GB Syndrome: হঠাৎই অসাড় হচ্ছে হাত-মুখ! আর কী কী উপসর্গ থাকছে? রাজ্যে ফের 'গিয়ান ব্যারে'র হানা
পরিবার সূত্রে খবর, দুর্গাপুজোর মাঝে ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয় সে। তারপর সেরে ওঠে। স্কুলের পরীক্ষাতেও বসেছিল। আচমকা অসাড় হতে শুরু করে দুই পা।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: রাজ্যে ফের 'গিয়ান ব্যারে'র হানা। GB সিনড্রোমে আক্রান্ত শিবপুরের বালক। ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথে চিকিৎসা চলছে ক্লাস সেভেনের ওই ছাত্রের।
মাস কয়েকের বিরতির পর, রাজ্যে ফের হদিশ মিলল স্নায়ুর বিরল রোগের। এবার GB সিনড্রোমে আক্রান্ত শিবপুরের ১১ বছরের এই বালক। পার্ক সার্কাসের ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথে ২ সপ্তাহের উপর ভেন্টিলেশনে রয়েছে সে।
পরিবার সূত্রে খবর, দুর্গাপুজোর মাঝে ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয় সে। তারপর সেরে ওঠে। স্কুলের পরীক্ষাতেও বসেছিল। আচমকা অসাড় হতে শুরু করে দুই পা। এরপরই ধরা পড়ে, ক্লাস সেভেনের এই ছাত্রের শরীরে হানা দিয়েছে 'গিয়ান ব্যারে'।
জানা যাচ্ছে, এই রোগে আক্রান্ত হলে অসাড় হয়ে যায় দুটি হাত, মুখ, শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। চলে যায় কথা বলার ক্ষমতা, খাবার ক্ষমতা। চিকিৎসকরা জানান যে ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইঞ্জেকশন কাজ করেনি। এখন একমাত্র চিকিৎসা শরীরের সমস্ত রক্তরস বদলে ফেলা। চিকিৎসকদের অনুমান, এই ছাত্রের ক্ষুদ্রান্তে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমনের পথ ধরে শরীরে হানা দিয়েছে GB সিনড্রোম। তিন দফায় বদলে ফেলা হবে শরীরের পুরো রক্ত রস।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মহারাষ্ট্রের পুণে এবং নাগপুরে শতাধিক শিশু আক্রান্ত হয়েছিল GB সিনড্রোমে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়। একই সময় আমাদের রাজ্যেও একাধিক GB সিনড্রোম আক্রান্ত শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর হদিশ মেলে। যার মধ্যে তিনজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের গিয়ান ব্যারে সিনড্রোমের হদিস মিলল একজনের শরীরে।
কিন্তু, কী এই 'গিয়ান ব্যারে' সিনড্রোম? যার আতঙ্ক ফের জাঁকিয়ে বসছে বাংলাতেও। চিকিৎসকরা বলছেন, GB সিনড্রোম আসলে 'অটোইমিউন ডিসঅর্ডার'। যা ক্রমশ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। রোগীর স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারেন রোগী। এই রোগে আক্রান্ত হলে পা বা কোমর অবশ হয়ে যায়। একে একে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অসাড় হয়ে পড়ে। চলে যায় কথা বলার শক্তি। দুর্বল হয়ে যায় স্নায়ু এবং ফুসফুসের পেশি। শ্বাস প্রশ্বাস নিতেও সমস্যা দেখা যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, যে কোনও বয়সেই এই রোগ হতে পারে। উপসর্গ থাকলে EMG এবং নার্ভ কনডাকশন টেস্টের মাধ্যমে ধরা পড়ে 'গিয়ান ব্যারে' সিনড্রোম।






















