TMC News: ‘ও দিদির কান ভারী করেছে, চ্যালেঞ্জ করছি...ন্যাড়া হয়ে সারা হুগলি ঘুরব’, টিকিট না পেয়ে রচনাকে বেনজির আক্রমণ অসিতের
Asit Mazumdar Attacks Rachna Banerjee: রবিবার চুঁচুড়ায় দেবাংশুর হয়ে প্রচারে বেরোন রচনা।

চুঁচুড়া: জেতা আসনে টিকিট না পেয়ে অসন্তোষ আড়াল করেননি। এবার সরাসরি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন চুঁচুড়ার তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার। রচনা গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কান ভাঙিয়েছেন,তাই দল তাঁকে টিকিট দেয়নি বলে দাবি অসিতের। শুধু তাই নয়, রচনার জন্য দেবাংশু ভট্টাচার্যের ভরাডুবি হতে পারে বলেও দাবি করলেন অসিত। (Asit Mazumdar Attacks Rachna Banerjee)
রবিবার চুঁচুড়ায় দেবাংশুর হয়ে প্রচারে বেরোন রচনা। আর সেই নিয়েই তারকা সাংসদকে একহাত নেন অসিত। তিনি বলেন, "কে রচনা? তিনদিনর যোগী। এদের মতো লোক দলে থাকলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে শেষ হয়ে যাবে দল। আমার টিকিট না পাওয়ার জন্য রচনার হাত রয়েছে। ও দিদির কান ভারী করেছে। আমরা আমরা নাচাকোদা লোক নই। লড়াই করা লোক। স্নো-পাউডার মেখে এক ঘণ্টা পর পর মুখ পরিষ্কার করি না। যারা মুখোশ পরে যায়, দিদির তাদের ভাল লাগে।" (Debangshu Bhattacharya)
রচনাকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন অসিত। বলেন, "আমি চ্যালেঞ্জ করছি। ওর দম থাকলে নির্দল হয়ে দাঁড়াক। সাংসদ থাকপক...আমিও দাঁড়াব। যদি ওর থেকে ১০ গুণ বেশি ভোট না পাই, ন্য়াড়া হয়ে সারা হুগলি জেলা ঘুরব। দম থাকলে দাঁড়াক। তিন দিনকার যোগী, ও সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, গড়বেতা, নানুর দেখেছে! ও কেন শহরাঞ্চলে ভোট পাচ্ছে না বলুন তো! আমাকে লোক ২১ হাজারে জেতায়, ওকে হারায় ৮ হাজারে। কারণ শহরাঞ্চলের মানুষ ওকে পছন্দ করে না।"
অসিতের সঙ্গে রচনার দ্বন্দ্বের খবর সামনে আসছিল বেশ কিছু দিন ধরেই। বিশেষ করে, কয়েক মাস আগে সাংসদ তহবিলের টাকায় বাণীমন্দির স্কুলে স্মার্ট ক্লাস করা নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও বাড়ে। সেখানে গিয়ে অসিত ঝামেলা পাকান, স্কুলের শিক্ষিকার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বও অসিতের প্রতি অসন্তুষ্ট হন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে রচনাকে 'বোন' বলে উল্লেখ করেন অসিত। কিন্তু তাতেও আর চিঁড়ে ভেজেনি বলে জানা যায়। আরও একাধিক বিষয়ে দল অসিতের উপর রুষ্ট হয় বলেও গুঞ্জন শোনা যায় সেই সময়।
এর পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে তৃণমূল, যাতে অসিতের পরিবর্তে দেবাংশুকে চুঁচুড়ার প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। যে আসনে তিন তিন বার জিতেছেন অসিত, সেই আসনে তাঁর পরিবর্তে অন্য কাউকে প্রার্থী করা হল কেন, সেই নিয়ে জল্পনা চরমে ওঠে। টিকিট না পেয়ে অসন্তোষ চেপে রাখেননি অসন্তোষও। বলেন, "দল মনে করেছে, আমার চাইতে দেবাংশুই ভাল হবে।" অসিত জানান, টিকিট দেওয়া হবে না বলে দল জানায়ওনি তাঁকে। আক্ষেপ মিশ্রিত সুরে বলেন, "আমার সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। কথা বলার প্রয়োজন আছে নাকি! যেখানে দিদিমণি, অভিষেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে...এরা দলের সর্বময় কর্তা। আমরা তো চুনোপুঁটি লোক! আমার সঙ্গে কেন কথা বলবে বলুন?" টিকিট না পাওয়ার জন্য এবার সরাসরি রচনাকে দায়ী করলেন অসিত। রচনা যদিও তাঁর দাবি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। অসিতের মন্তব্য 'হাস্যকর' বলে উড়িয়ে দেন তিনি।
পাল্টা রচনা বলেন ,এটা একটা হাস্যকর বিষয় এর কোন উত্তর আমার কাছে নেই। উনি যা ইচ্ছা বলতে পারেন। আমার এখন একটাই কাজ তৃণমূল প্রার্থীদের জেতাতে হবে। বোকা বোকা কথার কোন জায়গা নেই। উনি অনেক অভিজ্ঞ তাই ওনাকে বোকা বোকা কথা বলতে বারণ করুন। বিধায়কের কথার হাসা ছাড়া আমার কাছে কোন উত্তর নেই। ওনাকে নিয়ে আলোচনা করবেন না, উনি পাস্ট। সামনে যে আসছে তাকে নিয়ে ভাবুন।
তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, বিধায়ক যদি কিছু বলে থাকেন সেটা তার সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে মেটাবো । এটা আমাদের একটা রাজনৈতিক লড়াই লড়াইটা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইটা আর অন্য কিছুর বিরুদ্ধে নয়। বিজেপি পুরোটাই কার্বন ডাই অক্সাইড, পাবেনা অক্সিজেন।
সবটাই তাদের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে গন্ডগোল তৃণমূলকে আক্রমণ করে হুগলী সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিধায়ক বলছে চার লাখের টেন্ডার চোদ্দ লাখে হচ্ছে। এর থেকে প্রমাণ আর কিছু হতে পারে না । এবার মানুষ বুঝবে তারা কি দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে আনবে নাকি বিজেপি কে আনবে?
