সারোগেসির নামে অন্যের শিশু বিক্রি ! IVF সেন্টারের ব্যানারে বিরাট অপরাধ চক্রের পর্দাফাঁস!
বিরাট এই সংস্থার ঝাঁ চকচকে ব্যানারের আড়ালে চলছিল বিরাট এক অপরাধচক্র। রাজস্থানের এই দম্পতির অভিযোগের তদন্তে বেরিয়ে এল কেঁচো খুঁড়তে কেউটে !

কেউ সন্তানধারণে একেবারেই অপারগ। কেউ আবার বারবার সন্তানধারণে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু মা হওয়ার ইচ্ছে অদম্য। এমন মানুষদের মানসিক অবস্থারই ফায়দা উঠিয়ে এসেছে এরা। সেকেন্দ্রাবাদের ইউনিভার্সাল শ্রুষ্টি ফার্টিলিটি সেন্টার। নিজামের শহরে নাম করা সারোগেসি সেন্টার। ১৫ বছর ধরে রমরমিয়ে ব্যবসা। তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্র প্রদেশে একাধিক সেন্টার। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) এবং সারোগেসি কেন্দ্র। কিন্তু বিরাট এই সংস্থার ঝাঁ চকচকে ব্যানারের আড়ালে চলছিল বিরাট এক অপরাধচক্র। রাজস্থানের এই দম্পতির অভিযোগের তদন্তে বেরিয়ে এল কেঁচো খুঁড়তে কেউটে !
এনডিটিভির প্রতিবেদনে প্রকাশ, হায় দরাবাদ পুলিশের উত্তর জোনের ডিসিপি এস রশ্মি পেরুমল জানিয়েছেন, এতদিন সারোগেট সন্তানের নামে যেসব শিশুকে তুলে দেওয়া হয়েছে সন্তানকামী দম্পতিদের হাতে, তারা আদতে সারোগেসির মাধ্যমে জন্মানো শিশুই নয়। সারোগেসির নামে এই সংস্থায় চলছিল শিশু কেনা-বেচার চক্র। অর্থাৎ সন্তানপালনে অপারগ, কোনও গরিব দম্পতির থেকে স্বল্পমূল্যে সদ্যোজাতদের কিনে তা তুলে দেওয়া সারোগেট শিশু বলে। এর জন্য সন্তানকামী মা-বাবাকে ৩৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিতে হত !
পুরো বিষয়টি সামনে চলে আসে, রাজস্থানের এক দম্পতির অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে। তাঁরাও ওই সংস্থার মাধ্যমে 'সারোগেট'সন্তান নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের কিছু সন্দেহ হওয়ায়, ডিএনএ পরীক্ষা করান। তাতে দেখা যায়, শিশুটির সঙ্গে তাঁদের জিনগত কোনও সাদৃশ্যই নেই ! স্পষ্ট হয়ে যায়, এই সন্তান সারোগেট-মায়ের গর্ভে জন্মায়নি, বরং অন্য কোনও দম্পতির সন্তানকে তাদের কোলে তুলে দেওয়া হয়েছে সারোগেট-বেবি বলে। এরপরই শুরু হয় তদন্ত। ডিসিপি রশ্মি জানিয়েছেন, শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ভ্রূণ তৈরি করে কেন্দ্রটি কী করেছিল তা স্পষ্ট নয়। এরপর গোপালপুরম থানায় এই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এমন নতুন আটটি মামলা রুজু হয়েছে। জানা গিয়েছে, সারোগেসি পদ্ধতির জন্য এক দম্পতির কাছ থেকে ২২ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। তারপর তাঁদের একটি মৃত সন্তান দেখানো হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে ওই সন্তান আদৌ তাঁদের ছিলই না। আরেক দম্পতির কাছ থেকে সারোগেসির জন্য ১৯ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়, তারপর তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি প্রি-টার্ম বেবিকে। এভাবে বহু দম্পতিই প্রতারিত হয়েছেন। তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসার পর 'প্রতারিত' দম্পতিরা সেই সব সন্তানদের ত্যাগ করেন। তারপর তাদের কারও কারও ঠাঁই হয়েছে সরকারি হোমে।
জানা গিয়েছে, এই মামলায় ৯০ বছর বয়সী এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞও ফেঁসে গিয়েছেন। ডাঃ সুরি শ্রীমতীর নাম এবং মেডিক্যাল লাইসেন্স ওই ক্লিনিকের নথিতে ব্যবহার করা হয়েছিল তাঁর অজান্তেই। এই ঘটনায় ডঃ নম্রতা এবং তার ছেলে, আইনজীবী সহ ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে ডঃ নম্রতার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস রয়েছে, তার বিরুদ্ধে হায়দরাবাদের গোপালপুরম থানা, বিশাখাপত্তনম, বিজয়ওয়াড়া এবং গুন্টুর সহ বিভিন্ন শহরে প্রায় ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )






















