West Bengal BJP : 'মমতা-সরকারকে উৎখাত করতে' সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি, শাহের নেতৃত্বে 'বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজি' নিয়ে কাজ
Assembly Election in West Bengal: ২৯৪ আসন-বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়, ২০২১ সালে তৃণমূল ২১৬টি আসনে জয়লাভ করেছিল। ২০১৬ সালের তুলনায় যা ছিল ৫টি আসন বেশি।

নয়াদিল্লি : ক্ষমতা বেড়েছে, কিন্তু ক্ষমতালাভ হয়নি। তাই, এবার লক্ষ্য স্থির। বাংলা-জয়। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এবার সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চলেছে বিজেপি। যার নেতৃত্বে দলের মূল কৌশলী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সরাসরি নির্দেশেই বুথ স্তর থেকে কেন্দ্রীয় স্তরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে জোর বেগ দিয়েছিল বিজেপি। ৩ থেকে আসন সংখ্যা বেড়ে হয় ৭৭। রাজ্যে অবশ্য ক্ষমতা-দখলের আশা করেছিল বিজেপি। সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মূল বিরোধী শিবির হিসাবে উত্থান হয়েছিল তাদের। তাই দল এবার আত্মবিশ্বাসী যে, তৃণমূল স্তরে প্রস্তুতি, SIR-এর সুফল এবং 'তৃণমূলের অভ্যন্তরে ফাটল', মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ১৫ বছরের সরকারের পতন ঘটাবে। এমনই বক্তব্য বিজেপির একাধিক নেতার।
গত ৩০ ডিসেম্বর শাহও জোর দিয়ে বলে গেছেন, 'আসন্ন নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে উৎখাত করবে বিজেপি।' বিধানসভা নির্বাচনের সুর বেঁধে দিয়ে তিনি রাজ্যের শাসক শিবিরকে আগাগোড়া নিশানা করেছেন। দুর্নীতি, অপশাসন ও অনুপ্রবেশের মতো ইস্যুগুলি তুলে ধরেছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লাভের জন্য বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করে রাজ্যের জনসংখ্যার "বিপজ্জনক পরিবর্তন"-এর অভিযোগও করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি একটি শক্তিশালী "জাতীয় নিরাপত্তা গ্রিড" তৈরি করবে যা ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেবে।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপির সূত্র সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতা-বৃদ্ধির জন্য তৃণমূল স্তরে অনেক কাজ করেছে দল। সেই প্রচেষ্টা এখনও জারি আছে। শাহ ইতিমধ্যেই এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, বিজেপি এবার পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ, মহিলাদের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক হিংসা ও দুর্নীতি ইস্যু নিয়ে লড়াই করবে। এক বিজেপি নেতা সংবাদ সংস্থাকে বলেন, "বাংলায় এবার জিততে চেষ্টার কোনও খামতি রাখছে না দল। সাফল্য পাওয়ার জন্য আমরা বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কাজ করছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ব্যক্তিগতভাবে সমস্ত প্রচার এবং গ্রাউন্ড লেভেলে যেসব কাজ হচ্ছে তার দিকে নজর রাখছেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা ব্যানার্জি নিজে পাহাড়-প্রমাণ চাপের মুখে আছেন, কারণ হুমায়ুন কবীর নতুন দল শুরু করার পর তৃণমূল কংগ্রেসে ফাটল চওড়া হয়েছে। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎও রাজনৈতিক বৃত্তে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।" বিজেপি নেতারা বিশ্বাস করেন যে, মুসলিম ভোট বিভক্ত করে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী সম্ভাবনাকে "উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত" করবেন হুমায়ুন কবীর, কারণ তিনি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর দল আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
এই আবহে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য জোর গলায় দাবি করেছেন, পাঁচ বছর আগের তুলনায় এবার অন্তত একটা হলেও বেশি আসনে জিতবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-নেতৃত্বাধীন দল।
২৯৪ আসন-বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়, ২০২১ সালে তৃণমূল ২১৬টি আসনে জয়লাভ করেছিল। ২০১৬ সালের তুলনায় যা ছিল ৫টি আসন বেশি। বিজেপি জিতেছিল ৭৭টি কেন্দ্রে। শূন্যে নেমে আসে বামেরা ও কংগ্রেস।
প্রতিবেদনটির সূত্র : সংবাদসংস্থা PTI






















