ISKCON : 'পুরীর ঐতিহ্যে আঘাত, মহারাজকে অপমান' ! এবার ওড়িশায় ইস্কনে তালা ঝোলানোর হুমকি, কারা এই কলিঙ্গ সেনা?
ইসকনকে কড়া হুঁশিয়ারি কলিঙ্গ সেনার! 'রথযাত্রার প্রথা না মানলে মন্দিরে তালা'

ভুবনেশ্বর: রথযাত্রাকে ঘিরে ধুন্ধুমার তর্কাতর্কি পুরী জগন্নাথ ধামের ট্রাস্ট ও ইস্কনের। এবার আগুনে ঘি ঢালল কলিঙ্গ সেনার হুঁশিয়ারি। জগন্নাথদেবের রথযাত্রার দিনক্ষণকে কেন্দ্র করে ইস্কন (ISKCON)-এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কলিঙ্গ সেনা। সংগঠনের অভিযোগ, প্রচলিত রীতি ও তিথি অনুসরণ না করে ভিন্ন দিনে রথযাত্রার আয়োজন করে জগন্নাথ সংস্কৃতি ও ওড়িশা ঐতিহ্যের অবমাননা করা হচ্ছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ভুবনেশ্বরে ইস্কন মন্দিরের সামনে বিক্ষোভও দেখায় কলিঙ্গ সেনার কর্মীরা। তাদের দাবি, ওড়িশার মাটিতে রথযাত্রা আয়োজন করতে হলে শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের প্রচলিত রীতি-নীতি ও নির্ধারিত তিথি মেনেই তা করতে হবে। অন্যথায় ইস্কনের রথযাত্রার বিরোধিতা করা হবে।
কলিঙ্গ সেনার দাবি, তারা ওড়িশার সংস্কৃতি, জগন্নাথদেবের ঐতিহ্য এবং শ্রীমন্দিরের শতাব্দীপ্রাচীন প্রথা রক্ষার জন্য আন্দোলন করছে। সংগঠনের মতে, রথযাত্রার নির্দিষ্ট দিন পরিবর্তন করলে ভক্তদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ইস্কনের বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় পরিস্থিতি, প্রশাসনিক অনুমতি, আবহাওয়া এবং ভক্তদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই রথযাত্রার দিন নির্ধারণ করা হয়। বিদেশে বা বিভিন্ন শহরে সব সময় পুরীর নির্ধারিত তিথিতে উৎসব আয়োজন করা সম্ভব হয় না বলেই তারা বিকল্প দিন বেছে নেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওড়িশায় রথযাত্রা উপলক্ষে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
ভুবনেশ্বরের সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন কলিঙ্গ সেনা প্রকাশ্যে ইস্কনকে সতর্ক করে জানিয়েছে, জগন্নাথদেবের রথযাত্রা শাস্ত্রবিরুদ্ধ বা প্রচলিত তিথির বাইরে আয়োজন করা হলে তার কড়া বিরোধিতা করা হবে। সংগঠনের দাবি, জগন্নাথ সংস্কৃতি ও ওড়িয়া ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থেই তারা এই অবস্থান নিয়েছে। শুক্রবার ভুবনেশ্বরে ইস্কন মন্দিরের সামনে বিক্ষোভ দেখান কলিঙ্গ সেনার কর্মীরা। সংগঠনের সভাপতি হেমন্ত রথ অভিযোগ করেন, পুরীর গজপতি মহারাজা দিব্যসিংহ দেব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শাস্ত্রসম্মত তিথি অনুযায়ী রথযাত্রা পালনের যে আবেদন করেছিলেন, ইস্কন তা মানেনি।
হেমন্ত রথের দাবি, আগামী ১৬ জুলাই পুরীর রথযাত্রায় ইস্কনের সদস্যদের অংশগ্রহণ রুখে দেওয়ার চেষ্টা করবে তাদের সংগঠন। পাশাপাশি, ভুবনেশ্বরে দীর্ঘদিন ধরে ইস্কনের উদ্যোগে যে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে,তা বন্ধ করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গজপতি মহারাজা দিব্যসিংহ দেবকে অসম্মান করেছে ইস্কন। জগন্নাথদেবের 'প্রথম সেবায়েত' হিসেবে গজপতি মহারাজার মর্যাদা রয়েছে। সেই কারণেই ইস্কনের ওড়িশায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তাদের স্পষ্ট বার্তা, যারা জগন্নাথ সংস্কৃতিকে সম্মান করে না, তাদের পুরীতে কোনও স্থান নেই। প্রয়োজনে ওড়িশাজুড়ে ইস্কনের সমস্ত কার্যকলাপের বিরোধিতা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এমনকি, নির্ধারিত তিথির বাইরে রথযাত্রা আয়োজন বন্ধ না করলে ওড়িশার বিভিন্ন ইস্কন মন্দির ঘেরাও এবং তালাবন্দি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ এলাকায় ইস্কনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কলিঙ্গ সেনা। তবে ভুবনেশ্বরের ইস্কন শাখার দাবি, তারা পুরী শ্রীমন্দিরের রীতি মেনেই রথযাত্রার আয়োজন করে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন দেশে স্থানীয় পরিস্থিতি, প্রশাসনিক অনুমতি এবং ভক্তদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রথযাত্রার দিন নির্ধারণ করা হয় বলে আগেই জানিয়েছে ইস্কন। এই ঘটনাকে ঘিরে রথযাত্রার আগে ওড়িশায় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।























