এক্সপ্লোর
বাবরি ধ্বংসের ২৫ বছর: দেশজুড়ে অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ, বর্তমান সরকার চলছে ধর্মের ভিত্তিতে, নাম না করে বিজেপিকে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: তৃণমূলের সংহতি দিবস উপলক্ষে মেয়ো রোডের মঞ্চ থেকে আজ থেকে ২৫ বছর আগের বাবরি ধ্বংসে দিনের স্মৃতি রোমন্থন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অসহিষ্ণুতার কথা উল্লেখ করে নাম না করে আক্রমণ শানালেন বিজেপির উদ্দেশ্যে। সেদিনের অযোধ্যার সেই ঘটনার পর সারা দেশজুড়ে যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেকথাই মমতার আজকের বক্তব্যে বারংবার ফিরে এসেছে। ২৫ বছর এই দিনটিতে কলকাতায় আচমকা ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন বাম সরকারের প্রতিনিধিরা সেসময় রাইটার্স বিল্ডিং থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছিলেন বলে নিজের বক্তব্যে বলেন মমতা। সেসময় তিনি সুদর্শন বাবুর গাড়িতে কাকলি ঘোষদস্তিদারকে সঙ্গে নিয়ে শহরের পথে পথে ঘুরে বেরিয়েছেন, পুলিশকে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা নজরে এলেই জানিয়েছেন, জানান মমতা। মমতার দাবি, সেসময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে তিনি বলেছিলেন, কোনওরকমের সাহায্য লাগলে তিনি সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। কারণ, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, ওই ধরনের পরিস্থিতিতে কখনও রাজনীতি করা উচিত নয়। সেদিনের অস্থির অবস্থার কথা উল্লেখ করে, আজকের ভারতের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, চারিদিকে আজ অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ ছড়িয়ে পড়েছে। একটা দেশের সরকার চলছে ধর্মের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু সংবিধানে গণতন্ত্র মানে ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল। নাম না করে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারকে মমতার খোঁচা, অথচ এখন একটা দেশের সরকার ফর দ্য রিলিজিওন, বাই দ্য রিলিজিওন, অফ দ্য রিলিজিওন, এই মতাদর্শে চলছে। এই সরকারের হাতিয়ার অসহিষ্ণুতা। প্রতিবাদ করলেই মেরে ফেলা হচ্ছে সাংবাদিকদের। মুখ খুললেই সুদীপ-তাপস-মদনদের মতো ভরে দেওয়া হচ্ছে জেলে।কৃষি-শিল্পে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আত্মহত্যা করেছেন ১২ হাজারের বেশি কৃষক। ভয় দেখানোয় চলে গিয়েছেন ৭৫ হাজার শিল্পপতি। এরা কী দেশ চালানোর যোগ্য? প্রশ্ন মমতার। মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দাঙ্গার থেকে বড় শত্রু কিছু নেই। দেশে দাঙ্গা তিনি কোনওমতেই করতে দেবেন না। ভারত ১০০ কোটির দেশ। একটা সরকারের কর্মসূচি কখনও ধর্ম নিয়ে হতে পারে না। মানুষকে নিয়ে হয়। একজন হিন্দু বলে অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না। সংবিধান বলছে, আমরা ধর্মনিরপক্ষে প্রজাতন্ত্র। এর মানে অন্য ধর্মকে...সরকারি পরিষেবা মানুষকে পৌঁছে দেওয়া কাজ। কিন্তু এই সরকার অসহিষ্ণু। আর এই ভাগাভাগির শুরু ২৫ বছর আগে। কে কী ভাববে, কে কী খাবে না, তাও ঠিক করে দেবে এই সরকার। গর্ভবতীদের ডিম খেতে বারণ করা হচ্ছে! কী খাবে তাঁরা! শুধু ধর্মের নামে সুড়সুড়ি। এ রাজ্যে মুসলিম, তফসিলি, আদিবাসীদের জন্য কাজ তিনি করবেনই, সেটাকে তোষন বলা হলে তাঁর কিছু যাবে আসবে না। দেশের নেতা তাঁরাই হন, যাঁরা ভাগাভাগি করেন না। দেশের নেতা হতে গেলে রাজ্যগুলিকে তাদের মতো করে জানতে হবে।ক্ষমতা রাখতে গেলে, প্রত্যেকের খেয়াল রাখতে হবে, মত মমতার।
খবর (News) লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য দেখুন এবিপি লাইভ। ব্রেকিং নিউজ এবং ডেলি শিরোনাম দেখতে চোখ রাখুন এবিপি আনন্দ লাইভ টিভিতে
আরও পড়ুন
POWERED BY
সেরা শিরোনাম
ব্যবসা-বাণিজ্যের
ব্যবসা-বাণিজ্যের
ব্যবসা-বাণিজ্যের
ব্যবসা-বাণিজ্যের






















