Md, Selim : 'বুদ্ধদার শেষযাত্রা থেকে সরে গিয়ে গাড়ি আটকান কলতান-মীনাক্ষীরা...', অভয়ার মা-বাবার অবস্থান নিয়ে যা বললেন সেলিম...
CPM News : এবার অভয়ার মা-বাবা অবস্থান নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন মহম্মদ সেলিমও।

কলকাতা : বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন অভয়ার মা। পানিহাটি কেন্দ্র থেকে দাঁড়াতে পারেন তিনি। তার আগে সিপিএমের বিরুদ্ধে ভোট কাটাকাটির অভিযোগ তুলেছেন অভয়ার বাবা-মা। যা নিয়ে এর আগে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, শতরূপ ঘোষরা। এবার অভয়ার মা-বাবার অবস্থান নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন মহম্মদ সেলিমও।
তিনি বলেন, "হাসপাতালে চত্বরে কর্তব্যরতা পিজিটি ছাত্রী যিনি নিজে একজন চিকিৎসক, এরকম এর আগে কখনো আমাদের দেশে ঘটেনি। রাজ্যে তো ভাবাই যেত না। ডিউটি আওয়ারের মধ্যে গণধর্ষণ হয়, খুন হয়। তারপরে সমস্ত সাক্ষী-সাবুত লোপাট করার জন্য স্বাস্থ্য দফতর, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং তৃণমূল কংগ্রেস সক্রিয় হয়। সিপিএম প্রথম এই ঘরে দাঁড়িয়ে...বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর লাশ তখন পড়ে রয়েছে, আমরা প্রথম জানাই। তখন তো বাবা-মা অসহায়। এখানে অডিও বাজিয়ে শোনাই। তাঁদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তারপরে বলে আত্মহত্যা, তারপরে বলেছে তাড়াতাড়ি চলে আসুন। তারপরে কোর্টে যাই আমরা। শিয়ালদা কোর্ট থেকে অর্ডার হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইন মেনে, নিয়ম মেনে ভিডিওগ্রাফি করতে হবে। বাড়ির একজন প্রতিনিধি থাকবেন এবং এক্সটার্নাল এক্সপার্ট থাকবেন। যেহেতু হাসপাতালের মধ্যে হয়েছে, ওখানেই পোস্টমর্টেম হয়। তবে, পোস্টমর্টেম হবে। তড়িঘড়ি করে পোস্টমর্টেম করা হয় অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পরে। আমরা এই কথাটা নিয়ে আসি। কোনও আরএসএস, বিজেপি না। তারপরে এই কলতান, মীনাক্ষী, ধ্রুব, আমাদের ছাত্র-যুব বাহিনী, বুদ্ধদার শেষ যাত্রা থেকে সরে গিয়ে গাড়ি আটকায়। তখন ওই মা অসহায়। আজ মীনাক্ষী বলেছেন, তখন তো আমরা দেখিনি এটা কার লাশ...সিপিএম, না এসএফআই, না ডিওয়াইএফের। তাঁর বাবা-মাকেও আমি চিনতাম না। কিন্তু, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বামপন্থী ছাত্র-যুবরা। পুলিশের অন্যায়ের বিরুদ্ধে, তৃণমূলের জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। প্রাণ বাজি নিয়ে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করে। সেখানকার কাউন্সিলর, এমএলএ, তৎকালীন...এখনও বোধহয় আছে ক'দিন। ওঁদের যেটা বাসস্থান, সেখানকার স্থানীয় তৃণমূল নেতারা পরিবারকে ঘিরে, শ্মশান ঘিরে তাড়াতাড়ি লাশ পাচার করতে চান। যেমন হাঁসখালিতে করেছে, যেমন বিজেপি হাথরাসে করেছে। বিজেপি-আরএসএস তাদের মুরোদ আছে ধর্ষিতাকে ন্যায় দেবে, বিচার করবে, অপরাধীকে ধরবে ? তখন আপনারা (সাংবাদিকদের উদ্দেশে) বলেছেন, সবাই মিলে নবান্ন অভিযান করছে, আপনারা কেন যাচ্ছেন না? আমরা বলেছিলাম, এটা আরএসএসের পরিকল্পনা। আজ কলকাতা পুলিশ যা বলেছে, সিবিআইও তাই বলেছে। রাজ্য সরকার আর কেন্দ্রীয় সরকার, তৃণমূল আর বিজেপি...ওই অসহায় মা-কে নিয়ে দিল্লি ঘোরাঘুরি করেছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করাতে পারেনি। নির্বাচন আলাদা কথা।সেই পরিবার সিদ্ধান্ত নেবে কী করবে। আমরা কখনোই সেই পরিবারকে বলিনি যে সিপিএম হও। আমরা সবসময় সন্তান হারানো পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আইনজীবীরা লড়াই করেছেন। তখনই তাঁদের মনে হয়েছে, বামপন্থী আইনজীবীরা ঠিক করবেন না, নামীদামি আইনজীবী বিজেপি ঠিক করে দেবে। সুপ্রিম কোর্টে আপনারা কী করবেন, দিল্লির সরকার পাশে থাকলে ঠিক হবে। যেদিন ধর্মঘট প্রত্যাহার হল, তারপর থেকে বিজেপি-তৃণমূল একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। সুতরাং এসব বলে কিছু লাভ হবে না।"




















