Kedarnath High Alert: কেদারনাথে হাই অ্যালার্ট, পাহাড় থেকে নামছে মাটির স্রোত, মন্দাকিনীর গ্রাসে রাস্তা-গ্রাম, বিছিন্ন যোগাযোগ
মন্দাকিনী নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় সিল্লি ও অগস্ত্যমুনি এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রবল বর্ষণ, পাহাড় ধস এবং উত্তাল মন্দাকিনী নদীর জোড়া আঘাতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডের কেদারঘাটি।

কলকাতা: ২০১৩-র ১৫ জুন রাতে কেদারনাথে বিপর্যয় আজও টাটকা। এক যুগ পেরলেও সুন্দর সাজানো ধাম কীভাবে মূহূর্তে পরিণত হয়েছিল ধ্বংসস্তূপে, তা আজও ভোলেনি কেউ। পুণ্যভূমিতে গণকবর তৈরি করেছিল খেয়ালি-প্রকৃতি। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে এবার সেই আশঙ্কা তৈরি করছে।
প্রবল বর্ষণ, পাহাড় ধস এবং উত্তাল মন্দাকিনী নদীর জোড়া আঘাতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডের কেদারঘাটি। টানা কয়েক দিনের মুষলধারে বৃষ্টিতে মন্দাকিনী নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপরে পৌঁছে গিয়েছে। একাধিক জায়গায় ভূমিধসের জেরে কেদারনাথ জাতীয় সড়ক এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির জেরে গোটা জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অগস্ত্যমুনির সিল্লি এলাকায়। সেখানে মন্দাকিনীর প্রবল স্রোতে কেদারনাথ জাতীয় সড়কের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় জাতীয় সড়কের নির্মাণকাজের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, কীভাবে এত সহজে রাস্তার অংশ ভেঙে গেল, তা খতিয়ে দেখতে প্রযুক্তিগত তদন্ত করা হোক।
এদিকে, মন্দাকিনী নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় সিল্লি ও অগস্ত্যমুনি এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নদীর তীব্র ভাঙন এবং অব্যাহত বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের ঝুঁকি বেড়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কেদারঘাটির অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ তিমলি-বড়মা ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় টানা দ্বিতীয় দিনও বন্ধ রয়েছে লিঙ্ক মোটর রাস্তা। পাহাড় থেকে অবিরাম ধসে পড়ছে পাথর, কাদা ও বিশাল বোল্ডার। এর ফলে প্রায় ৮০টি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রাস্তা বন্ধ থাকায় রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, পড়ুয়াদের স্কুলে যাতায়াত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া—সব ক্ষেত্রেই চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ২০১৩ সালের কেদারনাথ বিপর্যয়ের পর থেকেই এই এলাকা নিয়মিত ভূমিধস ও মন্দাকিনী নদীর ভাঙনের শিকার হচ্ছে। সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য উত্তরাখণ্ডের লোক নির্মাণ দফতর (PWD) প্রায় ২৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রাজ্য সরকারের কাছে পাঠালেও এখনও সেই অর্থ অনুমোদিত হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষাতেই একই ধরনের বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটছে এবং হাজার হাজার গ্রামবাসীর জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অবিরাম বৃষ্টি, উত্তাল মন্দাকিনী, ভেঙে পড়া জাতীয় সড়ক এবং বারবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আবারও প্রমাণ করল, হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল কতটা দুর্যোগপ্রবণ। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।























