Supreme Court: ‘বিচারকরা লোভের শিকার হলে, প্রলোভনে পা দিলে…’, তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির
Justice BV Nagarathna: লোভের শিকার হওয়া বিচারকদের বাদ দেওয়ার কথা বললেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরত্ন। CJI সূর্যকান্তও উপস্থিত ছিলেন ওই অনুষ্ঠানে।

নয়াদিল্লি: বিচারকদের 'লোভের শিকার হওয়া', 'প্রলোভনের ফাঁদে পা' দেওয়া নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টর বিচারপতি বিভি নাগরত্ন। জানালেন, দ্বিতীয় জাতীয় বিচারবিভাগীয় কমিশন বেতনবৃদ্ধি, ভাতা সংক্রান্ত আবেদন মেনে নেওয়ার পরও বিচারপতিরা যদি নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপনে অক্ষম হন, লোভের শিকার হন, সেক্ষেত্রে তাঁদের বিচারব্যবস্থা থেকে 'বাদ দিয়ে দেওয়া' উচিত। (Justice BV Nagarathna)
২২তম Biennial State Level Conference of Judicial Officers অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করার সময় এই মন্তব্য করেন বিচারপতি নাগরত্ন। তিনি বলেন, “জেলা আদালতের বিচারকদের বেতন এবং ভাতা যথেষ্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। বেতন কমিশনের সুপারিশ মেনে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তার পরও বিচারকরা যদি নিজেদের আয়ের মধ্যে জীবন নির্বাহ করতে না পারেন, লোভের শিকার হন, প্রলোভনের ফাঁদে পা দেন, তাঁদের বিচারব্যবস্থা থেকে বের করে দিতে হবে।” (Supreme Court)
বিচারপতি নাগরত্ন আরও বলেন, “আমাকে বলতেই হচ্ছে, বাইরে থেকে বা সতীর্থদের কাছ থেকে যতই চাপ আসুক, বিচারকদের সবকিছু থেকে মুক্ত থাকতে হবে। সাহস সঞ্চয় করতে হবে, স্বাবলম্বী হতে হবে তাঁদের। সিদ্ধান্তগ্রহণের সময় কোনও রকম সমন্বয় থাকতে পারে না। একজন বিচারকের কলুষিত সিদ্ধান্ত, সেই বিচারক তো বটেই, গোটা বিচারব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করে। তাই আবেদনকারী সাধারণ মানুষ এবং দেশের প্রতি আমাদের যে কর্তব্য, তা অনুধাবন করতে হবে আমাদের, সচেতন হতে হবে।"
জেলা আদালতের বিচারকরা যাতে সুরক্ষিত বোধ করেন, হাইকোর্টকে তা দেখতে হবে বলেও জানান বিচারপতি নাগরত্ন। পদোন্নতি, পোস্টিং এবং বদলির ক্ষেত্রেও সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং সংবেদনশীলতা অত্যন্ত জরুরি, যাতে জেলা আদালতের বিচারকরা স্বাধীন থাকতে পারেন এবং তাঁদের মনোবল অক্ষুণ্ণ থাকে।” জেলা আদালতে শুধুমাত্র মহিলার সংখ্য়া বৃদ্ধি করলেই হবে না, তাঁদের নিরাপ্ততা, কাজের পরিবেশের উন্নতি ঘটানোও প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
যে অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন বিচারপতি নাগরত্ন, তাতে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া, বিচারপতি অরবিন্দ কুমার, কর্নাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বিভু ভাকরু এবং আরও অনেকে। এর আগে, অতি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও মুখ খুলতে শোনা যায় বিচারপতি নাগরত্নকে। নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের উপর নির্ভরশীল হলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।























