গেরুয়া ঝড়ে বদল রাজ্য রাজনীতি, ১৫ বছরের শাসনের অবসান
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পালাবদল। গেরুয়া ঝড়ে ভরাডুবি তৃণমূলের, আর ১৫ বছর পর ক্ষমতার পালাবদল ঘটল রাজ্যে। জনতার রায়ে এবার সরকার গঠনের পথে বিজেপি, আর এই পরিবর্তনের লড়াইয়ের মুখ্য যোদ্ধা হয়ে উঠেছেন সদ্য জয়ী বিজেপি বিধায়করা।
হেভিওয়েটদের হারিয়ে উঠে এলেন নতুন মুখ
কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রাসবিহারীতে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী দেবাশিস কুমার-কে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর জয় ঘিরে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে—দলের ভিতরে তিনি কি বড় কোনও দফতরের দায়িত্ব পেতে চলেছেন? নিজের প্রতিক্রিয়ায় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শহরের প্রশাসনিক রং বদলানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই, পাশাপাশি ‘সিন্ডিকেট রাজ’ শেষ করার কথাও বলেছেন।
দমদম থেকে জোড়াসাঁকো—শহরে বিজেপির দাপট
দমদম উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূলের চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং সিপিএমের দীপ্সিতা ধর-কে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন সৌরভ শিকদার। তিনি দমদমের জল সমস্যা সমাধান এবং প্রয়াত তপন শিকদার-এর স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার করেছেন। অন্যদিকে, জোড়াসাঁকো কেন্দ্রে জয় পেয়েছেন বিজয় ওঝা। বড়বাজার অঞ্চলের উন্নয়নই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন।
জেলা জুড়েও গেরুয়া দাপট
এগরা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন দিব্যেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি নারায়ণগড় (পশ্চিম মেদিনীপুর) আসনে জয় পেয়েছেন রমাপ্রসাদ গিরি। দুই নেতাই স্থানীয় উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন।
প্রতিজ্ঞা পূরণে মাথা মুণ্ডন
নির্বাচনের আগে করা প্রতিজ্ঞা পূরণ করলেন বহরমপুরের জয়ী বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। মমতা সরকারের পতনের পর মাথা মুড়িয়ে নিজের অঙ্গীকার রক্ষা করেন তিনি। একইভাবে ব্যারাকপুরের বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী-র প্রতিজ্ঞাও ছিল সরকার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত চুল রাখবেন না। তিনিও এবার চুল রাখার কথা ভাবছেন।
অভিজ্ঞদের ঘিরে জল্পনা
খড়গপুর সদর থেকে জয়ী দিলীপ ঘোষ-কে ঘিরে জোর জল্পনা—তিনি কোন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব পেতে পারেন? নির্বাচনের পরদিনও স্বাভাবিক রুটিনে মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে পড়েন তিনি
প্রশাসনে নতুন মুখ
সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার দেবাশিস ধর। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এলাকায় উন্নয়ন ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
পরিবর্তনের রায়, প্রত্যাশার চাপ
জনতার রায়ে স্পষ্ট—রাজ্যে পরিবর্তন চেয়েছে মানুষ। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার মাধ্যমে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
এখন নজর, এই বিপুল প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে নতুন সরকার।