সেবাশ্রয়ে হাঁটুর চিকিৎসা করতে গিয়ে পা বাদ গেল মহিলার! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে FIR
সেবাশ্রয় ক্যাম্পে ভুল চিকিৎসার কারণে ডান পা বাদ দিতে হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা, ৫৮ বছরের মালতী বিশ্বাসের।

কলকাতা: সেবাশ্রয়ে হাঁটুর চিকিৎসা করতে গিয়ে পা বাদ গেল মহিলার। হাঁটুর চিকিৎসা করতে সেবাশ্রয়ে গিয়েছিলেন মহেশতলার বাসিন্দা। ওষুধ খেয়েও না কমায় সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ। ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মাস ওষুধ খেয়েও কোনও লাভ হয়নি। ন্যাশনাল মেডিক্যালে অস্ত্রোপচার, বাদ গেল মহিলার ডান পা।
সেবাশ্রয় ক্যাম্পে ভুল চিকিৎসার কারণে ডান পা বাদ দিতে হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা, ৫৮ বছরের মালতী বিশ্বাসের। পা বাদ যাওয়া ভুক্তভোগী মালতি বিশ্বাস বলেন, 'আজকে আমি চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে পড়ে রয়েছি। কারও এরকম যেন...আমি চাই আমার সুষ্ঠু বিচার চাই।'
আর সেই ঘটনায় বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করলেন তাঁর স্বামী। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। হাঁটুর সমস্যা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় ক্যাম্পে গিয়েছিলেন মালতী বিশ্বাস। এই হল ৬ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন। তাতে না আছে চিকিৎসকের সই। না আছে চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর! এমনকী, প্রেসক্রিপশনে তারিখটুকুরও উল্লেখ নেই।
হাঁটুর সমস্যা নিয়ে গেলেও মালতী বিশ্বাসকে দেওয়া হয় প্যারাসিটামল, হজম ও ব্লাড সুগারের ওষুধ। সঙ্গে ব্যথ্যা কমানোর জেল। অভিযোগ, টাকা চাওয়া হয় তাঁদের থেকে।
পরিবারের দাবি, সেবাশ্রয় ক্যাম্প থেকে পাঠানো হয় এম আর বাঙুর হাসপাতালে। সেখান থেকে আবার চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে রেফার করে দেওয়া হয় মালতী বিশ্বাসকে। সেখানেই ২০২৫-এর ২৭ মে অস্ত্রোপচার করে তাঁর ডান পা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।
মালতী বিশ্বাসের পা বাদ দিতে হলেও, অল্পের জন্য রক্ষা পান সরিষা কালীমন্দিরতলার বাসিন্দা, কলেজছাত্রী সুস্মিতা অধিকারী। পেটে ব্যথ্যার সমস্যা নিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সেবাশ্রয় ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, ইমিডিয়েট অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে তাঁর। কিন্তু পরে দেখা যায়, তাঁর কিছুই হয়নি।
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে গেছিলেন সরিশার কলাগাছিয়ার বাসিন্দা সীমা কাঁঠাল। এখানেও অভিযোগ, ওষুধ খাওয়ার পর উপশম তো দূর-অস্ত, উল্টে ব্যথা বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে সেবাশ্রয় নিয়ে বিতর্ক যেন এখনই কমার কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।






















