TMC News : 'মমতাকে দেখে ভোট দিয়েছি', বিধায়ক ঋতব্রত-শিবিরে যেতেই 'ভোট-ফেরৎ' চাইলেন তৃণমূলকর্মী
নিজের ভোট ফেরত চেয়ে জেলাশাসক, স্থানীয় বিধায়ক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিলেন পূর্ব বর্ধমানের এক তৃণমূল কর্মী।

কমলকৃষ্ণ দে. পূর্ব বর্ধমান : ‘দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখেই ভোট দিয়েছিলাম। কিন্তু যে বিধায়ক সেই ভোটে জিতেছেন, তিনি দলবদল করেছেন। তাই নিজের এবং স্ত্রীর দেওয়া ভোট ফেরত চাই।’—এমনই দাবি জানিয়ে জেলাশাসক, বিধায়ক এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি দিলেন এক তৃণমূল কর্মী। তাঁর এই আবেদন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
পূর্ব বর্ধমানের ২৬৬ নম্বর বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ঘটনা। ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর ভেঙে খান-খান হয়েছে তৃণমূল। রাজ্যে তৃণমূলের প্রতীকে জেতা বিধায়কদের একটা বড় অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা শিবির গঠন করেছে। এখন প্রতীক কাদের কাছে থাকবে, তাই নিয়েই চলছে দড়িটানাটানি। 'কালীঘাট তৃণমূল' ও 'ঋতব্রত তৃণমূল' দুই পক্ষের বাদানুবাদ, আকচাআকচি থেকে বেনজির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিধানসভার অধিবেশনেও। এই আবহে কার্যত বিরক্ত ও আশাহত হয়ে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন এক তৃণমূল কর্মী। সন্দীপ ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তির দাবি, তিনি ও তাঁর স্ত্রী তৃণমূলের প্রতীক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেই ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচিত বিধায়ক দল পরিবর্তন করে অন্য শিবিরে যোগ দেওয়ায় তাঁরা নিজেদের ভোটের ‘প্রতিদান’ ফেরত চাইছেন। সন্দীপের অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর বিধায়ক নিশীথ কুমার মাল্লিক দলনেত্রীর সঙ্গে ‘বেইমানি’ করেছেন। তাঁর দাবি, বিধায়ক দল ও কর্মীদের স্বার্থের কথা না ভেবে অন্য রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এই কারণেই তিনি নিজের এবং স্ত্রীর দেওয়া ভোট ফেরত চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
সন্দীপ ভট্টাচার্য জানান, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই দল করি। তাঁকে দেখেই ভোট দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের ভোটে জিতে বিধায়ক যদি অন্য শিবিরে চলে যান, তাহলে আমরা সেই ভোট ফেরত চাই।” তিনি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি বিধায়ককে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং ডাকযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও আবেদন পাঠানো হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে দলবদল নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। একাধিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তৃণমূল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই তালিকায় ২৬৬ বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নিশীথ কুমার মাল্লিকের নামও রয়েছে। অন্যদিকে, ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস ভোট গণনা নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে তিনি আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। এবার এক তৃণমূল কর্মীর ‘ভোট ফেরতের’ আবেদন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও আইনগতভাবে কোনও ভোটার নিজের দেওয়া ভোট ফেরত নিতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।























