Congress News : ভোটের আগে তৃণমূলে ভাঙন, কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন বিদায়ী বিধায়কের
West Bengal Election 2026 : তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে দাবি বাদুড়িয়ার বিধায়কের।

নয়াদিল্লি : টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ। এবার তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন বিধায়ক। বাদুড়িয়ার তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়কের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন হল। ২০১৬-২০২১ পর্যন্ত কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন।। তারপরে তৃণমূলে যোগ দেন। এবার কংগ্রেসে ফিরলেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক কাজি আব্দুর রহিম দিলু । তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে দাবি বাদুড়িয়ার বিধায়কের।
তৃণমূল ত্যাগী কংগ্রেস নেতা বলেন, "আজ আমাদের এটাই খুশির খবর যে আজ আমি ঘরে ফিরে এলাম। কিছুদিনের জন্য বাইরে গিয়েছিলাম। ঘরে আসতে পেরেছি এটাই খুশির বিষয়। সেদিন একটি কারণে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিনিয়র নেতারা...সেদিন এমন মহল বানিয়ে দিয়েছিল...২০২১-এ বিজেপি এমন সংকট তৈরি করে দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে যে ২০০ সিট নিয়ে ওরা আসবে বলেছিল...পুরো বাংলা দখল করে নেবে। সেদিন আমরা গিয়েছিলাম বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার জন্য। বিজেপি সেই সময় ধর্মনিরপেক্ষ বাংলার ওপর হামলার চেষ্টা করছিল। কিন্তু, দুঃখের বিষয় এটাই যে, সেইসময় যার অনুরোধে গিয়েছিলাম, সেই তৃণমূল দল ও বিজেপির মধ্যে আজ কোনও পার্থক্য খুঁজে পাই না।"
গতকাল প্রথম দফায় ২৮৪ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। বহরমপুর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে অধীর চৌধুরীকে। মালতিপুরে প্রার্থী মৌসম নুর। এছাড়াও নেপাল মাহাতো, মোহিত সেনগুপ্তদের প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। নতুন মুখ হিসেবে প্রার্থী তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন সোমেন মিত্রের ছেলে রোহন মিত্র। প্রার্থী হয়েছেন আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, সুমন রায়চৌধুরী, প্রদীপ প্রসাদ, মিল্টন রশিদরা। তবে প্রথম তালিকায় নাম নেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের।
একদিকে একঝাঁক তরুণ ও নতুন মুখ। অন্যদিকে, বর্ষীয়ান ও পোড় খাওয়া নেতা। রবিবার তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে ভারসাম্যের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম-দুটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে তারা। গতকাল প্রথম দফায় যে ২৮৪ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম হল অধীর চৌধুরী। ১৯৯৬ সালের পর ২০২৬, ৩০ বছর পর ফের বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে নামছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। মুর্শিদাবাদের বহরমপুর আসন থেকে প্রার্থী করা হয়েছে অধীর চৌধুরীকে।
রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এবারই প্রথম এককভাবে ভোটের লড়াইয়ে নামছে কংগ্রেস। তাদের প্রার্থী তালিকায় রয়েছে একঝাঁক তরুণ ও নতুন মুখ। যেমন সোমেন মিত্রর ছেলে রোহন মিত্র। এবারই প্রথমবার ভোটের লড়াইয়ে নামছেন তিনি। তাঁকে বালিগঞ্জ আসন থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কংগ্রেসের দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ। শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্র নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে দলের যুব মুখ শেখ জরিয়াতুল হোসেনকে। উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায় তরুণ নেতা আলি ইমরান রামজ, ভিক্টরের ওপর আস্থা রেখেছে কংগ্রেস। বীরভূমের হাসনে ফের প্রার্থী হয়েছেন মিল্টন রশিদ। বিধাননগরে কংগ্রেসের প্রার্থী রণজিৎ মুখোপাধ্যায়। রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী নতুন মুখ পার্থ ভৌমিক। মানিকতলা থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সুমন রায়চৌধুরীকে।
তারুণ্যের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান নেতাদেরও একাধিক কেন্দ্রে গুরুদায়িত্ব দিয়েছে দল। এবছরের শুরুতেই রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে, তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে ফিরেছেন মৌসম বেনজির নুর। গনি খান চৌধুরীর ভাইজি মৌসম নুরকে মালদার মালতিপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা নেপাল মাহাতোকে তাঁর পুরনো কেন্দ্র বাঘমুণ্ডি থেকেই ফের প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। পরপর দু'বারের বিধায়ক এবং আরেক বর্ষীয়ান নেতা মোহিত সেনগুপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন রায়গঞ্জ থেকে। ইটাহারে অমল আচার্যকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস।





















