ব্রিটেন সফরে ল্যাজেগোবরে ইউনূস! 'দেখা হবে না' বলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী, জুতো-ডিম ছুড়লেন প্রতিবাদীরা
ব্রিটেনের সংবাদপত্র ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’ সূত্রে দাবি, প্রধানমন্ত্রী স্টার্মারের এখন ইউনুসের সঙ্গে দেখা করার কোনও পরিকল্পনা নেই।

Muhammad Yunus UK Visit: ইউনূসের ব্রিটেন সফর চলাকালীন বড় কূটনৈতিক ধাক্কা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ইউনূসের সঙ্গে এখন দেখাই করতে চাইলেন না ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী । কিয়ের স্টার্মারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বয়ং ইউনূসই। ব্রিটেনের সংবাদপত্র ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’ সূত্রে দাবি, প্রধানমন্ত্রী স্টার্মারের এখন ইউনুসের সঙ্গে দেখা করার কোনও পরিকল্পনা নেই।
হাসিনা সরকারের আমলে ব্রিটেনে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের তদন্ত করছে বাংলাদেশ। তাই নিয়েই নাকি স্টার্মারের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন ইউনূস। সে-সব চেষ্টাই জলে। স্টার্মার এখন দেখা করতেই চান না তাঁর সঙ্গে। 'চুরি হওয়া টাকা ' নিয়ে এখন কোনও আলোচনায় আগ্রহী নয় ব্রিটেন, পরিষ্কার জানানো হয়েছে। যদিও, ইউনূস এই বিষয়ে বেশি ব্যাখ্যা দিতে চাননি।
চার দিনের ব্রিটেন সফরে রয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। বুধবার ইউনূস ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশের স্থানীয় মিডিয়াতে ইউনূসের এই ব্রিটেন সফর নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা ও প্রচার দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমেই দাবি করা হয়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন ইউনূস। কিন্তু স্বয়ং ইউনুসই একটি ব্রিটিশ সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, স্টার্মার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি। ইউনূস জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে স্টার্মারের সরাসরি কথা হয়নি। কিন্তু আশা রাখছেন, পাচার হওয়া চুরির টাকা ফেরত পেতে সাহায্য করবে ব্রিটেন।
বাংলাদেশে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ
ইউনূস ব্রিটেনে পৌঁছানো মাত্রই লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর এবং তাঁর হোটেলের বাইরে শত শত বিক্ষোভকারী প্রতিবাদ দেখান। এর আগে ব্রিটেনের মাটিতে বিক্ষোভের মুখে পড়েন বাংলাদেশের উপদেষ্টা সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার সকালে লন্ডনে তাঁর হোটেলের বাইরে কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে দেখা যায় লন্ডনে বসবাসকারী আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থকদের। বিক্ষোভের মুখে পড়েন ইউনূসের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমও। ব্যানারে লেখা স্লোগানে দাবি করা হয়, তাঁর আমলেই বাংলাদেশে অরাজকতা, মৌলবাদ, হিংসা চরমে উঠেছে। হত্যা করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের মানুষদের। সেই সঙ্গে দাবি করা হয়, হিন্দু পুরোহিত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক এবং ইউনূসকে জেলে পাঠানো হোক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভকারীরা ইউনূসের কনভয়ের উপর জুতো ও ডিম ছোড়ে। এঁদের মধ্যে এমন কিছু বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন যাঁরা ইউনূসের ক্ষমতায় আসার পর ব্রিটেনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। আওয়ামি লীগের ব্রিটেন শাখার তরফে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে একটি চিঠিও পাঠানো হয়। এই চিঠিতে ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে, তারা যেন ইউনুস প্রশাসনকে স্বীকৃতি না দেয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, এখন বাংলাদেশ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চরমে উঠেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, মেয়েদের ওপর নির্যাতন চলছে। এখন ইউনূসকে কোনও ধরনের সহযোগিতা করা বাঞ্ছনীয় নয়।





















