PM Narendra Modi News: নেহরুর ৬২ বছরের রেকর্ড ভেঙে নয়া ইতিহাস গড়ার পথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
PM Modi: ভারতের রাজনীতিতে তৈরি হতে চলেছে এক নতুন ইতিহাস। আগামী ১০ জুন এমন একটি রেকর্ড গড়তে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi, যা গত ৬২ বছর ধরে ছিল Jawaharlal Nehru-র দখলে। কী সেই রেকর্ড?

নয়াদিল্লি: আগামী ১০ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ১২ বছর কার্যকাল পূর্ণ করছেন নরেন্দ্র মোদি। এই দীর্ঘ শাসনকালে তাঁর সরকার দেশের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে একাধিক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আগামী ১০ই জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর (Jawaharlal Nehru) একটানা সবচেয়ে দীর্ঘ সময় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ডটি স্পর্শ ও অতিক্রম করতে চলেছেন। নেহরু ১৯৫২ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে একটানা দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন (এর আগের ১৯৪৭-৫২ সময়কালটি ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার)।
বিগত ১২ বছরে ভারতের শাসনব্যবস্থায় এক বিশাল রূপান্তর ঘটেছে, যার মূল কেন্দ্রে রয়েছে দরিদ্র এবং বঞ্চিত মানুষের কল্যাণ। মোদি সরকার সব সময় নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে যেন উন্নয়নের সুফল সমাজের একেবারে শেষ প্রান্তে থাকা মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়। এই সময়কালে জন ধন যোজনার অধীনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটির গণ্ডি পার করেছে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে সরাসরি জনগণের অ্যাকাউন্টে মোট ৩৪ লক্ষ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে, যা সরকারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়িয়ে প্রায় ২.৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PMAY) আওতায় নতুন করে ২.৩৫ লক্ষ বাড়ি তৈরির অনুমোদন এবং জল জীবন মিশনের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বসূরি বা সমসাময়িক বিশ্বনেতাদের তুলনায় প্রধানমন্ত্রী মোদির কাজের ধরণ সম্পূর্ণ আলাদা। যেখানে জওহরলাল নেহরুকে 'জাতি-গঠনকারী', মার্গারেট থ্যাচারকে 'বাজার সংস্কারক', নেলসন ম্যান্ডেলাকে 'মেলবন্ধনকারী' এবং লি কুয়ান ইউ-কে 'উন্নয়নমূলক আধুনিকীকরণকারী' হিসেবে গণ্য করা হয়; সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে একজন 'সভ্যতার আধুনিকীকরণকারী' (Civilizational Moderniser) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বিশ্লেষক মনে করেন, মোদির এই নেতৃত্ব ভারতকে এক 'দ্বিতীয় সাধারণতন্ত্র' বা 'সেকেন্ড রিপাবলিক'-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনশৈলী কেবল প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি দেশের শাসনব্যবস্থাকে একটি অংশগ্রহণমূলক জাতীয় পুনরুজ্জীবনের প্রকল্পে পরিণত করেছেন। যেখানে দেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের পরিচয়, উদ্দেশ্য এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার এক অভিন্ন মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে অংশ নিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৪,৩৯৯ দিনেরও বেশি সময় পার করে নরেন্দ্র মোদি আজ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও দীর্ঘস্থায়ী কীর্তি স্থাপন করতে চলেছেন।





















