Rath Yatra 2026: ৬৩০ বছরে পা, মহা সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাহেশের রথযাত্রা
Mahesh Rath Yatra : ভোর থেকেই মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়।

সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়,শ্রীরামপুর: মহা সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাহেশের রথযাত্রা। ভোর থেকেই মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে উৎসবের আবহে মেতে উঠেছে গোটা মাহেশ। এ বছর মাহেশের রথযাত্রা ৬৩০ বছরে পদার্পণ করল।
সারা বছর জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ মন্দিরের গর্ভগৃহে অবস্থান করলেও রথযাত্রার দিন বিশেষ আচার মেনে তাঁদের মূল ফটকের বাইরে এনে ভক্তদের দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। ফুল, বেলপাতা, চন্দন দিয়ে ভক্তরা পুজো দেন প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে। এরপর ঐতিহ্যবাহী রথে চড়ে তাঁরা মাসির বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন।মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের সামনে জিটি রোডের ধারে সারা বছর সংরক্ষিত থাকে ঐতিহাসিক রথটি। একসময় কাঠের রথে যাত্রা হলেও বর্তমানে ব্যবহৃত হয় প্রায় ১৪০ বছরের পুরনো মার্টিন বার্ন কোম্পানির নির্মিত লোহার রথ। কলকাতার শ্যামবাজারের বসু পরিবার বর্তমানে এই রথের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। ৯ চূড়াবিশিষ্ট, প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার এই রথে রয়েছে ১২টি লোহার চাকা। পুরীর পর ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রার গৌরব বহন করে মাহেশ।
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে মন্দির সংলগ্ন স্নানপিড়ি মাঠে বসেছে বিশাল মেলা। সকাল থেকেই মন্দিরে চলছে পূজা, ভক্তিগীতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভক্তদের জন্য ভোগের প্রসাদেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।এবার প্রথমবারের মতো রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের বড় রথযাত্রা কমিটিগুলিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। সেই অনুদান পেয়েছে মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরও। ফলে এ বছর আরও জাঁকজমক করে সাজানো হয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণ এবং উৎসবের সমস্ত আয়োজন। লাখো ভক্তের নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্যও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
রথযাত্রার আবহে ধর্ম, ঐতিহ্য আর রাজনীতির মেলবন্ধন। রানিগঞ্জে রথের উৎসবে সামিল হলেন দুই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও অজয় পোদ্দার। মায়াপুরে স্ত্রীকে নিয়ে বিশেষ পুজোয় অংশ নিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কলকাতায় ট্রামে হল অভিনব রথযাত্রা, ছিলেন বিজেপি বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। বিজেপি বিধায়ক ও পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন,' রথযাত্রা এর আগেও হয়েছে। কিন্তু হিন্দুদের উৎসবকে সেভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি। মানুষ ভয়ের পরিবেশে ছিল। আজকে নতুন সরকার আসার পর, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে আজকে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ভয় OUT, ভরসা IN. সমস্ত সনাতনীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাস নিয়ে আজকে উৎসব পালন করছেন।'






















