কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে ধুন্ধুমার ! শ্রাবণ সোমবারে শর্টকাটে দর্শনের জন্য মোটা টাকা দিয়ে প্রতারিত মহিলা
প্রতারণার করে আদায় করা ৪,০০০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। তুলে দেওয়া হয় অভিযোগকারিণীর হাতে।

বারাণসী : চলছে শ্রাবণ মাস, শিবক্ষেত্রগুলিতে উপচে পড়া ভিড়। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে ভিড় জমাচ্ছেন মহাদেবের মন্দিরগুলিতে। এরই মাঝে ধুন্ধুমার কাণ্ড কাশী বিশ্বনাথের মন্দিরে। ভুয়ো পুরোহিতের খপ্পরে পড়ে বড় লোকসান হল দক্ষিণ ভারতীয় এক মহিলার। অভিযোগ পুরোহিত সেজে, মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওই ব্য়ক্তি।
সোমবার কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে উপচে পড়া ভিড়। এদিনই ঘটল ওই অপ্রীতিকর ঘটনা। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে এক ভুয়ো পুরোহিতের ছলচাতুরির শিকার হলেন এক মহিলা। তিনি কর্নাটকের বাসিন্দা। তবে দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে টাকা উদ্ধার করেছএ পুলিশ। পাশাপাশি দর্শনেরও ব্যবস্থা করে দিল বারাণসী পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, কর্নাটকের মাইসুরুর বাসিন্দা নন্দিনী তাঁর স্বামীর সঙ্গে এসেছিলেন দেবদর্শনে। সঙ্গে ছিলেন আরও দুই তীর্থযাত্রী। শ্রাবণে মন্দিরে উপচে পড়া ভিড়। দূরদূরান্ত থেকে এসেছিন বহু মানুষ। সোমবার মন্দিরে প্রচণ্ড ভিড়। অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণ। সেই সময়ই এগিয়ে আসেন এক ব্যক্তি । নিজেকে পুরোহিত পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, তিনিই দ্রুত দর্শনের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। তবে লাগবে বাড়তি টাকা !
ওই ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে নন্দিনী চার জনের দর্শনের জন্য অনলাইনে ৪,০০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরই অভিযুক্ত উধাও হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে নন্দিনী সিগরা থানার ইন্সপেক্টর শিবকান্ত মিশ্রের কাছে অভিযোগ জানান।পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয়। ইন্সপেক্টর শিবকান্ত মিশ্র দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। তখনই পুলিশকর্মীরা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন। সেখানে দেখা যায়, এক ব্যক্তি নন্দিনী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। অভিযোগকারিণীই বলেন, এই সেই লোক ! এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করে ফেলে। তার নাম বসন্ত পাণ্ডে। এরপর তার কাছ থেকে প্রতারণার করে আদায় করা ৪,০০০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। তুলে দেওয়া হয় অভিযোগকারিণীর হাতে।
পরে ইন্সপেক্টর শিবকান্ত মিশ্র জানান, শুধু টাকা উদ্ধার করাই নয়, যাতে ভক্তরা কোনও অসুবিধা ছাড়াই তাঁদের তীর্থযাত্রা করতে পারেন, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে । শ্রাবণ মাসে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার সুযোগ নিয়ে কয়েকটি প্রতারণাচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এই সময়েই। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে, দর্শনের নামে অতিরিক্ত সুবিধা বা শর্টকাটের কথা কেউ বললে, ফাঁদে পা দেবেন না।























