West Bengal Assembly Elections 2026: তাঁর জেতা আসনে প্রার্থী তৃণাঙ্কুর, নামিয়ে দেওয়া হয় মমতার ধর্নামঞ্চ থেকেও, রাজনীতিই ছেড়ে দিলেন মঞ্জু
Manju Basu: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ২৯১ জনের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল, তাতে মঞ্জুর নাম নেই।

কলকাতা: SIR-বিরোধী ধর্নামঞ্চে জায়গা হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই নামিয়ে দেওয়া হয় মঞ্চ থেকে। এবার বিধানসভা নির্বাচনে টিকিটও পেলেন না তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক মঞ্জু বসু। নোয়াপাড়ায় তাঁর জায়গায় তরুণ তুর্কি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। আর তার পরই রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিলেন মঞ্জু। দলকে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। (Manju Basu)
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ২৯১ জনের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল, তাতে মঞ্জুর নাম নেই। বরং তাঁর জেতা নোয়াপাড়ায় তৃণঙ্কুরকে প্রার্থী করা হয়েছে। সেই নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন মঞ্জু। বললেন, “রাজনীতির জগৎ থেকে বিদায় নিলাম। যিনি নিয়ে গিয়েছিলেন, তিনিই হাত ধরে পাঠিয়ে দিলেন। অর্থাৎ রাজনীতিতে আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছে।” (West Bengal Assembly Elections 2026)
মঞ্জু জানিয়েছেন, গোড়া থেকে তৃণমূল করছেন তিনি। দলবদল করেননি। এখনও বিজেপি-র থেকে প্রস্তাব আসছে। কিন্তু দলবদল করবেন না তিনি। অভিমানেই এমন সিদ্ধান্ত তাঁর? শুরু হয়েছে জল্পনা।
মঞ্জুকে প্রার্থী না করায়, সম্প্রতি তৃণমূলকে একহাত নেন নোয়াপাড়ায় এবার বিজেপি-র প্রার্থী অর্জুন সিংহও। তৃণাঙ্কুরকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে চাননি অর্জুন। তৃণাঙ্কুরকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবলে, প্রতিদ্বন্দ্বী শব্দটার অপমান হয় বলে মন্তব্য করেন অর্জুন। শুধু তাই নয়, মঞ্জুর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “কাকে সরিয়ে টিকিট দেওয়া হল ওকে (তৃণাঙ্কুরকে)? মঞ্জু বসুকে, যিনি তৃণমূলের বহু পুরনো কর্মী। মঞ্জুদিকে বেইজ্জত করে, ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ওকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। এখানকার মানুষ সঠিক জবাব দেবেন। নোয়াপাড়াতেও পরিবর্তন নিশ্চিত।”
কিন্তু হঠাৎ করে নয়, তৃণমূলে মঞ্জু বেশ কিছু দিন ধরেই গুরুত্ব হারাচ্ছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে। গত ৬ মার্চ ধর্মতলায় মমতা যে SIR-বিরোধী ধর্নায় বসেন, সেখানেও জায়গা হয়নি মঞ্জুর। ঘটনাস্থল থেকে যে ভিডিও সামনে আসে, তাতে মঞ্জুর প্রতি বিরক্তিভাব ফুটে ওঠে মমতারও। এমনকি একটা সময় পর মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে, যা নিয়ে বিরোধীরা কটাক্ষ করেছিল।
মমতার ধর্নামঞ্চে জায়গা না পেয়ে যন্ত্রণা উগরে দিয়েছিলেন খোদ মঞ্জুও। জানান, তিনি শুধু মমতাকে প্রণাম করতে গিয়েছিলেন। তার পর যা ঘটেছে, তা সকলে দেখেছেন। মানুষই বিচার করবেন বলে জানান তিনি। ২০০১, ২০১১ এবং ২০২১, তিন-তিন বার নোয়াপাড়া থেকে নির্বাচিত হন মঞ্জু। ২০০০ সালে খুন হন বিকাশ বসু। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেই তিনি খুন হন বলে জানা যায় সেই সময়।




















