Tangra News Update: "ওঁরা প্রচণ্ড কেয়ারিং... একটাই মেয়ে'' সন্তান-নাতনিকে হারিয়ে শোকে পাথর রোমির পরিবার
Kolkata News: দে বাড়ির ছোট ছেলে প্রসূনের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল বেহালার শীলপাড়ার বাসিন্দা, রোমির। তাঁদের মেয়ে প্রিয়ম্বদার আগামী বছর মাধ্য়মিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।

কলকাতা: সোমবার পর্যন্তও সবকিছু ঠিক ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার মেয়ে, জামাই, পরিবারের কেউ ফোন না ধরায় চিন্তা শুরু হয়, ট্য়াংরাকাণ্ডে (Tangra News Update) নিহত রোমি দে'র মা-বাবার। বুধবার ট্য়াংরার বাড়িতে গিয়ে দেখেন সব শেষ। নির্মমভাবে মৃত্য়ু হয়েছে তাঁদের মেয়ে, নাতনির। কিন্তু শুধুমাত্র আর্থিক দেনার জেরেই এই ঘটনা, মানতে নারাজ রোমির পরিবার।
শোকে পাথর রোমির পরিবার: দে বাড়ির ছোট ছেলে প্রসূনের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল বেহালার শীলপাড়ার বাসিন্দা, রোমির। তাঁদের মেয়ে প্রিয়ম্বদার আগামী বছর মাধ্য়মিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। মেয়ে-জামাইয়ের পরিবারে কোনওদিনও অশান্তির আঁচ পাননি রোমির মা-বাবা। পরিবার সূত্রে দাবি, সোমবার পর্যন্তও সবকিছু ঠিক ছিল। মঙ্গলবার রাতে ফোন করে কাউকে না পাওয়ায় সন্দেহ হয়। এরপর, বুধবার সকালে ট্য়াংরায় গিয়ে দেখেন, পুলিশে ছয়লাপ গোটা বাড়ি। ভয়াবহভাবে ৩ জনের মৃত্য়ু হয়েছে।
নিহত রোমি দে'র মা জানান, সোমবারই শেষ কথা বলেছি রাত্রিবেলায়। রাত্তিরে ওই নাতনির পড়া হয়, শেষ হয়। তারপর ওই নাতনি মেয়ে আর আমি...পরীক্ষা চলছে নাতনির। কথা হয়েছে, বলল, ঘুমিয়ে পড়ো। এই আমিও বললাম তোরাও ঘুমিয়ে পড়। নাতনির পরীক্ষা...কাল তো নেই পরীক্ষা। এই কথা হয়েছে। আর তারপর, মঙ্গলবার দিন ফোন করছি...সব ফোন বন্ধ। কোনওদিন না। ওঁরা প্রচণ্ড কেয়ারিং। আমরা দু'জনে, ওর আর আমার একটাই মেয়ে। আমার জামাই, জামাইয়ের দাদা আর মেয়ের জা, ওঁরা ছ'জন হচ্ছে একাত্মা একপ্রাণ। আমাদের দু'জনকে ওঁরা খুব ভালোবাসে। কারণ, বড় জায়ের বাবা-মা কেউ নেই। জানতে তো পারিনি। তারপরে যখন ও বলছে একবার, চলে যাব চলে যাব করছে খালি, ওদের বাড়ি। তখন আমি বললাম, দাঁড়াও পরের দিন প্রিয়ার পরীক্ষা আছে, বায়োলজি পরীক্ষা আছে। রোমি ঠিক গাড়িতে উঠে ফোন করবে। ফোন তো দূরের কথা, আমি শুধু ড্রাইভারকে ফোন করার চেষ্টা করছি, পাচ্ছি না। তারপরে ওঁর বাবা চলে গেছে। তারপর তো এই ঘটনা।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রোমি, তাঁর জা সুদেষ্ণা এবং রোমি ও প্রসূনের মেয়ে প্রিয়ম্বদাকে খুন করা হয়েছে। দুই মহিলাকে হাতের শিরা ও নলি কেটে এবং মেয়েটিকে বিষ দিয়ে মারা হয়। তার মানে কি বিপুল দেনার জেরেই নিজেদের শেষ করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় এই পরিবার? তিনজনকে খুনের পর দুই ভাই, একমাত্র ছেলেকে গাড়িতে নিয়ে আত্মহত্য়ার জন্য় বেরিয়ে পড়েন? এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।
মৃত রোমি দে'র বাবার প্রতিবেশী, "খুব ভালো মানুষ, ভীষণ ভালো পরিবার। এ হতেই পারে না। কেন ঘটেছে, সেটাও বলতে পারছি না। ওরা কোনও অভিযোগও করতে চাইছে না। আমি গেছিলাম। আমাকে এই কথাগুলোই বলেছে। আগেরদিনও আমাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। মাংস রান্না করে রেখেছি। আসবে, নিয়ে যাবে। জামাই আসবে, নিয়ে যাবে। রোমির স্বামী। করোনার সময় একমাস থেকেছি। এত ভালো পরিবার, সবার সঙ্গে এত ভালো সম্পর্ক। পরশুদিন ফোন করে বোধহয় লাইন পাচ্ছিল না, কালকে সকালে গেছে, গিয়ে দেখছে এইরকম।'' রোমি দে-র বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই খুনের মামলা রুজু করেছে ট্যাংরা থানার পুলিশ।
আরও পড়ুন: Tangra News Update: ট্যাংরায় ৩ জনকেই খুন করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ





















