'আমরা পুজোয় থিমের বিরোধী নই', বিতর্কের মুখে এবার সুর নরম বিশ্ব হিন্দু পরিষদেরও? এখন তারা বলছে ...

ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, দীপক ঘোষ, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে এসে দুর্গাপুজোয় প্য়ান্ডেলের পাশে আমিষ বিক্রি বন্ধের দাবি তুলেছেন মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। এর আগে শোরগোল ফেলেছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পুজো সংক্রান্ত বার্তা। থিম থেকে মাতৃপ্রতিমা, দুর্গাপুজো নিয়ে সম্প্রতি একের পর এক বার্তা দিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। যা ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। উঠেছে নানা প্রশ্নও। এখন আবার শিরোনামে বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর বাঙালির খাওয়া-দাওয়া নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য। পুজোর সময় আমিষভোজী বাঙালিকে 'ধার্মিক নয়, পাখণ্ডী ' বলায় গর্জে উঠেছে বাঙালি। বিতর্কের আবহে শেষ পর্যন্ত সম্ভবত কিছুটা সুর নরম করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর দাবি, “প্যান্ডেলের পিছনে নোংরা নোংরা, অপবিত্র খাবার তৈরি করা হয়। আমার এটা একেবারেই পছন্দ নয়। আমি চাই, এবারের নবদুর্গা উৎসবে কলকাতার প্রত্যেক হিন্দু জেগে উঠুক এবং এই ধরনের মানুষকে বহিষ্কার করুক।” দুর্গাপুজোয় বাঙালি কোথায় কী খাবেন, তা নিয়ে মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে সমালোচনা।
কয়েকদিন আগে দুর্গাপুজোর থিম নিয়েও বার্তা দিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। থিমের নামে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত না করার আবেদন জানিয়েছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মার্গদর্শক মণ্ডলীর সদস্য স্বামী নির্গুণানন্দ। তিনি বলেছিলেন, “ থিম বলে, লোক আকর্ষণের নামে, আমার ধর্মকে, আমার সংস্কৃতি বিকৃত করবেন না। এটা আবেদন। ”
বাঙালির দুর্গাপুজো মানেই সাবেকিয়ানার পাশাপাশি থিমের টক্কর। শিল্পের সঙ্গে আধুনিকতার মিশেল। আর সেই থিম দেখতেই পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়ে ভিড়। কিন্তু এবার সেই থিম নিয়েই কার্যত হুঁশিয়ারির সুর শোনা গিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অন্দরে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্বামী নির্গুণানন্দ বলেছিলেন, “ বাংলাকে বাংলার মতো পুজো করতে দিন। এতে থিম বলে, লোক আকর্ষণের নামে, আমার ধর্মকে, আমার সংস্কৃতি বিকৃত করবেন না। এটা আবেদন। যদি হয়, তাহলে সত্যি আমরা বন্ধ করে... মূর্তির মধ্যে যে মাতৃত্ব, তাকে বজায় রেখে আপনারা মূর্তি গড়বেন, পুজো করবেন।”
এই নিয়ে কার্যত বিতর্ক চরমে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাঙালিরা এই রকমের বার্তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অর্থাৎ বাঙালি কীভাবে দুর্গাপুজো করবেন, পুজোয় কী ধরনের থিম হবে, এমনকী কোথায় কী খাবেন, কেন তা ঠিক করে দেবে কোনও সংস্থা?
বিতর্ক তীব্র হওয়ার পর এবার কি অবস্থান কিছুটা স্পষ্ট করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ? এখন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রাজ্য মুখপাত্র বলছেন,
“ আমরা থিমের কোনও বিরোধী নই। আমরা কোনও ফতোয়াও দিইনি। আমরা চেয়েছি, থিমটা এরকম হওয়া উচিত, আমাদের প্রস্তাব সেটা যেন অশাস্ত্রীয় না হয়। ”
হাতে আর মাত্র এক মাস। তারপরই ঢাকে কাঠি পড়বে। শারদোৎসবে মেতে উঠবেন আপামর বাঙালি। কিন্তু পুজোর আগেই একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।
Before You Go
Suvendu Adhikari: "মোদিজির কথায় ডবল ইঞ্জিন মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ট্রিপল ইঞ্জিন", কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?






















