Supreme Court: ‘এত জীবন ধ্বংস করে এখন আবার ‘দাগি’দের হয়ে সওয়াল’? SSC মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসিত রাজ্য
SSC Case: বৃহস্পতিবার আদালতে SSC-র অন্য মামলা চলছিল।

কলকাতা: স্কুল সার্ভিস কমিশনের একটি মামলায় ফের রাজ্যের বিরুদ্ধে কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করলেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয়কুমার। কলকাতা হাইকোর্টে 'দাগি' প্রার্থীদের হয়ে সওয়াল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি। OMR-এ কারচুপি করে চাকরিপ্রার্থীদের জীবন নষ্ট করে দেওয়ার পর, এখন 'দাগি' প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কেন প্রশ্ন তুললেন তিনি। (Supreme Court)
বৃহস্পতিবার আদালতে SSC-র অন্য মামলা চলছিল। সেখানেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি সঞ্জয়কুমার। সেখানে একাধিক আবেদনের শুনানি চলছিল। আগামী ৭ ও ১৪ তারিখ যে পরীক্ষা হতে চলেছে,সেখানে বয়সের ছাড়পত্র, প্রতিবন্ধীদের নম্বর এবং পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো সংক্রান্ত একাধিক আবেদন নিয়ে আলোচনা চলছিল। (SSC Case)
সেই শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই-নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ থেকে বিচারপতি সঞ্জয়কুমার বলেন, "যে রায় দেওয়া হয়েছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে গিয়েছে রাজ্য সরকার। সেখানে 'দাগি'দের হয়ে সওয়াল করছেন অ্যাডভোকেট জেনারেল। বুঝতেই পারছেন 'দাগি'রা কী ধরনের ব্লু আয়েড বয়! যাঁদের জন্য অ্যাডভোকেট জেনারেল হাইকোর্টে যাচ্ছেন, বলছেন, 'দাগি'দের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হোক। কতটা সৌভাগ্যবান 'দাগি'রা যে তাঁদের হয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেল বলছেন, সুপ্রিম কোর্ট এমন রায় দেয়নি যে 'দাগি'রা পরীক্ষা বসতে পারবেন না।"
CBI তদন্ত নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলে আদালত। আদালত জানতে চায়, CBI তদন্ত যে চলছিল, তার কী হল? উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে যে তদন্তের কথা ছিল, তা কতদূর এগিয়েছে? এতে এক আইনজীবী জানতে চান, সুপার নিউমেরারি পোস্ট নিয়ে কি? জবাবে আদালত জানায়, সুপার নিউমেরারি আলাদা জিনিস। উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে তদন্তের কথা ছিল গোয়েন্দাদের।
এর পর বিচারপতি সঞ্জয়কুমার আরও বলেন, "হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর জীবন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। OMR শিটে কারচুপি করে জীবন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে অনেকের। এখন আবার 'দাগি' প্রার্থীদের সুযোগ দিচ্ছেন? এই ধরনের কাজ হচ্ছে তার পরও!" যদিও SSC-র আইনজীবী বলেন, "আপনাদের নির্দেশের পর পুরো তালিকা পরিষ্কার করা হয়েছে। সব 'দাগি'র নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।" কিন্তু 'দাগি'দের হয়ে আদালতে সওয়াল করল কী করে, তা নিয়ে আজ কড়া পর্যবেক্ষণ ছিল আদালতের।
তবে এদিনই কলকাতায় দাঁড়িয়ে নিয়োগ জটিলতা নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "২১ হাজার শূন্যপদ রয়েছে। মামলার কারণে সব থমকে। কেউ কেউ গিয়ে মামলা করে দেয়। অনেক শিক্ষকের চাকরি চলে গিয়েছে। আইনি জটিলতায় বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে নিয়োগ। আদালতে গিয়ে বাধা দিচ্ছে অনেকে।"






















