Food Safety : 'আমিষ সম্পর্কে মানুষের ঘৃণা তৈরি করতেই এত পচা মাংস উদ্ধার' সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক TMC, পাল্টা বিজেপি
স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত মোট ১৬১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিনে সর্বোচ্চ ৫২০ কেজি খাবার নষ্ট করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আশাবুল হোসেন, ঐশী মুখোপাধ্যায়, সত্যজিৎ বৈদ্য,কলকাতা : জেলা থেকে কলকাতা । বিভিন্ন রেস্তোরাঁর রান্নাঘর যেন বিপদগুহা। প্রশাসনিক হানায় উদ্ধার হচ্ছে নষ্ট হওয়া পচা মাছ কিংবা মাংস উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত মোট ১৬১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিনে সর্বোচ্চ ৫২০ কেজি খাবার নষ্ট করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এই অভিযানকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ। দুর্গাপুজোর সময় বাঙালি কোথায় কী খাবে, কী খাবে না, তা নিয়ে মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান সন্ত, স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি সরাসরি বাঙালির খাদ্যাভ্যাসকে নোংরা বলে দেগে দেন। বলেন, নবরাত্রির সময় দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের কাছাকাছি আমিষের স্টল বসে। তা নাকি নোংরা , অপবিত্র ! এই মন্তব্য ঘিরে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
একদিকে যখন বিভিন্ন রেস্তোরাঁর রান্নাঘর থেকে পচা মাছ-মাংস উদ্ধার হচ্ছে, ঠিক তখনই স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য ! এই দুই ঘটনার সমাপতনের পিছনে বিশেষ কারণ দেখছে তৃণমূল ও সিপিএম। তৃণমূলের 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর মুখপাত্র অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে পচা মাংস, পচা মাছ পাওয়া যাচ্ছে, এমন একটি ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, এর পিছনে RSS এবং বিজেপির একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ' বিভিন্ন রেস্তোরাঁতে যে অভিযান চলছে, এবং প্রতিনিয়ত একটা ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, যে সেখান থেকে পচা মাংস, পচা মাছ ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে, এর পিছনে আমরা নির্দিষ্টভাবে মনে করি, যেটা RSS, বিজেপি একটি সুর্নিদিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, বাঙালির যে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস, তার মধ্যে আমিষের যে ব্যবহার, সেটাকে কোথাও না কোথাও আঘাত করা। একটা ভয় ধরিয়ে দেওয়া। যে আমিষ খাওয়া মানেই সেখানে কোথাও পচা, কোথাও সংক্রমিত খাবার ইত্যাদি।'তাঁর দাবি, বাঙালির স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে আমিষের যে ব্যবহার, সেটাকে কোথাও না কোথাও আঘাত করা হচ্ছে।
একই সুর সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমানের গলাতেও। তাঁর বক্তব্য, প্রথমে বাগেশ্বর বাবার মতো মানুষকে নিয়ে এসে আমিষ তত্ত্ব হাজির করা, তারপর রেস্তোরাঁগুলিতে হানা, এর মাধ্যমে মানুষকে ভয় ধরানো হচ্ছে। এটি RSS এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কাজ।
তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের পাল্টা বক্তব্য, তৃণমূল সবেতেই রাজনীতি আনে। তিনি বলেন,'তৃণমূল সবেতে রাজনীতি আনে। আমরা আমিষভোজী, আমিষ বন্ধ করব কী করে। কিন্তু তাই বলে কি ভাগার থেকে খাব? আজই তো দু-পিস ইলিশ খেয়েছি।'
সব মিলিয়ে খাবার-দাবার নিয়ে প্রশাসনিক অভিযান, আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক এবং তাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর, নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি।
Before You Go
Non Veg Contro:দুর্গাপুজোয় বাঙালি কী খাবে, তা নিয়ে মধ্য়প্রদেশের 'বাগেশ্বর বাবা'র ফতোয়া ঘিরে সমালোচনা






















