এক্সপ্লোর
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে কথা না বলে কেন তিস্তা চুক্তি সম্পর্কে উদ্যোগ কেন্দ্রের? প্রশ্ন সৌগতর

নয়াদিল্লি: প্রস্তাবিত তিস্তা-চুক্তি নিয়ে লোকসভায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ তৃণমূলের। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে কথা না বলে কেন উদ্যোগ? প্রশ্ন সৌগত রায়ের। প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে এবিপি আনন্দর স্টুডিওয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘শুনছি ২৫ মে বাংলাদেশে গিয়ে তিস্তা চুক্তি হবে। অথচ, আমি এখনও কিচ্ছু জানি না’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের পর এবার বিষয়টি সংসদে তুলল তৃণমূল। কেন্দ্র একতরফাভাবে তিস্তা চুক্তির পথে হাঁটতে চাইছে বলে, সোমবার লোকসভায় অভিযোগ করেন সৌগত রায়। টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্ধৃতি। সৌগত রায় বলেন, মমতা জানিয়েছেন, কোনও চুক্তি সম্পর্কে না জেনে সম্মতি জানাব না। রাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় সম্মতি জানাব না। কেন রাজ্যের সঙ্গে কথা না বলেই তিস্তা চুক্তির উদ্যোগ? এমন উদ্যোগ হলে তীব্র প্রতিবাদ হবে। ২৩ মার্চই এবিপি আনন্দের অনুষ্ঠানে এসে, তিস্তা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই নড়েচড়ে বসে মোদী সরকার। গত শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গোপাল বাগলে জানান, তিস্তা জলবন্টন চুক্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার-সহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো মেনেই ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা জলবন্টন চুক্তি বাস্তবায়নের পথে হাঁটবে সরকার। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ, মোদী সরকার মুখে যা বলছে, বাস্তবে তা করছে না। তিস্তা চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করতে গিয়ে, এদিন পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তির প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন সৌগত রায়। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে জলবন্টন চুক্তি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে দিল্লি...বিদেশমন্ত্রক বলেছে যে রাজ্যের সঙ্গে কথা বলা হবে, কিন্তু এখনও বলা হয়নি। তিস্তা চুক্তি নিয়ে তৃণমূলের এই অবস্থানের নেপথ্যে আবার বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক দর কষাকষি দেখছে সিপিএম। সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিমের দাবি, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী কেউ এভাবে জল আটকাতে পারে না। নারদা-সারদার জন্য মমতা বিজেপির সঙ্গে দর কষাকষি করছে। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী পাঠায়। বাংলাদেশ বন্ধু। কী করে তুলনা হতে পারে। চুক্তি হলে দু’দেশের কৃষকরা উপকৃত হবেন। উত্তরবঙ্গের চাষ-আবাদ তিস্তার জলের ওপরে নির্ভরশীল। উল্টোদিকে বাংলাদেশেরও কাছেও তিস্তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যার জন্য দিল্লির কাছে বারবার দরবার করে চলেছে হাসিনা সরকার। যে জন্য ২০১১ সালে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মনমোহন সিংহ। কিন্তু, শেষমুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁকে বসায় আর তা সম্ভব হয়নি। এরপর মোদী সরকারের আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে...মোদী-মমতা একসঙ্গে বাংলাদেশে গিয়েছেন...কিন্তু তিস্তার জল এখনও ঘোলা। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, বাংলাদেশে নির্বাচন আসন্ন। তাই রাজনীতির অঙ্কে খালেদা জিয়াকে হারাতে হলে, ভারতের কাছ থেকে তিস্তার জল একান্তই প্রয়োজন হাসিনার। শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে সরে গেলে বাংলাদেশে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই কিংবা জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর জাঁকিয়ে বসার সম্ভাবনা জোরালো। যা ভারত কোনওভাবেই চাইবে না। উল্টোদিকে তিস্তার জলের উপর উত্তরবঙ্গ নির্ভরশীল হওয়ায়, সেটা দিয়ে দেওয়াও সহজ সিদ্ধান্ত নয়। আর এই টানাপোড়েনের মধ্যেই সাতই এপ্রিল ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সূত্রের খবর, মে মাসে বাংলাদেশ সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কি হবে তিস্তার ভাগ্য? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
খবর (News) লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য দেখুন এবিপি লাইভ। ব্রেকিং নিউজ এবং ডেলি শিরোনাম দেখতে চোখ রাখুন এবিপি আনন্দ লাইভ টিভিতে
আরও পড়ুন






















