Baba Bageshwar: 'কৃষ্ণ বাঁকা, রামচন্দ্র সিধে', ঈশ্বরে ঈশ্বরে বিভাজন বাগেশ্বর বাবার, ক্ষমা চেয়ে কী বললেন ? কেন কোনও কড়া ব্য়বস্থা নেয় না প্রশাসন ?
Baba Bageshwar Krishna Remarks: দেশজুড়ে সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হতেই এবার লোক দেখানো ক্ষমা চাইলেন বাবা বাগেশ্বর। “আমার কথায়, এই ব্য়াখ্য়ায় কারও মনে প্রশ্ন তৈরি হলে, কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আমি বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমাপ্রার্থী।''

কলকাতা: ‘তোমাদের ভগবান কৃষ্ণ বাঁকা, আমাদের রামচন্দ্র সিধে’, ঈশ্বরে ঈশ্বরে বিভাজন করে দেখালেন বাবা বাগেশ্বর ওরফে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। আমিষ খাওয়া বাঙালিকে 'পাখণ্ডী' বলা, বাঙালির প্রিয় আমিষকে 'গন্দা খানা' বলা সেই বাগেশ্বর এবার রামচন্দ্রের সঙ্গে কৃষ্ণকে তুলনা করেন। ভগবান কৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ বলে তাঁর শারীরিক গঠন, ভঙ্গিমা ও বাঁশি বাজানো নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। আর এই বিতর্কিত মন্তব্যের সেই ভিডিও সামনে আসতেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে দেশ জুড়ে।
দু'মাস আগে বাঙালিকে দুর্গাপুজোর মাহাত্ম্য় বোঝাতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য় করেছিলেন। এবার একেবারে ভগবানে ভগবানেও ভেদাভেদ করে ফের বিতর্কে মধ্য়প্রদেশের বাগেশ্বর বাবা, অর্থাৎ ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। যিনি নিজের নামে কৃষ্ণ আর গায়ে স্বঘোষিত ধর্মগুরুর চাদর চড়িয়ে রাখেন, তিনি এবার বিভাজন করলেন ভগবান রাম এবং শ্রীকৃষ্ণের মধ্য়ে। সেই সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে অদভূত অঙ্গভঙ্গি। যে শ্রীকৃষ্ণকে আমরা ত্রিভঙ্গমুরারি হিসেবে পুজো করি, তাঁর বসার, দাঁড়ানোর ভঙ্গিমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই স্বঘোষিত বাবা। কিনতু প্রশ্ন উঠছে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য় করার পরও, কেন বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে কড়া ব্য়বস্থা নেওয়া হবে না? দেশজুড়ে সমালোচনা ও বিতর্কের পর, লোক দেখানো ক্ষমা চেয়েছেন বাগেশ্বর বাবা।
ঠিক কী মন্তব্য করেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ?
মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার করেরায় ‘রামকথা’ চলছিল। সেখানেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে কু-মন্তব্য করেন বাগেশ্বর বাবা। তিনি বলেন, “আমাদের ভগবান শ্রীরাম একদম সোজা। চলেন সোজা, বসেন সোজা। আর তোমাদের ভগবানের একটা ফটো দেখে নাও, বসে আছেন এভাবে, কোথাও এভাবে, তোমাদের ভগবান (শ্রীকৃষ্ণ) তো দাঁড়ালেও তিন জায়গায় বাঁকা। পায়ের ওপর পা। কোমর বাঁকা। ঘাঁড় বাঁকা। তারপর বাঁশি বাজান। এরকম বেঁকিয়ে। আর আমাদের ভগবান, অর্থাৎ শ্রীরাম দাঁড়ান একদম সোজা হয়ে। আমাদের ভগবানের নামও সোজা। চলনও সোজা, দেখতেও সোজা। তোমাদের ভগবানের নামও বাঁকা, চলন বাঁকা, দাঁড়ান বেঁকে। এখানে যত কৃষ্ণভক্ত বসে আছেন, আজ তোমাদের ঠাকুরের জয়জয়কার হচ্ছে। তোমাদের ঠাকুর শ্রীকৃষ্ণ কী করে? বাঁশি বাজায়। বাঁশি বাজানো কী বড় কথা! আমাদের এখানে এও (স্টেজে থাকা একজনকে দেখিয়ে) বাঁশি বাজায়। বাজাও বাজাও। নাও।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে কৃষ্ণের ভক্ত কতজন আছেন? আজ খারাপ লাগতে পারে আপনাদের। আমরা তো রামের ভক্ত। তোমাদেরটা বড্ড বেশি বাঁকা, নামটাও বাঁকা, কৃষ্ণ। ক-এর নীচে যে ঋ কার রয়েছে, সেটা বিপজ্জনক। কাঁটার মতো…মাছ ধরতে বঁড়শি নিয়ে যাওয়া হয়। কাঁটায় খাবারের টোপ দিয়ে মাছ ধরে। একবার আটকে গেলে আর বেরোতে পারে না মাছ। তোমাদের ভগবানের নামের নীচে যে কাঁটা রয়েছে, তাতে আটকে গেলেও বেরনো যায় না।”
ক্ষমা চেয়ে কী বললেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ ?
দেশজুড়ে সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হতেই এবার সাফাই গাইলেন বাবা বাগেশ্বর। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে লোক দেখানো ক্ষমা চাইলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমার কথায়, এই ব্য়াখ্য়ায় কারও মনে প্রশ্ন তৈরি হলে, কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আমি বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমাপ্রার্থী। ভাবের ঘোরে ভেসে গিয়ে, বিহ্বল হয়ে কিছু কথা বলি আমি। আমার মন্তব্যের ভুল অর্থ বের করা হচ্ছে। আমি নিজে ওঁর ভক্ত। ভগবতকথা যেভাবে সম্ভব আওড়াই, ভগবানের গুণগান করি। আমি কৃষ্ণবিরোধী নই। আমার নামেও তো ওঁর নাম আছে।”
Before You Go
Nepal Helicopter Collision: আকাশপথে ফের বিপদ, এবার ২টি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, মৃত্যু এক ভারতীয়র | ABP






















