TMC News: দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূলের আর এক নেতা, বললেন, ‘দলটা সাইনবোর্ড হয়ে যাবে’
Biswajit Deb: তৃণমূল ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন বিশ্বজিৎ দেব। পরাজয়ের জন্য কাঠগড়ায় তুললেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে।

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল। সেই আবহেই অস্বস্তি বাড়িয়ে ভরাডুবির জন্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে কাঠগড়ায় তুললেন দলের নেতা বিশ্বজিৎ দেব। গত পাঁচ বছরে যে লাগামছাড়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে, তা মমতা এবং অভিষেকের নজরে পড়েনি বলে মনে করছেন না তিনি। বিশ্বজিৎ তৃণমূল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, আর কিছু দিনের মধ্যেই তৃণমূল একেবারে খান খান হয়ে যাবে। (Biswajit Deb)
এবিপি আনন্দকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দলনেত্রী এবং দলের সেনাপতিকে একসঙ্গে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিশ্বজিৎ। দলের ভরাডুবির কারণ ব্যাখ্য়া করতে গিয়ে কোনও রাখঢাক করেননি তিনি। শুধু সমালোচনাই নয়, গুরুতর অভিযোগও তুললেন। দলীয় কর্মী তো বটেই, বিধায়ক এবং সাংসদদের সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, মাঝখানে আইপ্যাক দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেও মন্তব্য করলেন তিনি। (TMC News)
প্রশ্ন: আপনার দলের এই নিদারুণ পরাজয়ের মূল কারণ কী?
বিশ্বজিৎ: সবচেয়ে বড় কারণ আমি যেটা বলব, সেটা হল লাগামছাড়া দুর্নীতি, যেটা গত পাঁচ বছর ধরে হয়ে আসছে। আমি মনে করি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজর ছাড়া এই দুর্নীতি হতে পারে না।
প্রশ্ন: শীর্ষ নেতৃত্ব বলতে আপনাদের তো দু'জন?
বিশ্বজিৎ: মমতাদি এবং অভিষেক। এদের নজর ছাড়া, এদের জ্ঞানের বাইরে, এদের অজান্তে এই ধরনের দুর্নীতি চলতে পারে না। দেখুন দু'টো গোষ্ঠী হয়ে গিয়েছিল, একটা মমতাদিকে ঘিরে, অন্যটি অভিষেককে ঘিরে। এই গোষ্ঠীর বাইরে তৃণমূলের যারা সাধারণ কর্মী, নেতা, এমনকি বিধায়ক-সাংসদরাও তাঁদের কাছে ঘেঁষতে পারতেন না। কিছু বলতে হলে আইপ্যাকের মাধ্যমে বলতে হতো। একটি রাজনৈতিক দলের থেকে এটা আশা করা যায় না। একটি রাজনৈতিক দল...অথচ বাণিজ্যিক কোনও সংস্থার মাধ্যমে, কর্পোরেট টিমের মাধ্যমে ডিল করতে হবে, কর্মীদের ওই সংস্থার সঙ্গে ডিল করতে হবে, নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে না, এটা হতে পারে না।
আরও পড়ুন: এবার পদ ছাড়লেন তৃণমূলের বড় নেতা, চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, লিখলেন, ‘মন সায় দিচ্ছে না’
প্রশ্ন: আপনি বলছেন লাগামছাড়া, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, মমতা-অভিষেকের জ্ঞানত হয়েছে?
বিশ্বজিৎ: এটা হতে পারে যে তারা জানত না। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় কিছু জানত না, আর একটার পর একটা দফতরে দুর্নীতি হয়ে গিয়েছে লাগাতার, এটা কখনও হতে পারে? এটা বিশ্বাসযোগ্য? দুর্নীতি, কর্মীদের বঞ্চনার ব্যাপারে আমি যখনই বলতে চেয়েছি, বলতে দেওয়া হয়নি। মাঝখানে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে আইপ্যাক। সেই কারণে আমি গত তিন বছর ধরে দেখবেন দল থেকে বিচ্ছিন্ন।
প্রশ্ন: এই বিপর্যয়ের দায় কার?
বিশ্বজিৎ: এই বিপর্য়ের দায় নিশ্চয়ই মমতাদির এবং নিশ্চয়ই অভিষেকের। কারণ তাদের দু'জনের উপর দলটা চলত। তাদের দু'জনের বাইরে দল ছিল না। মাঝখানে ছিল আইপ্যাক। আর আজ দলের এই সর্বনাশের মূল হচ্ছে আইপ্যাক। আর এই আইপ্যাকের মাধ্যমেই…আইপ্যাক টাকা তুলত। কর্মীদের থেকে। যারা বলত, মনোনয়ন দেওয়ার দরকার আছে, বলত, 'বায়োডেটা দাও, টাকা দাও।'
আরও পড়ুন: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের, গুজরাতিদের অপমান করার অভিযোগ
প্রশ্ন: এই অভিযোগ প্রায়শই উঠছে। কিন্তু টাকা যেত কার কাছে?
বিশ্বজিৎ: টাকা যেত কোথায়, কেউ বলতে পারবে না। কিন্তু টাকা চাইত, এটা ফ্যাক্ট। টাকা নিয়ে কী করবে, তারা জানত।
প্রশ্ন: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই মুখ খুলছেন। আপনি কী বলবেন?
বিশ্বজিৎ: বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ উঠছে, কর্মীরা মার খাচ্ছে, কর্মীরা ঘরছাড়া। উনি তো সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক! কেন রাস্তায় নেমে কর্মীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না? কেন? বলতে হবে কেন দাঁড়াচ্ছেন না। কারণ হচ্ছে ওঁর মেরুদণ্ডটা ভেঙে গিয়েছে। মানুষের যখন মরাল ব্রেকডাউন হয়ে যায়, এই অবস্থা হয়। এত বড় একটা ঘটনা আর জি করে ঘটল। মানুষ জনপ্লাবন সরকারের বিরুদ্ধে। তখনই তো সরকারের উচিত ছিল, মমতাদির উচিত ছিল দেওয়াললিখন পড়া, শাসকের আইন কায়েম করা! উচিত ছিল দোষীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। তাহলে মানুষ বুঝত। রাস্তায় নির্বাচনী সভায় বলছেন, একটা কমিউনিটি এক মিনিটে উড়িয়ে দেবে। যে কমিউনিটির হয়ে এই কথা বলছেন, তারাও কিন্তু ভাল ভাবে নেয়নি কথাটা।
প্রশ্ন: দল তো বালির বাঁধের মতো ভেঙে পড়ছে। দল অটুট থাকবে আগামী দিনে?
বিশ্বজিৎ: প্রশ্নই নেই। প্রশ্নই নেই কোনও। টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। আমার যা ধারণা, কিছু চলে যাবে কংগ্রেসে, কিছু লোক যাবে বিজেপি-তে, কিছু সিপিএম-এ। সাইন বোর্ড হয়ে থাকবে। আমরা আগে বলতাম না, কংগ্রেস সাইন বোর্ড হয়ে গিয়েছে, সিপিএম হয়ে গিয়েছে! তৃণমূলটাও সাইনবোর্ড হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: ভেঙে টুকরো হয়ে যাবে?
বিশ্বজিৎ: একদম খান খান হয়ে যাবে। খুব শীঘ্রই দেখবেন। হয়েই তো গিয়েছে। বাকিটা সময়ের অপেক্ষা। জাস্ট সময়ের অপেক্ষা।






















