SSC Exam: পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে ভেঙে পড়লেন, '২০১৬- র প্যানেলে র্যাঙ্ক ছিল ১', দাবি তরুণীর
SSC Exam 2025: নির্বিঘ্নেই মিটেছে এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগের নবম-দশমের পরীক্ষা। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে অনেকেই বলছেন প্রশ্নপত্র সহজ ছিল। তাঁরা কমিশনের উপর ভরসা রাখছেন। তবে ভেঙে পড়েছেন অনেকেই।

অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : ২০১৬ সালে পরীক্ষা দিয়েছিলেন এক তরুণী। তাঁর দাবি, সেই সময় তাঁর র্যাঙ্ক হয়েছিল ১। কিন্তু আজ তিনি চাকরিহারা। ২০১৬- র প্যানেল বাতিল হওয়ায় তাঁর নামও জুড়েছে 'যোগ্য চাকরিহারাদের' তালিকায়। আজ আবারও পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে ভেঙে পড়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন একজন। তিনিই ধরে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন তরুণীকে। তবে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়েও নিশ্চিন্ত হতে পারেননি তরুণী। তাঁর চোখে জল, মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। বারবার প্রশ্ন তুলছেন, এভাবে পরীক্ষা দিয়ে কী লাভ? পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে তাঁর বিষয় গণিতে তাঁর র্যাঙ্ক ছিল ১। অথচ আজ তাঁকে আবার পরীক্ষা দিতে হল ভবিষ্যতের অনিশ্চিয়তার কথা ভেবে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।
নির্বিঘ্নেই মিটেছে এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগের নবম-দশমের পরীক্ষা। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে অনেকেই বলছেন প্রশ্নপত্র ভাল ছিল, সহজ ছিল। তাঁরা স্বচ্ছ নিয়োগের জন্য কমিশনের উপর ভরসা রাখছেন। তবে ভেঙে পড়েছেন অনেকেই। বিশেষ করে ২০২৬ সালে যাঁরা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যাঁদের নাম প্যানেলে ছিল, তাঁদের অনেকেই আর সেভাবে ভরসা রাখতে পারছেন না। ২০১৬ সালের পরীক্ষার ক্ষেত্রে ঠিক কী পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তার অনেকটাই এখন আমাদের জানা। আর ঠিক সেই কারণেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের উপর ভরসা রাখতে পারছেন না যোগ্য চাকরিহারাদের একাংশ।
তবে অনেকেই আবার বলছেন, 'ভরসা আছে। ওই ভরসাটুকুর ভিত্তিতেই তো পরীক্ষা দিতে এসেছেন।' ২০১৬ সালের পর, ২০২৫- ৯ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। আগামী ১৪ তারিখ একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষা নেবে এসএসসি কর্তৃপক্ষ। আজ এমন অনেকেই পরীক্ষা দিয়েছেন, যাঁরা ২০১৬ সালের প্যানেলে চাকরি পেয়েছিলেন। দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে চাকরি করছেন। স্কুলে পড়াচ্ছেন। অথচ আজ তাঁদের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। 'যোগ্য চাকরিহারা'-দের দলে নাম যুক্ত হয়েছে তাঁদের। প্রাথমিক ভাবে এই পরীক্ষা দিতে চাননি। তবে আদালতের নির্দেশ অনুসারে পরীক্ষায় বসতেই হয়েছে তাঁদের। কিন্তু ভরসা রাখতে পারছেন না। একে তো এতদিন পর কম সময়ে প্রস্তুতি নিয়ে নতুনদের সঙ্গে পরীক্ষায় বসা এক বিশাল প্রতিযোগিতা, সেই সঙ্গে রয়েছে এসএসসি- র 'পাহাড়-প্রমাণ' দুর্নীতি জেনে ফেলার বিষয়টিও, ফলে আবার যে দুর্নীতি হবে না, সেই বিশ্বাস রাখতে পারছেন না অনেকেই।
২০১৬ সালের প্যানেলে একটুর জন্য সুযোগ পাননি যাঁরা, তাঁরা অবশ্য এবারের পরীক্ষা দিয়ে আশাবাদী। কী হয় দেখতে চাইছেন তাঁরা। অন্যদিকে ২০১৬ সালে চাকরি পেয়ে, বর্তমানে হারিয়েছেন, এমন যোগ্য চাকরিহারাদের একাংশ ভুগছেন অনিশ্চয়তায়। এবার পরীক্ষা দিয়ে চাকরি আদৌ পাবেন তো? তাঁদের মনে সর্বক্ষণ ঘুরছে এই প্রশ্ন। যাঁরা এবার প্রথম পরীক্ষা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে থেকেও অনেকে বলছেন প্রশ্ন সহজ হয়েছে, আগে যাঁরা পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত নম্বর ধার্য করেছে কমিশন, তাই এগুলি তাঁদের ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে।
অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ও ক্ষমাপ্রার্থনা: উপরিউক্ত প্রতিবেদনে পরীক্ষার্থীকে অন্তঃসত্ত্বা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। প্রয়োজনীয় সংশোধন করে নেওয়া হয়েছে।






















