Writers Buildings Condition: খাঁ-খাঁ লালবাড়ি, কিন্তু মহাকরণ থেকেই সরকার চালানোর ইঙ্গিত বিজেপির তরফে! কতটা সম্ভব, কোন পথে সংস্কার?
Election 2026: বর্তমানে মহাকরণের কোন জায়গা থেকে সরকার চালানো সম্ভব? কোন জায়গায় বসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী-সহ অন্য মন্ত্রীরা?

- নতুন সরকার রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই পরিচালিত হতে পারে।
- PWD আধিকারিকরা মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বসার স্থান পরিদর্শন করছেন।
- সংস্কারের অভাবে রাইটার্স বিল্ডিং এখনও পুরোপুরি ব্যবহারের উপযুক্ত নয়।
- ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার কাজ এখনো শেষ হয়নি।
কলকাতা: এখনও শেষ হয়নি সংস্কার। রাইটার্স বিল্ডিংকে দ্রুত তৈরি করতে তৎপর PWD। কারণ, তবে রাইটার্স থেকেই বিজেপির সরকার পরিচালনার সম্ভাবনা জোরালো। কোন জায়গায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রীরা? খতিয়ে দেখছেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। চুরমার হয়ে গেছে তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের আশা! গেরুয়া ঝড়ে ভেঙে পড়েছে দেড় দশকের দুর্গ। কে হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? নবান্ন নাকি রাইটার্স কোথা থেকে চলবে নতুন সরকারের প্রশাসনিক দফতর? রাজ্যে পালাবদলের পর ক্রমেই দানা বাঁধছে জল্পনা। তবে রাইটার্স থেকেই বিজেপির নতুন সরকার পরিচালনার সম্ভাবনা জোরালো। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষৎকারে বলেছিলেন 'আমরা তৃণমূলকে হারাব। আর ২০২৬ সালে আমাদের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী রাইটার্স থেকে সরকার পরিচালনা করবে।'
কেমন আছে রাইটার্স?
বর্তমানে মহাকরণের কোন জায়গা থেকে সরকার চালানো সম্ভব? কোন জায়গায় বসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী-সহ অন্য মন্ত্রীরা? খবর সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে PWD। ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসনিক কর্তারা মহাকরণ পরিদর্শন করেছেন। পুরো বিল্ডিং ব্যবহারের উপযুক্ত করা এখনই সম্ভব নয়। ২৮টি ঘর তৈরি আছে, সেখানে যাবতীয় কাজ চলছে। কড়া করা হয়েছে এলাকার নিরাপত্তা। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন চলত নবান্ন থেকে। এখন জল্পনা, নতুন সরকার কি পুরনো ঠিকানায়?
মহাকরণ। দেড়শো মিটার লম্বা এক লালবাড়ি। বিবাদীবাগের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েক যুগের ইতিহাসের সাক্ষী আইকনিক বিল্ডিং। ১৭৭৬ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্লার্ক বা রাইটারদের থাকার জন্য লালদিঘির পাড়ে এই বাড়ি তৈরির কাজে হাত দেন স্থপতি টমাস লিয়ন্স। নাম দেওয়া হয় রাইটার্স বিল্ডিং। নির্মাণকাজ চলে ১৭৮০ সাল পর্যন্ত। মোট ১৭ বিঘা জমিতে ১৯টি পৃথক অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করা হয়। যেগুলি অনেকটা সারিবদ্ধ দোকানের মতো দেখতে ছিল। পরে এগুলিকে একসঙ্গে নিয়ে প্রশিসনিক ভবন হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়। ধাপে ধাপে ১৮২১, ১৮৮৯ এবং ১৯০৬ সালে এর সম্প্রসারণ করা হয়। রাইটার্স বিল্ডিং ছিল সেকালের কলকাতার প্রথম তিনতলা ভবন। ১৯১১ সালে কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয় ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী। ৭টি ব্লকের রাইটার্স থেকে ১৯১১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত শাসিত হয়েছে অবিভক্ত বাংলা। স্বাধীনতার পর থেকে এই ঐতিহাসিক ভবন ছিল রাজ্য সরকারের সদর দফতর।
ইতিহাস বিজড়িত মহাকরণ
বিধানচন্দ্র রায় থেকে প্রফুল্ল সেন, অজয় মুখোপাধ্যায়, প্রফুল্ল ঘোষ... সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় থেকে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে দেখেছে এই বাড়ি। ভূমি সংস্কার-অপারেশন বর্গা... ত্রিস্তর পঞ্চায়েতিরাজ থেকে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম শিল্প প্রকল্প সিদ্ধান্ত অনেক বড় ঘটনার সাক্ষী এই বাড়ি। ২০১১ সালে অবসান হয় ৩৪ বছরের বাম শাসনের। বিপুল আসন পেয়ে লালবাড়ি দখল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শপথ গ্রহণের পর রাজভবন থেকে হেঁটে মহাকরণে আসেন তিনি। কিন্তু ২০১৩ সালে লালদিঘির পাড় থেকে ক্ষমতার কনভয় দ্বিতীয় হুগলি সেতু পেরিয়ে চলে যায় নীল-সাদা নবান্নয়। কথা ছিল সংস্কারের পর কিছুদিনেই আবার মহাকরণে ফিরবে সব।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee : 'আমরা জিতেছি, হারিনি, কেন পদত্যাগ করতে যাব?' হেরেও গদি ছাড়তে নারাজ মমতা
কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। ১৫ বছরে আর মহাকরণে ফেরেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একা পড়ে থেকে খাঁ খাঁ করেছে লালবাড়ি। ১৫ বছরেও শেষ হয়নি সেই সংস্কার। বিন্ডিং-এর অসংখ্য ঘরজুড়ে পড়ে আছে ভাঙা আসবাব। ধুলো আর ঝুলে ঢাকা পড়েছে সময়। রাইটার্সের মেন ব্লকে ছিল মুখ্যমন্ত্রীর ঘর। যে ঘরে বসেছেন জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণ মানুষদের মধ্যে থেকে একজন বলছেন, 'আমার তো মনে হহয়, পুরনো ঐতিহ্য ফিরে এলে ভাল লাগবে। ডালহাউসিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভীষণ ভাল। আর আমরা তো জানি, কলকাতা পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী। নবান্ন নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছিল হাওড়ায়, সেটা তো আর রাজধানী হল না।' আরেকজন বলছেন, 'এটা খুব ভাল। যাঁরা হাট বসান, তাঁদের জন্য নবান্নটা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী যদি রাইটার্সে আসেন, তাহলে তো ভাল। ওই জায়গাটা যাদের জন্য ছিল, তারা ফিরে পাবে।'
এবার বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ায় কি আবার পুরনো চেহারায় ফিরবে বিবাদী বাগ? সব মিলিয়ে রাজ্যে পালা বদলের পর, নতুন করে ব্যস্ততা বেড়েছে বিবাদীবাগে।




















