TMC News: 'আমি এখন পাখির মতো মুক্ত...', নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Mamata Banerjee: বিজেপি-র কাছে পরাজয়ের পর মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা।

কলকাতা: গেরুয়াঝড়ে পশ্চিমবঙ্গে ধরাশায়ী তৃণমূল। কিন্তু ভেঙে পড়ছেন না মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। বরং নিজেকে পাখির মতো মুক্ত মনে করছেন বলে জানালেন। বরং আগামী দিনে বিজেপি বিরোধী I.N.D.I.A জোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের কথা জানালেন। মমতা জানালেন, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, সনিয়া গাঁধী, রাহুল গাঁধী, উদ্ধব ঠাকরে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালদের পাশে পেয়েছেন তিনি। অখিলেশ কলকাতা আসছেন বলেও জানালেন। (Mamata Banerjee)
বিজেপি-র কাছে পরাজয়ের পর মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। সেখানে তিনি বলেন, "প্রথম দু'-তিনটে রাউন্ড কিন্তু প্ল্যান করেই... যাতে ছেলেমেয়েদের মনোবল ভেঙে যায় এবং ওরা গুন্ডামি করতে সাহস পায়। আমাদের লড়াই বিজেপি-র সঙ্গে ছিল না। আমাদের লড়তে হয়েছে ভিলেন নির্বাচন কমিশন...যিনি ভারতীয় গণতন্ত্রে কালো ইতিহাস তৈরি করেছেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে নির্বাচন কমিশনার ভিলেনে পরিণত হয়েছেন, যাতে ভোট লুঠ করা যায়, EVM লুঠ করা যায়। বলতে পারেন, ভোটগ্রহণের পর EVM-এ ৮০-৯০ শতাংশ চার্জ থাকতে পারে?" (TMC News)
মমতা আরও বলেন, "গ্রেফতারি, রেড শুরু করে। আইসি, ওসি, এসডিও, আইপিএস, আইএএস বদল করে। নিজেদের দলের লোকেদের নিয়ে আসে। বিজেপি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মিলে বেটিং করে। আমরা সব মেশিনারির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, যেখানে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি যুক্ত ছিলেন। সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন। SIR-এ ৯০ লক্ষ নাম মুছে দেয়। আমরা আদালতে গেলে ৩২ লক্ষকে যুক্ত করা হয়। কিন্তু জানেন কী? ডিপোজিটেড ৭ লক্ষও ছিল! নোংরা খেলা খেলেছে। জীবনে এমন নির্বাচন দেখিনি। ছাত্রজীবন থেকে অনেক নির্বাচন দেখেছি। এমনকী ২০০৪ সালেও, যখন আমি সম্পূর্ণ একা ছিলাম। এমন বর্বরতা দেখিনি। ছাত্রাবস্থায় ৭২-এর সন্ত্রাসের কথা শুনেছিলাম। চোখে দেখিনি, তাই বলতে পারব না। কিন্তু এই সন্ত্রাস সব সন্ত্রাসকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। I.N.D.I.A জোটের সব শরিকদের কাছে কৃতজ্ঞ। সনিয়াজী, রাহুল গাঁধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী, হেমন্ত সোরেন ফোন করেছিলেন আমাকে। আমার পাশে আছেন ওঁরা। আগামী দিনের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ। "
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মমতা বলেন, "অখিলেশ আজই আসতে চেয়েছিল। আমি বলেছি কাল আসতে। আসছে কাল। এক এক করে সকলেই আসবে। আমি বলেছি, আমার লক্ষ্য পরিষ্কার। আমি I.N.D.I.A জোটকে মজবুত করব। সামান্য ব্যক্তি হিসেবে। এখন আর চেয়ার নেই আমার। আমিও সাধারণ মানুষ। আমাকে বলতে পারবেন না যে চেয়ার ব্যবহার করছি। আমি এখন মুক্ত পাখি। গোটা জীবন মানুষের সেবায় নিযুক্ত থেকেছি। গত ১৫ বছরে ১ পয়সা পেনশন নিইনি, বেতনও নিইনি। আমি এখন মুক্ত পাখি। আমি দেখব। আমার দল দেখবে বাকিটা।"
এদিনও মারাত্মক অভিযোগ তোলেন মমতা। বলেন, "আমার সঙ্গে তফসিলি জাতির একটি মেয়ে কাজ করেন। গতকাল রাত থেকে তার পরিবারকে ঘেরাও করে রাখা হয়। নতুন বউমা আছে বাড়িতে। বিজেপি ধর্ষণের হুমকি দেয়। ওর ঠাকুমা ৯২ বছরের। তিনি অসুস্থ হলেও জল দিতে দেওয়া হয়নি। ভাঙড় থেকে বারাসাত, বারাসাত থেকে দেগঙ্গা, দেগঙ্গা থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ, উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, বর্ধমান থেকে বীরভূম...বিজেপি এবং গুন্ডারা বর্বরতা শুরু করে। ভেবেছিল সবাই মাথা নত করবে। কিন্তু করেনি। পুলিশ সম্পূর্ণ ভাবে নিষ্ক্রিয়। আমরা যখন জিতেছিলাম, বলেছিলাম, বদলা নয় বদল চাই। আমরা কিন্তু সিপিএম-এর পার্টি অফিসে হাত দিইনি। কোনও অত্যাচার করিনি। আর তিন দিন ধরে বিজেপি যে অত্যাচার করছে, সিআরপিএফ...এরা বাহিনী না গুন্ডাবাহিনী! নিজের কেন্দ্রে দেখেছি, ১০০ জনকে মেরে তাড়িয়েছে।"
ভবানীপুর নিয়ে মমতার দাবি, বিজেপি তাঁর কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করে। পঞ্চম রাউন্ডে ১৩০০০ ভোটে এগিয়ে থাকার সময় তাঁর কাউন্টিং এজেন্টরা বেরিয়ে যান। জানতে পেরে বেরোন তিনি। প্রথমে জগুবাজারের কাছে তাঁর গাড়ি আটকানো হয়। অন্য রাস্তা দিয়ে পৌঁঁছন তিনি। সিআরপিএফ ঢুকতে দিচ্ছিল না তাঁকে। মমতা বলেন, "অত্যাচারের জন্য মা-মাটি-মানুষের ভোটটা আমরা রক্ষা করতে পারিনি। আমরা ক্ষমা চাইছি।" মমতা জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ দিতে যাবেন না। নৈতিক ভাবে তাঁরা হারেননি, বরং জিতেছেন। জোর করে দখল করা হয়েছে নির্বাচন।




















