NRC Notice: জন্ম-কর্ম সব পশ্চিমবঙ্গে, অথচ অসমের NRC নোটিসে ‘অনুপ্রবেশকারী’! কোথায় যাবেন উত্তমকুমার-আরতিদেবীরা?
NRC Notice to Bengalis: একজন উত্তমকুমার ব্রজবাসী, অন্য জন আরতি ঘোষ।

শুভেন্দু ভট্টাচার্য, আশাবুল হোসেন ও দীপক ঘোষ: বৈধ কাজপত্র থাকা সত্ত্বেও, পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশে। পরে আবার দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু। 'বিদেশি' বলে দাবি করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে বাংলাভাষী, বাঙালিদের তাড়ানো, তাঁজের হেনস্থা করার অভিযোগ উঠছে। সেই তালিকায় নাম উঠে এল আসলে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা, দুই বাঙালির। একজন উত্তমকুমার ব্রজবাসী, অন্য জন আরতি ঘোষ। (NRC Notice)
একেবারে আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্থা। যে দেশে বছরের পর বছর বাস, যেখানে ঘরবাড়ি-কাজকর্ম সব, সেখানে বসেই হঠাৎ করে শুনতে হল তাঁরা না কি ভারতের বৈধ নাগরিক নন! উত্তমকুমার এবং আরতি, দু'জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। অথচ তাঁদের NRC নোটিস ধরিয়েছে অসম সরকার। অসমের বিজেপি সরকারের এই NRC নোটিস ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি। (NRC Notice to Bengalis)
গত জানুয়ারি মাসে, কোচবিহারের দিনহাটার চৌধুরীহাটের বাসিন্দা, উত্তমকুমারকে NRC-সংক্রান্ত নোটিস পাঠায় অসমের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। আসলে দিনহাটার বাসিন্দার উত্তমকুমারের দাবি, শুধু তাঁর নয়, তাঁর বাবার জন্মও কোচবিহারে। অথচ, বিজেপি শাসিত অসম সরকারের পাঠানো নথিতে দাবি করা হয়েছে, উত্তমকুমারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে ২৪ মার্চের পর, কোনও বৈধ নথি ছাড়াই অসম সীমান্ত দিয়ে এদেশে ঢুকে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তমকুমার তাঁর নাগরিকত্ব প্রমাণে উপযুক্ত নথিও জমা দিতে পারেননি বলে দাবি করা হয়েছে নোটিসে।
এবিপি আনন্দে উত্তমকুমার বলেন, "জানুয়ারি মাসে আমার বাড়িতে একটা কাগজ এল। বলল NRC-র।" কোথা থেকে এল সেই কাগজ? উত্তমকুমার বলেন, "গুয়াহাটি থেকে এসেছে। আমি জীবনে কখনও গুয়াহাটি যাইনি। আমার জন্ম এখানেই। আমার বয়স ৫০ বছর। বাবার জন্মও এখানে। আমার নামে NRC-র কাগজ এল। আমরা পুরো আতঙ্কে রয়েছি। উকিল দিয়ে তিন মাস আগে কাগজ পাঠিয়েছি অসমে।"
NRC-র গেড়োয় পড়েছেন কোচবিহারের আর এক বাসিন্দাও। তুফানগঞ্জের বক্সীরহাটের বাসিন্দা আরতি ঘোষ। তাঁর দাবি, ১৯৯১ সালে অসমে বিয়ে হয় তাঁর। ২০১৮ সালে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য তাঁর কাছে নথি চায় অসম সরকার। কিন্তু বেশ কিছু নথি জমা দিলেও, তা গ্রাহ্য হয়নি। শেষ পর্যন্ত অসমে স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে কোচবিহারে বাবার কাছে এসে থাকতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু এবার এখানেও এসে পৌঁছেছে নোটিস।
এবিপি আনন্দে আরতি বলেন, "আমি দু'বার আবেদন করেছি। দু'বারই নাম বাতিল হয়ে গিয়েছে। ২০১৮ সালে আবেদন করা হয়েছিল। সেই সময় আমার সার্টিফিকেট, বাবার '৬৬ সালের ভোটার লিস্টের কাগজ, বাবা যে চাকরি করতেন, তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, সবই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওরা বলেছিল, বাবা যে চাকরি করেন, তার সত্যতার প্রমাণ দিতে হবে। সেই সময় সেটা পাইনি আমি। SDO অফিসে গিয়েছি, দেয়নি। স্বাভাবিক ভাবেই অস্থিরতা বোধ করছি।"
বেছে বেছে বাঙালিদের এভাবে হেনস্থা করার জন্য বিজেপি-কে তীব্র আক্রমণ করেছে তৃণমূল। রাজ্যে দলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “বাংলাভাষী, বাঙালিদের অসমে চরম হেনস্থা করা হচ্ছে পরতে পরতে। আরতি দেবীরা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সর্বতো ভাবে সহযোগিতা করবেন।” SDO অফিসে আরতি দেবী যে কাগজ পাননি, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে SDO অফিস যে আরতি দেবীকে সাহায্য় করেনি, সেই নিয়ে তৃণমূলকে পাল্টা আক্রমণ করেছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, "তুফানগঞ্জ SDO অফিসে গেলেও, ভেরিফাই করে দেওয়া হয়নি। ফলে আবেদন নাকচ হয়ে যায়। এখন তৃণমূল রাজনীতি করতে চাইছে।" আর মাত্র কয়েক মাস বাকি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। তার আগে নতুন করে ফের NRC আতঙ্ক ফিরল। সেই রাজনীতির পারদ চরমে উঠলেও, চরম হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আতঙ্ক গ্রাস করছে তাঁদের।






