আমি চ্যালেঢঞ্জ করেছি, ওর দম থাকলে, নির্দল হ.ে দাঁডাক, সাংসদ থাকুক, আমর আমিও দাঁড়াব। যদি ওর ১০ গুণ বেশি ভোট না পাই, ন্যাডা় হয়ে সারা হুগলি জেলা ঘুরব। দম থাকলে দাঁঢ়াক। ও কে তিনদিনকার যোগী। ও সিঙ্গুর আন্দোলন নন্দীগ্রাম গডডবেতা নানুর দেখেছে! থাকলে হারবে, না থাকলে দেবাংশু জিতবে। দেবাংশুকে ও ভরাডুবি করবে । ও কেন ভোট পাচ্ছে না বলুন োত শহরাঞ্চলে! গ্রামে নেচেয়েগে ভোট হয়। শহরাঞ্চলে ওকে ভোচ দিচ্ছে না কেন! লোকে আমাকে ২১ হাজারে জেটায় ওকে ৮ হাজারে হারায় কেন! কারণ তার মানে শহরাঞ্চলের মানুষ ওকে পছন্দ করে না। আমি আমার শক্তি অমু।ায়ী দেবাশঁুকে জাতোনার চেষাট করব। কিন্তু রচনা যকবার বেরোবে ও কিন্তু ডুববে!
রচনা- েটা একটা হাস্যকার বিষয়। এর কোনও উত্তর আমার কাছে নেই। আমার এখন একটাই কাজ তৃমমূল প্রার্থীদের জেতাতে হবে। আমি সত্যিই হাসছি। ছেড়ে দিন না দাদা। উনি পাস্ট। তিনি বিগত তাঁকে নি.ে আলোচনা করবেন না। আসন্নদের নিয়ে ভাবুন, ভবিষ্যতে কী আসতে চলেছে ভাবুন। আগামী চুচুড়া নিয়ে ভাবুন। পিছনে যা পেে এসেছে ভাববেন না।
দেবাংশু- সকলেই আমার কাছের। দলের প্রতীকে যাঁরা জিতেছেন, দলেরআ স্থা যআঁদের কাছে প্রত্যেকেই আমার প্রণম্য। আমার কাছে নির্দেশ আছে, দলের, সকলকে সংঘবদ্ধ করে নিয়ে স্ট্রং টিম তৈরি করে এগৌও, নির্বাচনে জেতো, আগামী দিনে কাজ করো। সেই লক্ষ্েই এগোচ্ছাী আমি। কারও যদি কোথাও মে মানিলেয নহয়েথাকে, আঘাত লেকগে থাকে মনে, সেটা আমরা নিজেদের মধ্যে অবশ্যই মিটিয়ে নেব। উনি একজন সিনিয়র মানুষ। তিন বারের বিধায়ক। তার মান অভিমান হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয় আলোচনাতেই মিটিয়ে নেহ।
আজ রচনাদি ছিলেন। হাজার হাদার মানুষ ছিলেন। আজ মিছিল হয়েছে। তিনি থাকলে আরও খুশি হতাম। অভশ্যই তাঁকে নিয়ে পরবক্তীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি হবে।
নওদায় অভিষেকের সভাস্থলে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা, প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ, ভাঙা হল চেয়ার, ওয়ার্নিং দিলেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’
টিকিট না পেয়ে বিক্ষুব্ধ বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক, অসিতের নিশানায় রচনা
তৃণমূল সাংসদ রচনাকে নিশানা বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কের
কে রচনা, তিন দিন কার যোগী, এদের মতো লোক দলে থাকলে দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব পারবে দল শেষ হবে। আমার টিকিট না পাওয়ার জন্য রচনার হাত রয়েছে ও দিদির কান ভারি করেছে। আমরা নাচাকোদা লোক নই, আমরা সিপিএম বিজেপির সাথে লড়াই করার লোক, পাউডার স্নো মেখে, এক ঘন্টা বাদে বাদে মুখ ওয়াশ করি না, যারা মুখোশ করে দিদির সামনে যায় দিদির ভালো লাগে তাদের। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কে বেণোজির আক্রমণ তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারের।
আজ চুঁচুড়ায় খাদিনা মোর তৃণমূল কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূলের বিদায় বিধায়ক অসিত মজুমদার সেখানে তৃণমূল সংসদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অসিত। বিধানসভা ভোটের আগে অসিত বনাম রচনার দ্বন্দ্ব দল বেশ কিছুটা অস্বস্তিতে পড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



















