Jagannath Rath Yatra 2026: ‘ইচ্ছেমতো দিনে রথযাত্রা নয়’, ISKCON-কে কড়া বার্তা পুরীর গজপতি মহারাজার
Jagannath Rath Yatra 2026: নির্ধারিত তিথির বাইরে রথযাত্রা আয়োজন নিয়ে ISKCON-কে আপত্তি জানালেন পুরীর গজপতি মহারাজা দিব্যসিংহ দেব। জানুন কী নিয়ে বিতর্ক।

নির্ধারিত তিথির বাইরে রথযাত্রার আয়োজন করা যাবে না - বিশ্বজুড়ে রথযাত্রা আয়োজনের ক্ষেত্রে হিন্দু ধর্মশাস্ত্র এবং প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে চলার জন্য ISKCON-কে অনুরোধ জানালেন পুরীর গজপতি মহারাজা দিব্যসিংহ দেব। পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দির পরিচালন কমিটির চেয়ারম্যানও তিনি।গজপতি মহারাজার অভিযোগ, শাস্ত্রনির্ধারিত তিথির বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ISKCON রথযাত্রার আয়োজন করছে। এর ফলে ভগবান জগন্নাথের অসংখ্য ভক্তের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
এই বিষয়ে ISKCON Governing Body Commission বা GBC-র চেয়ারম্যান মধুসেবিতা দাস প্রভুকে চিঠি পাঠিয়েছেন গজপতি মহারাজা। মায়াপুরে পাঠানো ওই চিঠিতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ISKCON-এর নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ওই সিদ্ধান্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে রথযাত্রা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি।
১৬ জুলাই পুরীর রথযাত্রা, তার আগেই বিদেশে উৎসব
২০২৬ সালে পুরীর মূল রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৬ জুলাই। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা পালিত হয়। কিন্তু অভিযোগ, পুরীর রথযাত্রার নির্ধারিত দিনের আগেই বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ISKCON রথযাত্রার আয়োজন করেছে। কেনিয়ার নাইরোবিতে সম্প্রতি রথযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। তার আগে ২১ জুন লন্ডনে, ১৪ জুন নিউ ইয়র্ক সিটিতে এবং ৫ জুলাই সিডনিতেও রথযাত্রার শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ধর্মীয় তিথির অনেক আগে এই ধরনের আয়োজন নিয়েই আপত্তি তুলেছেন পুরীর গজপতি মহারাজা।
‘শাস্ত্রবিরুদ্ধ তারিখে রথযাত্রা নয়’
গজপতি মহারাজা দিব্যসিংহ দেবের বক্তব্য, রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি শোভাযাত্রা নয়। এটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিধি, তিথি এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি উৎসব। তাই সুবিধামতো যে কোনও দিনে রথযাত্রা আয়োজন করা উচিত নয়। তাঁর দাবি, ধর্মে রথযাত্রা পালনের নির্দিষ্ট দিন উল্লেখ করা হয়েছে। সেই নিয়ম উপেক্ষা করে বিভিন্ন দিনে উৎসবের আয়োজন করা হলে তা জগন্নাথ সংস্কৃতি এবং প্রাচীন ধর্মীয় রীতির পরিপন্থী।
স্নানযাত্রার তারিখ নিয়েও আপত্তি
শুধু রথযাত্রাই নয়, ISKCON-এর স্নানযাত্রা পালনের তারিখ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন গজপতি মহারাজা। এর আগে ISKCON পুরীর মন্দির প্রশাসনকে আশ্বাস দিয়েছিল যে, শুধুমাত্র জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমাতেই স্নানযাত্রা পালন করা হবে। কিন্তু অভিযোগ, বিশ্বের বিভিন্ন শহরে অন্য তারিখেও এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ২০২৬ সালে স্নান পূর্ণিমা পালিত হয়েছে ২৯ জুন। নিজের আপত্তির পক্ষে গজপতি মহারাজা ১ মে-র পর বিভিন্ন জায়গায় আয়োজিত স্নানযাত্রার একটি তালিকাও চিঠির সঙ্গে পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিশ্বজুড়ে ISKCON-এর সমস্ত মন্দিরে শুধুমাত্র জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমাতেই স্নানযাত্রা পালনের ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
