বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যে আসলেন প্রধানমন্ত্রী।

কলকাতা: 'সিঙ্গুর' পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম একটি অধ্যায়। বাম আমলের পরাজয়ের নেপথ্যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মসনদে বসার লড়াইয়ের একটি বড় প্রেক্ষাপট এই 'সিঙ্গুর'। ১৮ বছর আগে বাম সরকার-তৃণমূলের দড়ি টানাটানির মাঝে পড়ে সিঙ্গুরে বন্ধ হয়ে যায় টাটার কারখানা। টাটা-বিদায়ের ১৮ বছর পর, ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এর মাঝে জল গড়িয়েছে অনেকটাই। আর কোনও কারখানা তো হইয়নি, বরং ২০১৬ সালে সিঙ্গুরের জমি অধিগ্ৰহণকে বেআইনি ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তারপর অধিগৃহীত জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেয় রাজ্য সরকার। কারখানার কাঠামো সরিয়ে কংক্রিটের স্ল্যাব ভেঙে জমি চাষ যোগ্য করার চেষ্টাও হয়। তবে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। ৯৯৭ একর জমির মধ্যে মাত্র ৩০০ একরের কাছাকাছি জমি চাষযোগ্য করা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন সিংহের ভেড়ি ও বাজেমেলিয়া মৌজায় প্রায় ১০০ শতাংশ জমিই চাষের অযোগ্য।
যে সিঙ্গুর নিয়েই পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির পালাবদল ঘটেছিল, এবার সেই সিঙ্গুরেই বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যে আসলেন প্রধানমন্ত্রী। আর মোদির এই সিঙ্গুর সফর নিয়েই আশায় বুক বাঁধছেন সিঙ্গুরবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, 'এখন যে পরিস্থিতি এর জন্য আমরাই কিছুটা দায়ী। আসলে তখন তৃণমূলের এমন হাওয়া ছিল। সবাই ভেসে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুই তো আর হল না। এখন এত বেকার এখানে। এখন কারখানা হলে কিছু তো উপকার হবে সকলের। চাকরি পেলে ভোল বদলে যাবে এখানের।'
এক সুর আরেক সিঙ্গুরবাসীর গলায়। তিনি বলেন, 'কারখানা হল না। চাষবাসও হল না ওই জমিতে। কিছু আর হওয়ার নেই। এখানে কত শিক্ষিত যুবক আছে। আমরা আশা করে আছি প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই কিছু একটা ঘোষণা করবেন। তৃণমূলে আর আস্থা নেই। টাটার কারখানা এখান থেকে সরে গুজরাতে হয়েছিল। আমরা চাই এখানেও কিছু একটা হোক।'
প্রধানমন্ত্রীর সভায় এদিন দেখা গেল একটি দৃশ্য। সেখানে 'টাটার কারখানা চাই' এই নাম লিখে একটি কারখানার কাঠামো বানানো হয়েছে। যার ভিতরে ছোট ছোট ন্যানো গাড়ি রাখা। মোদিকে 'শিল্পের' এই বার্তা দিয়েই এই শিল্প বানিয়ে এনেছেন এমনটাই দাবি।
এদিকে আজ সকলের নজরে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর এই সিঙ্গুরের সভা। কী ঘোষণা করবেন, কী বার্তা দেবেন, ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে তা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকে তাকিয়ে সকলে।






















