এবার শিক্ষকতার প্রশিক্ষণের ডিগ্রিতেও উঠল দুর্নীতির অভিযোগ, পরীক্ষায় বই দেখে লেখার জন্যও ছিল রেটচার্ট
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের দাবি, টাকার বিনিময়ে প্রশ্নফাঁস থেকে শুরু করে পরীক্ষায় না বসেও ডিগ্রি পাওয়া বা পরীক্ষায় বই দেখে লেখার জন্যও ছিল রেটচার্ট।

কলকাতা: বেসরকারি BEd-এর কলেজের আড়ালেও কি চলছে ডিগ্রি বিক্রির চক্র? চলছে কোটি কোটি টাকার লেনদেন? সম্প্রতি উচ্চশিক্ষা দফতরের অনুসন্ধানের প্রাথমিক রিপোর্টে এমনই অভিযোগ উঠে এল। বাবাসাহেব অম্বেডকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলছেন, কোটি কোটি টাকার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের দাবি, টাকার বিনিময়ে প্রশ্নফাঁস থেকে শুরু করে পরীক্ষায় না বসেও ডিগ্রি পাওয়া বা পরীক্ষায় বই দেখে লেখার জন্যও ছিল রেটচার্ট।
তৃণমূল আমলে শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতির এই ছবি পশ্চিমবঙ্গবাসীর চোখ ছানাবড়া করে দিয়েছিল। উঠেছিল লক্ষ লক্ষ টাকায় চাকরি বিক্রির অভিযোগ। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ জেলে যেতে হয়েছিল সেইসময়ের কার্যত গোটা শিক্ষা দফতরকেই।
শিক্ষক নিয়োগের পর এবার পড়ুয়াদের শিক্ষকতার প্রশিক্ষণের ডিগ্রি নেওয়ার ক্ষেত্রেও উঠল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে, টাকা দিয়ে চাকরি কেনার মতোই এবার শিক্ষকতার প্রশিক্ষণের ডিগ্রি বিক্রির চক্রও কি গজিয়ে উঠেছে রাজ্যের বেসরকারি BEd কলেজগুলোর একাংশের মধ্যে?
ফেলো টাকা, নাও BEd ডিগ্রি?
উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে আমরা যখন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা যখন পর্যালোচনা শুরু করি, তখন এক ভয়াবহ অরাজকতা, অব্যবস্থা, দুর্নীতি এবং শিক্ষা ব্যবসার নিদর্শন আমরা প্রাথমিকভাবে পাই। ছোট্ট প্রতিবেশী রাজ্য, সেই রাজ্যের মুখ্যসচিব আমাদের মুখ্যসচিবকে চিঠি লিখে বলেন যে, আপনাদের রাজ্যের বিভিন্ন যে পেশাগত কলেজ অর্থাৎ B.Ed, ল, পলিটেকনিক, ITI, বিফার্ম, ডিফার্ম এই কলেজগুলিতে ডিগ্রি বিক্রির ব্যবস্থা হয়েছে।'
উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী যখন বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতির দিকে ইঙ্গিত করছেন, তখন সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পাশাপাশি, বাবাসাহেব অম্বেডকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দাবি, একেবারে ওপর থেকে নিচুস্তর পর্যন্ত এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত রয়েছে।
বাবাসাহেব অম্বেডকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অরুণাশিস্ গোস্বামী বলেন, 'আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত এই চক্রটা বিস্তৃত। কোটি কোটি টাকার একটা বিজনেস, নেক্সাস কাজ করে। সমাজের সমস্ত স্তরের, শ্রেণির লোকেরা এরসঙ্গে যুক্ত। এর সঙ্গে শিক্ষাবিদ যুক্ত, এর সঙ্গে অশিক্ষক কর্মীরা যুক্ত। এর সঙ্গে মালিকরা যুক্ত। এর সঙ্গে রাজনীতিবিদরা, জনপ্রতিনিধিরা, তাঁরাও যুক্ত বলে আমার ধারণা। আমি এমন কিছু কিছু জায়গাতেও পেয়েছি, যেখানে হয়তো তাঁর মালিক বকলমে জনপ্রতিনিধি।'
কীভাবে দুর্নীতি হয়, তার বিস্তারিত বিবরণ শোনা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক অধ্যাপকের গলায়। মৃণাল মুখোপাধ্যায় বলেন, 'একটা গভীর প্রাতিষ্ঠানিক এবং সিস্টেমেটিক দুর্নীতি। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়কে চালিয়েছে উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম একটা সুস্পষ্টভাবে দালালদের একটা কাঠামো। আমার ধারণা এটা কয়েক হাজার কোটি টাকার ওপরে। পরীক্ষা ব্যবস্থাটাকে বানচাল করে দেওয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন লিক করে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ আছে যারা না এসেই মার্কশিট পেয়ে গেছে বাড়িতে বসে। কেউ এসেছে, কিন্তু পরীক্ষা দেয়নি। তার জন্য আলাদা রকমের রেট। কেউ বসেছে, বই খুলেছে, তারজন্য আলাদা রকমের রেট।'
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে এই দুর্নীতির দায় কার, তা নিয়ে। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি আগেই সামনে এসেছে। এবার শিক্ষকতার প্রশিক্ষণের ডিগ্রিতেও উঠল দুর্নীতির অভিযোগ। এসবের মধ্যে প্রশ্ন একটাই, এসব শিক্ষকদের হাতে পড়ে সরকারি স্কুলের ছোট ছোট পড়ুয়াদের ভবিষ্যত কী হবে?
Before You Go
BJP News: BJP প্রার্থী হতে ড্রপ বক্সে প্রায় সাড়ে চার হাজার নাম, সুযোগ বুঝে ঢুকে পড়ছে তৃণমূলীরাও?























