Supreme Court: 'যুবকদের সমালোচনা করিনি', বিতর্কিত 'আরশোলা' মন্তব্যের ব্যাখ্যা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, 'গতকাল একটি তুচ্ছ মামলার শুনানির সময় আমার মৌখিক পর্যবেক্ষণকে সংবাদমাধ্যমের একাংশ যেভাবে ভুল ভাবে উদ্ধৃত করেছে, তা দেখে আমি ব্যথিত।

নয়া দিল্লি: ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত 'আরশোলা' এবং 'পরজীবী' শব্দ দুটি ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ে তাঁর মন্তব্য স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তিনি কখনই দেশের যুবকদের উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেননি।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, 'গতকাল একটি তুচ্ছ মামলার শুনানির সময় আমার মৌখিক পর্যবেক্ষণকে সংবাদমাধ্যমের একাংশ যেভাবে ভুল ভাবে উদ্ধৃত করেছে, তা দেখে আমি ব্যথিত। আমি বিশেষভাবে সমালোচনা করেছিলাম তাঁদের, যারা ভুয়ো ও জাল ডিগ্রির সাহায্যে আইনের মতো পেশায় রয়েছে। একই ধরনের মানুষ সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য সম্মানজনক পেশাতেও ঢুকে পড়েছে, তাই তারা পরজীবীর মতো। আমি দেশের যুব সমাজের সমালোচনা করেছি, এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।'
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন যে, তিনি ভারতের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে গর্ববোধ করেন এবং তাদেরকেই জাতির প্রকৃত শক্তি বলে মনে করেন। প্রধান বিচারপতি আরও জানান, তিনি দেশের যুব সমাজ নিয়ে গর্বিত এবং তাঁদের উন্নত ভারতের স্তম্ভ বলে মনে করেন। সূর্য কান্তের কথায়, 'বর্তমান ও ভবিষ্যতের মানবসম্পদ নিয়ে আমি শুধু গর্বিতই নই, ভারতের প্রতিটি যুবক-যুবতী আমাকে অনুপ্রাণিত করে।
বিতর্কটি কী?
শুক্রবার, ১৫ মে, আদালতের একটি শুনানির সময় এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়, শুনানির সময়ে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ আবেদনকারী আইনজীবীকে সিনিয়র অ্যাডভোকেটের মর্যাদা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত আগ্রহ দেখানোর কারণে ভর্ৎসনা করে এবং তাঁর আচরণ, এমনকী ফেসবুকে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। শুনানির সময় বিচারপতি সূর্যকান্ত মন্তব্য করেন যে, সিনিয়র অ্যাডভোকেট উপাধিটি আদালতের কাছে দাবি করার মতো কোনো আলঙ্কারিক তকমা নয়।
জাল ডিগ্রি ব্যবহার করে আইন পেশায় প্রবেশ করা ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ারও সমালোচনা করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ আবেদনকারীকে বলে, 'সারা বিশ্বের সবাই সিনিয়র (অ্যাডভোকেট) হওয়ার যোগ্য হতে পারেন, কিন্তু অন্তত আপনি এই মর্যাদার অধিকারী নন।'
এই শুনানির সময়ই প্রধান বিচারপতি এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন যা পরবর্তীতে সমালোচনার জন্ম দেয়। তিনি বলেছিলেন যে সমাজের কিছু যুবক “আরশোলার মতো” আচরণ করে।
এজলাসে বক্তব্য রাখার সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে বলতে শোনা যায়, “এমন কিছু যুবক রয়েছে যারা আরশোলার মতো। যারা কোথাও কোনও চাকরি পায় না এবং নিজেদের পেশাতেও কোনও জায়গা তৈরি করতে পারে না। এদের মধ্যে কেউ সাংবাদিক হয়ে যায়, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া সামলায়, কেউ আবার আরটিআই কর্মী বা অন্য কোনও ধরনের মানবাধিকার কর্মী সেজে বসে। আর এরা সবাই মিলে তখন সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে।” প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য দেশের আইনি ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।





















