এক্সপ্লোর
খুন করেছেন ৬ জনকে! স্বীকার মহারাষ্ট্রের ‘ডক্টর ডেথ’-এর

পুণে: ‘ডক্টর ডেথ’-কে নিয়ে তোলপাড় মহারাষ্ট্র। এক অঙ্গনওয়াড়ি মহিলাকে হত্যা করার অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া মহারাষ্ট্রের এক চিকিৎসকের চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি – আরও পাঁচজনকে একই কায়দায় হত্যা করেছে সে। যার পরই সিরিয়াল কিলার ওই চিকিৎসককে ‘ডক্টর ডেথ’ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। ঘটনায় প্রকাশ, গত সপ্তাহে ৪৭ বছরের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী মঙ্গলা জেধে-র হত্যার অভিযোগে গত ১১ তারিখ গ্রেফতার হয় সাতারা জেলার বছর বেয়াল্লিশের চিকিৎসক সন্তোষ পোল। জেরায় এরপর সন্তোষ যা বলে, তাতে পুলিশের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! সে জানায়, ২০০৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সে আরও পাঁচজনকে হত্যা করেছে। এঁদের মধ্যে চারজন মহিলা। সেই সূত্র ধরে, পুলিশ সন্তোষের খামার বাড়ি থেকে চারটি পচা-গলা দেহ উদ্ধার করে। আদালতে পেশ করা হলে সন্তোষকে আগামী ১৯ তারিখ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য শুরু হয়ে গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, নিজের সহকারী নার্স জ্যোতি মান্দ্রেকে সঙ্গে নিয়ে মহারাষ্ট্র পূর্ব প্রাথমিক শিক্ষা সেবিকা সঙ্ঘের সভানেত্রী জেধেকে প্রথমে অপহরণ করে। সেখান থেকে নিজের ফার্মহাউসে নিয়ে গিয়ে ইঞ্জেকশনের ওভারডোজ দিয়ে তাঁকে হত্যা করে পাশেই কবর দিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। কিন্তু, কেন এই হত্যা? পুলিশের দাবি, জেরায় সন্তোষ জানিয়েছে, সন্তোষের অসামাজিক কার্যকলাপ জেনে ফেলেছিল মঙ্গলা। সেগুলি সে ফাঁস করার হুমকিও দিচ্ছিল। তাই ‘কাঁটাকে’ সরিয়ে ফেলতে মনস্থির করে সন্তোষ। সেইমতো, জ্যোতিকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলাকে হত্যা করে ফার্মহাউসে কবর দেয় দুই অভিযুক্ত। কী করে পুলিশ সন্তোষের নাগাল পেল? অন্তর্ধানের তদন্ত শুরু করতে গিয়ে মঙ্গলার মোবাইলের কললিস্ট খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, উধাও হওয়ার আগে তিনি শেষবার সন্তোষের সঙ্গে যোগাযেগ রেখেছিলেন। এরপর প্রথমে জ্যোতিকে পাকড়াও করে পুলিশ। সে হত্যার কথা স্বীকার করে। তবে, পলাতক ছিল সন্তোষ। অবশেষে ১১ তারিখ পুলিশের জালে ধরা দেয় ‘ডক্টর ডেথ’। সাতারার পুলিশ সুপার সন্দীপ পাতিলের দাবি, সন্তোষ জানিয়েছে, মূলত যৌন লালসা এবং অর্থ ও সোনার লোভেই সে এই হত্যাগুলি করেছে। এর আগে যে পাঁচজনকে সে হত্যা করেছে, তাঁরা হলেন সালমা শেখ, জগবাই পোল, সুরেখা চিকানে, বনিতা গায়কোয়াড় এবং নাথমল ভাণ্ডারি। জেরায় সন্তোষ এ-ও স্বীকার করেছে, ধৃত জ্যোতির সঙ্গেও তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। সন্তোষের মেডিক্যাল ডিগ্রি আসল না জাল, এখন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আরও পড়ুন

ড: সুভাষ সরকারড: সুভাষ সরকার
Opinion





















