TMC News: তিনিও কি ‘নতুন’ তৃণমূলে? না কি মমতার পাশে থাকবেন? মুখ খুললেন তারকা সাংসদ দেব
TMC MP Dev on Mamata Banerjee: তৃণমূলে মুষলপর্ব। তারকা সাংসদ দেব ওরফে দীপক অধিকারী কোন পথে? নিজেই জানালেন।

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের পর এক মাস কাটার আগেই ভেঙে খান খান তৃণমূল। বিধানসভায় পরিষদীয় দল যেমন চুরমার হয়ে গিয়েছে, তেমনই দিল্লিতে সাংসদরাও বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য, তারকা সাংসদ দেবও বিদ্রোহের পথে কি না, সেই নিয়ে গতকাল থেকে নানা জল্পনা-কল্পনা চলেছে। এবার নিজেই সেই নিয়ে মুখ খুললেন দেব। (TMC MP Dev on Mamata Banerjee)
মঙ্গলবার মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন দেব। সেখানে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানান। দেব জানান, তিনি এই ধরনের রাজনীতি কখনও করেননি। বরং মানুষকে এক রাখার, মানুষকে ভালবাসার রাজনীতি করেছেন। কিন্তু দিল্লিতে যে সাংসদরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন, তাঁদের কেন এক রাখতে পারলেন না, তিনিও কি বিদ্রোহের পথে এগোচ্ছেন, প্রশ্ন তোলা হয়। (TMC News)
আরও পড়ুন: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কি হবে? প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে দেব বললেন, 'শুভেন্দুদা বলেছেন...'
একেবারে খোলামেলাই জবাব দেন দেব। বলেন, "মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের জন্য আমার ভালবাসা সারাজীবন থাকবে। নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁছে আছেন, সঙ্গে আছি। ভবিষ্যতে কী হবে, আমি এখন কিছু বলতে চাই না। আমি যদি দিল্লি গিয়ে থাকে, আজ যে এখানে উপস্থিত রয়েছি, তা তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে। ঘাটালের যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা একটা বিশ্বাস থেকে ভোট দিয়েছেন যে, এই লোকটা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আমি সেই স্বপ্ন নিয়ে শুভেন্দুদার কাছে এসেছি, যিনি এখন মুখ্যমন্ত্রী। ল অফ দ্য ল্যান্ড মানতে হবে আমাদের। চেয়ারের সম্মান রয়েছে। আমি এটা অবিশ্বাস করতে পারব না যে শুভেন্দু অধিকারী আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন। আমাকে তো মানতে হবে! আমাকে কেন, আমাদের সবাইকে মানতে হবে। আমার কাজটা কী? রাজ্যে এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকার। তাদের হাত ধরে আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা পূরণের দায়িত্ব আমারই। আমার পুরো বিশ্বাস..রাজ্যের এই সরকার, শুভেন্দুদা এবং কেন্দ্রীয় সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে যে উদ্যোগী হয়েছে, আমরা যে টার্ম সেট করেছিলাম, ২০২৯ সালের আগেই তা শেষ হোক।"
দেবকে অত্যন্ত স্নেহ করেন মমতা। 'দিদির ভাই' হিসেবেও অভিহিত করা হয় তাঁকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেবও কি বিদ্রোহের পথে? তারাক সাংসদের স্পষ্ট জবাব, "যত দিন দিদি আছেন, আমি দিদির।" গতকাল সারাদিন শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকলেও, মমতার সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানান দেব। তিনি বলেন, "আপনারা যে রাজনীতি দেখছেন, যে রাজনীতি হয়ে থাকে, আমি কখনও সেই রাজনীতি করিনি। আমার রাজনীতি হচ্ছে মানুষকে এক রাখা, মানুষকে ভাল রাখা, আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করা। আমি তো তাই করছি! এটা তো অন্যায় নয়!"
আরও পড়ুন: নির্বিচারে গুলি পাকিস্তানি সেনার, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নিহত ৩০, আহত কমপক্ষে ২০০, ভয়ঙ্কর ঘটনা
দলের অন্য বিদ্রোহী সাংসদরা এই মুহূর্তে মুক্তির কথা বলছেন। দলের অন্দরে এতদিন কথা বলার জায়গা ছিল না বলে অনুযোগও করছেন কেউ কেউ। যদিও দেবের বক্তব্য, "সব প্রশ্ন যেমন এক হতে পারে না, তেমনই উত্তরও এক হতে পারে না। আমি কখনও বলতে পারব না যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কথা শোনেননি। বরং আমি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে যে দাবি রেখেছিলাম, তিনি রেখেছেন। স্বাধীনতার পর, ১৯৫৯ সালের পর, ২০২৪-'২৫ সালে গিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। যে মহিলা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আমার এত কথা শোনেন, কেন এটা বলতে যাব?"
জুন মালিয়ার প্রসঙ্গে দেব বলেন, "জুনদি বা কে কী বলছে, আমি সেই সুরে কথা বলতে পারব না। আমি দিদিকে ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি। চাই উনি সুস্থ থাকুন। কিন্তু আমার এটা ইচ্ছে যে, ঘাটালের মানুষকে আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে ২০২৯ সাল পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হবে আমাকে। সেই লড়াইয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হাত তো ধরতেই হবে আমাকে! প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ করতে হবে। আমি তা-ই করছি।"
রাজ্যের নতুন সরকারের কাজকর্ম কেমন চলছে, কী মনে হচ্ছে, তাও জানতে চাওয়া হয় দেবের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, "যে কোনও নতুন সরকারকে সময় দেওয়া উচিত। একদিনে সিদ্ধান্ত, কাজ এবং ফলাফলের মধ্য়ে পার্থক্য আছে। শুভেন্দুদা আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। যখন তৃণমূলে ছিলেন একই হেলিকপ্টারে চেপে উত্তরবঙ্গে ঘুরতাম, প্রচারে যেতাম আমরা। ওঁর ভাইয়ের প্রচারে যেতাম। আমি এমন একজন মানুষ, যাঁর সঙ্গে একবার সম্পর্ক থাকে, থেকেই যায়। আমার স্বার্থপরতার ব্যাপার নেই। গর্বের ব্যাপার যে আমি একটা মানুষকে চিনতাম, যিনি মেদিনীপুরের ছেলে, তৃণমূলস্তরের লড়াকু ছেলে। দিদি যেমন লড়াই করে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন, শুভেন্দুদার গল্পও তেমন।"
Before You Go
Baruipur Incident : বারুইপুরকাণ্ডে গ্রেফতার আনন্দ সরদার, গ্রেফতারি বেড়ে ৩























