Suvendu Adhikari : 'আরও আগে আমাদের পালিয়ে আসা উচিত ছিল'...শুভেন্দুর শপথগ্রহণের পরই বললেন বাবা শিশির অধিকারী
শিশির অধিকারী বললেন, 'আমি বলে কোনও পদার্থ নেই। সংবিধান কখনও অনুমতি দেয়নি।'

বিটন চক্রবর্তী, কাঁথি : ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনেই নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন। আর এবার ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে আরও একবার তৃণমূলনেত্রীকে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি এবার নন্দীগ্রাম থেকেও তৃণমূলপ্রার্থী পবিত্র করকে পরাজিত করেছেন। শুধু তা-ই নয়, রাজ্যজুড়ে বিজেপির গেরুয়া ঝড়ের অন্যতম কাণ্ডারী তিনিই। সেই শুভেন্দু অধিকারী আজ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। ছেলের এই সাফল্যে আপ্লুত প্রবীণ রাজনীতিক । বললেন, ' বাংলার মানুষ চেয়েছিলেন। মোদিজি চেয়েছিলন, বিজেপি তাঁকে এই জায়গায় চেয়েছিল '।
বরাবরই ধৈর্য-স্থৈর্যে বিশ্বাসী শুভেন্দু অধিকারী। বাবা শিশির অধিকারীর কথাতেও প্রতিফলিত ছেলের সেই বিশ্বাস। বললেন, রামকৃষ্ণ পরম হংস দেব, বিবেকানন্দের ভাবাদর্শেই অনুপ্রাণিত শুভেন্দু। আজ তাঁর এই সাফল্যে পরিবার তো বটেই , খুশির হাওয়া তাঁর জেলা ও পরিবারেও।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নাম ঘোষণার পরই প্রথম ভাষণে শুভেন্দু অধিকারী প্রথম ভাষণে বলেন, 'আমি নয় আমরা।' ছেলের এই ভাবনাকে সমর্থন জানিয়ে শিশির অধিকারী বললেন, 'আমি বলে কোনও পদার্থ নেই। সংবিধান কখনও অনুমতি দেয়নি।'
তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসেই প্রথমে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব ও তারপর মুখ্যমন্ত্রিত্বের গুরুভার পেয়েছেন তিনি। তাহলে কি তৃণমূল ছেড়ে আসাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল শুভেন্দু অধিকারীর? শিশির অধিকারীর কথায়, 'আরও আগে ওই দল থেকে পালিয়ে আসা উচিত ছিল। আমি অজয় দা কে আজকের দিনে প্রণাম করি। সতীশ সামন্ত, কুমার জানা, প্র্যাক্টিক্যালি অ্যাডভান্স হয়ে লড়াই করেছিলেন। আমাদেরকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন , আমরা বুঝতে পারিনি। সেই ইঙ্গিত শুভেন্দু ধরে নিয়েছে। ' বহু বছর পর জেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী পেল পশ্চিমবঙ্গ। শিশিরের কথায়, ' মেদিনীপুরের লড়াইয়ের অবদান আজ পরিষ্কার।'
শনিবার ঐতিহাসিক ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী ( Narendra Modi ) , কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ( Amit Shah ) সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari )। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বাংলায় সরকার গঠন করল বিজেপি। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতা। বিশাল জনসমাগম, কড়া নিরাপত্তা এবং গেরুয়া আবহের মধ্যেই শপথ নেন শুভেন্দু । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি এদিন তাঁর মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। এই পাঁচজনের মধ্যে যেমন রয়েছে উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি, তেমনই দক্ষিণবঙ্গের নেতারাও জায়গা পেয়েছেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে আদিবাসী ও মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে জয়ী বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এদিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল ( Agnimitra Paul ) এদিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। মাথাভাঙা কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি নেতা নিশিথ প্রামাণিক ( Nisith Pramanik ) এদিন শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী অশোক কীর্তনীয়া ( Ashok Kirtania ) ও শপথ নিলেন এদিন। বাঁকুড়ার রানিবাঁধ কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু ( Khudiram Tudu ) এদিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
আরও পড়ুন : 'অভয়া যেন বিচার পায়, আর...' মুখ্যমন্ত্রী হলেন শুভেন্দু, এদিন ছেলের কাছে কী কী চাইলেন তাঁর মা?
সেরা শিরোনাম




















