SSC Teacher Death: 'কেন এত কষ্ট দিলেন, ছোট বাচ্চাকে নিয়ে কী করে থাকব ?' মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন চাকরিহারা মৃত শিক্ষকের স্ত্রীর
Subal Soren Death: শুক্রবার সকালে কলকাতার আর এন টেগোর হাসপাতালে মৃত্যু হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা সেই সুবল সোরেনের।

অমিত জানা, বিশ্বজিৎ দাস ও অনির্বাণ বিশ্বাস, মোহনপুর ও কলকাতা : যোগ্য শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও চাকরি চলে যাওয়ায় ডিপ্রেসনে ভুগছিলেন। সেটাই স্বামীর মৃত্যুর কারণ বলে ফের দাবি করলেন মৃত শিক্ষক সুবল সোরেনের স্ত্রী। 'কেন এত কষ্ট দিলেন? ২ বছরের বাচ্চাকে নিয়ে কোথায় যাব ?' মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন চাকরিহারা মৃত শিক্ষকের স্ত্রীর।
তিনি ছিলেন প়়ড়ুয়াদের প্রিয় শিক্ষক। তিনি ছিলেন চাকরিহারা শিক্ষকদের আন্দোলনের অন্য়তম মুখ। শুক্রবার সকালে কলকাতার আর এন টেগোর হাসপাতালে মৃত্যু হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা সেই সুবল সোরেনের। পরিবারের দাবি, তীব্র মানসিক চাপ ও ডিপ্রসনে থাকার ফলেই মৃত্যু হয়েছে চাকরিহারা 'যোগ্য' শিক্ষকের।
মৃত চাকরিহারা শিক্ষকের স্ত্রী সন্ধ্যা সরেন বলেন, "চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকে প্রচুর অসুস্থ ছিল। চাকরি চলে গিয়েছিল, অনেক কষ্ট। চাকরি চলে যাওয়ার জন্য এরকম অবস্থা হয়ে গেছে আমাদের। আমার স্বামী তো যোগ্য শিক্ষক ছিল। এরকম অবস্থায় ফেলে রেখে, মমতা মুখ্যমন্ত্রী কেন আমাকে এত কষ্ট দিল। আমার স্বামীকে কেন কেড়ে নিল?"
পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরের বৌলাসিনি বিবেকানন্দ উচ্চতর বিদ্যালয়ের একাদশ-দ্বাদশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন তিনি। পরিবার সূত্রে খবর, আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন মিলবে। তারপর কী হবে, এই তীব্র মানসিক চাপের মধ্যেই সোমবার স্ট্রোক হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরের সরকিসামাটের বাড়িতে এদিন শেষকৃত্য হয় বছর ৩৭-এর সুবল সোরেনে। এদিন মৃত শিক্ষকের বাড়িতে আসেন তাঁর সহশিক্ষকরা। স্ত্রীর হাতে তুলে দেন আর্থিক সাহায্য।
মৃত চাকরিহারা শিক্ষকের সহকর্মী অমরকুমার দোলই বলেন, "শেষের দিকে যেটুকু তাঁর সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারতাম, খুব মানসিক চাপে ছিলেন। মানসিক চাপ বলতে, চাকরি তো ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে, তারপর কী হবে?"
মৃত চাকরিহারা শিক্ষকের অপর এক সহকর্মী সুভাশিস সুঁই বলেন, "ভীষণ চাপে ছিলেন, ওটাই মূলত। যে কী করে সিলেবাসটা শেষ করবেন, আর এদিকে কীভাবে পরীক্ষা হবে, বা পরীক্ষা হলে কী হবে না হবে, এনিয়ে ভীষণ চাপে...!"
এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, "শিক্ষকের মৃত্যু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ২৬ হাজারকে যেভাবে তাঁদের চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হল, এঁদের উপর যে মানসিক চাপ পড়বে, এ তো খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। এজন্যই তো মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন এটা হতে পারে না। আমি জানি না, ঠিক কেন কোন রোগ থেকে ওঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু, উনি একজন যোগ্য শিক্ষক ছিলেন বলেই শুনেছি। এরজন্য দায়ী হচ্ছে যাঁরা পৈশাচিকভাবে চাকরি চাকরি খাব, সকলের চাকরি খেতে হবে বলে যাঁরা কোর্টে গেছেন। তাঁরা দায়ী।"
স্ট্রোক হওয়ার পর সুবল সোরেনকে মুকুন্দপুরের আর এন টেগোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।শুক্রবার সকালে মারা যান তিনি। পুলিশের বিরুদ্ধে কাউকে কিছু না জানিয়ে শববাহী গাড়ি নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পরে দেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয় চাকরিহারা শিক্ষকের পরিবার। শুক্রবার রাতে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছয় দেহ। তারপর হল শেষকৃত্য।





















