Trinamool Candidate List: এভাবেও ফিরে আসা যায়! তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে কুণাল ঘোষ বললেন, ‘মাথার উপর মমতাদি-অভিষেক…বাকি সবাই সৈনিক’
Kunal Ghosh TMC Candidate: মঙ্গলবার ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন তৃণমূল। কুণালকে প্রার্থী করা হয়েছে বেলেঘাটায়, পরেশ পালের জায়গায়।

কলকাতা: 'এভাবেও ফিরে আসা যায়', নিছক গানের কথা নয়, বাস্তব জীবনে প্রমাণ করে দেখালেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। সমস্ত বাধা-বিপত্তি সরিয়ে, বিতর্ক পিছনে ফেলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হলেন তিনি। বেলেঘাটা আসনে তাঁকে প্রার্থী করল তৃণমূল। একদা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি গড়ে উঠলেও, সেই ঘনিষ্ঠতা তিক্ততা এবং দূরত্বে বদলে গিয়েছিল পরবর্তীতে। নতুন করে দলে প্রত্যাবর্তন ঘটলেও, আগের সেই ঘনিষ্ঠতা আর চোখে পড়েনি। তবে মমতার উপস্থিতিতে এদিন কুণালের নাম ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ই। মমতা জানান, নতুন মুখের মধ্যে কুণালকেও রেখেছেন তিনি। আর তার পরই এবিপি আনন্দ-কে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি তুলে ধরলেন কুণাল। (Kunal Ghosh TMC Candidate)
মঙ্গলবার ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন তৃণমূল। কুণালকে প্রার্থী করা হয়েছে বেলেঘাটায়, পরেশ পালের জায়গায়। ৫৭ বছর বয়সে ভোটের ময়দানে কুণালের পদার্পণ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। 'এভাবেও ফিরে আসা যায়!' বিস্ময় প্রকাশ করছেন অনেকেই। যদিও কুণালের বক্তব্য, "আমি জ্ঞানত কোনও অন্যায় করিনি। সেটা কোর্টও জানে, সবাই জানেন, মানুষ সবটা বোঝেন। প্রথমেই আন্তরিক ধন্যবাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি আস্থা রেখেছেন, সুযোগ দিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ। আমি তৃণমূলের একজন সৈনিক। যখন যা দায়িত্ব দেওয়া হয়, পালন করি, নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করি। এখন এই ভূমিকায়...বিধানসভা নির্বাচনে বেলেঘাটায় প্রার্থী। নেত্রী আস্থা রেখেছেন, নেতা আস্থা রেখেছেন, দল আস্থা রেখেছে, এটা ভাল লাগছে।" (West Bengal Assembly Elections 2026)
সোমবারই মমতার প্রতিবাদী মিছিলে দেখা গিয়েছিল কুণালকে। প্রার্থী হচ্ছেন বলে তখন কি জানা ছিল? না কি ঘোষণায় জানতে পারলেন? কুণাল বলেন, "আমার কোনও মন্তব্য নেই এ বিষয়ে। সকলের সামনে যখন প্রকাশ হয়েছে, ধরে নিন তখনই জেনেছি আমি।" প্রার্থী হিসেবে কাজ কবে থেকে শুরু করবে জানতে চাইলে বলেন, "সুবিধা হল আমি সারা বছরই কাজের মধ্যে থাকি। কারণ মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের ব্যাপারটাই হচ্ছে, শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা। সারা বছর ওই এলাকায়, বেলেঘাটার আটটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, বিদায়ী বিধায়কদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভাল। আমাদের নেত্রী মমতাদি। বাকি সবাই সৈনিক আমরা। মাথার উপর মমতাদি-অভিষেক। আর যে আটজন কাউন্সিলর রয়েছেন, তাঁরা আমাকে গাইড করে দেবেন। দলের অন্য নেতা, অনেক সিনিয়র নেতা এই এলাকায় থাকেন...আর বেলেঘাটার মানুষ জানেন কুণাল ঘোষকে, যে স্ট্রাগল করা মানুষ। মানুষের পাশে থাকে। ঝড়-জল-বিপদে, দলমত নির্বিশেষে কুণাল ঘোষের কাছে এলে পারুক না পারুক, কুণাল ঘোষ শেষ অবধি লড়ে যায়।"
কিন্তু দলের অন্দরে যাত্রা একেবারেই মসৃণ ছিল না। দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে। তার পরও এভাবে ফিরে এলেন কী করে? কুণালের বক্তব্য, "আমার মনে হয়, নেত্রী আমাকে অনেক কম বয়স থেকে চেনেন। নেতাও আমাকে যথেষ্ট চেনেন, ভালবাসেন। আমি হয়ত মুখ ফুটে, দুম করে কিছু বলে ফেলি। হয়ত কিছু কথা বেরিয়ে যায়। কিন্তু তার পিছনে আমার কোনও অসৎ উদ্দেশ্য থাকে না।"





















