খামখেয়ালি আবহাওয়ায় গোটা বছরই থাকতে পারে ডেঙ্গির প্রকোপ! আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

কলকাতা: ক্যালেন্ডারে বসন্ত। কিন্তু ভোরের হাওয়ায় হিমেল ভাব! একটু চাদর মুড়ি দিয়ে তৃপ্তির ঘুম! কিন্তু একটা সতর্কবার্তা কানে গেলে, আপনার ঘুম ছুটে যেতে পারে! বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার আবহাওয়ার যা অবস্থা, তাতে বছরভর দাপিয়ে বেড়াতে পারে মারণ রোগ ডেঙ্গি! পরিবেশবিজ্ঞানী সুজীব করের মতে, এই আবহাওয়াই মশাদের জন্য অনুকূল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে, এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৫০ শতাংশ হলে, তা মশার বংশবৃদ্ধিতে সহায়ক। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে প্রবল বর্ষা যেমন কার্যত বিরল, তেমনই স্থায়ী হয়নি হাড়কাঁপানো ঠান্ডা! পুরসভার আশঙ্কা, পরিস্থিতির যদি বদল না হয়, তাহলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে মশককূল। পুরসভার সাম্প্রতিক একটি গবেষণা অনুযায়ী, মশারা ডিম পাড়ার পদ্ধতি বদলে নিয়েছে। শুধু পরিস্কার জমা জলই নয়, ডিম পাড়ার জন্য, মশারা বাতিল টায়ার, গাছের কোটরের মতো শুকনো জায়গা বেছে নিচ্ছে। কারণ, এই রকম জায়গায় ভবিষ্যতে জল জমার সম্ভাবনা রয়েছে। মশার ডিম ৩ বছর পর্যন্ত সতেজ থাকে। এই ৩ বছরের মধ্যে, সামান্য পরিমাণ জলও যদি সেখানে জমে, তাহলে সেই জলেই শুরু হয়ে যায় মশার বংশবিস্তার! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গি এবার বছরভর চোখ রাঙাতে পারে। তা থেকে বাঁচার উপায় কী? স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনেনর প্রধান বিভূতি সাহার পরামর্শ, ডেঙ্গি হলে প্রচুর তরল খান। প্লেটলেট নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না। ১০ হাজারের নিচে নামলে ভয়ের। তবে বসে নেই কলকাতা পুরসভাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে, আগেভাগে শুরু হয়ে গিয়েছে মশানিধন অভিযান। সব বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাবকে চিঠি দিচ্ছে তারা। এইসব প্রতিষ্ঠানকে বলা হবে, মশাবাহিত রোগ সনাক্ত করার জন্য রক্ত পরীক্ষার পর ৮ দিন নমুনা রেখে দিতে হবে। পুরসভা মনে করলে, ফের ওই রিপোর্ট পরীক্ষা করবে। ১২০০-র কাছাকাছি চিকিৎসকের কাছেও যাচ্ছে এই চিঠি। চিকিৎসকদের বলা হবে, মশাবাহিত রোগ সনাক্ত করার রক্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রে পুরসভার ক্লিনিককেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। রক্ত পরীক্ষার জন্য রোগীকে কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠালে, প্রয়োজনে সেই রিপোর্ট পুরসভা ফের পরীক্ষা করবে। এবারের মশা নিধন কর্মসূচির প্রথম দিনই, খাদ্যভবনের কাছে মিলেছে ডেঙ্গির মশার লার্ভা। এই অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে জানিয়েছে পুরসভা।।






