মধ্যপ্রদেশের ৬৬ জায়গায় রথযাত্রার পরিকল্পনা নিয়েও আপত্তি
মধ্যপ্রদেশে ISKCON উজ্জয়িনীর প্রস্তাবিত রথযাত্রা কর্মসূচি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন পুরীর গজপতি মহারাজা। অভিযোগ, ১৬ জুলাই থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যের ৬৬টি জায়গায় রথযাত্রার আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গজপতি মহারাজার বক্তব্য, ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী রথযাত্রা একটি নয় দিনের উৎসব। আষাঢ় শুক্লা দ্বিতীয়া থেকেই এই উৎসবের সূচনা হয়। তাই বিভিন্ন দিনে আলাদা আলাদা জায়গায় ইচ্ছেমতো রথযাত্রা আয়োজন করা শাস্ত্রসম্মত নয় বলে তাঁর দাবি।
‘রথযাত্রার দিন নির্ধারণ করেছিলেন স্বয়ং জগন্নাথ’
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে স্কন্দ পুরাণের উল্লেখ করেছেন গজপতি মহারাজা। তাঁর দাবি, মহর্ষি বেদব্যাস রচিত স্কন্দ পুরাণে বলা হয়েছে, স্বয়ং ভগবান জগন্নাথ স্নানযাত্রা এবং রথযাত্রার দিন নির্ধারণ করেছিলেন। তাই ইচ্ছেমতো তারিখে এই উৎসব আয়োজন করা প্রাচীন ঐতিহ্য এবং শাস্ত্রীয় বিধানের বিরোধী বলে মনে করেন তিনি।
কী যুক্তি ISKCON-এর?
পুরীর মন্দির প্রশাসনের আগের আপত্তির জবাবে ISKCON জানিয়েছিল, বিশ্বের সমস্ত দেশে একই দিনে রথযাত্রা আয়োজন করা সব সময় সম্ভব হয় না। বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া, সরকারি নিয়ম এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি আলাদা। রাশিয়ার উদাহরণ দিয়ে ISKCON-এর তরফে বলা হয়েছিল, সেখানকার আবহাওয়া, সরকারি বিধিনিষেধ এবং স্থানীয় পরিস্থিতি অনেক সময় শাস্ত্রে নির্ধারিত তারিখে রথযাত্রা আয়োজনের পক্ষে অনুকূল থাকে না। এই কারণেই বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী রথযাত্রার দিন নির্ধারণ করতে হয় বলে ISKCON-এর যুক্তি।
নতুন নয় রথযাত্রার তারিখ নিয়ে বিতর্ক
রথযাত্রার তারিখ নিয়ে পুরীর গজপতি মহারাজা এবং ISKCON-এর মধ্যে মতপার্থক্য নতুন নয়। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও বিদেশে রথযাত্রা আয়োজনের ক্ষেত্রে পুরীর ধর্মীয় পঞ্জিকা মেনে চলার জন্য ISKCON-কে অনুরোধ জানিয়েছিলেন গজপতি মহারাজা। ২০২৬ সালে পুরীর মূল রথযাত্রার কয়েক সপ্তাহ আগেই বিভিন্ন দেশে রথযাত্রা আয়োজনের পর বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে ISKCON-কে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন পুরীর গজপতি মহারাজা। এদিকে পুরীতে জগন্নাথ - বলরাম - সুভদ্রার রথ নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ২২০ জন ছুতোর, সহকারী এবং চিত্রশিল্পী দিনরাত কাজ করে রথ নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করছেন। ১৬ জুলাইয়ের মহাযাত্রার অপেক্ষায় এখন অগণিত জগন্নাথ ভক্ত।























