এক্সপ্লোর
গির ন্যাশনাল পার্কে মানুষ হত্যায় ‘দোষী’ ৩ সিংহ, আজীবন খাঁচাবন্দি থাকবে

নয়াদিল্লি: সম্প্রতি গুজরাতের গির ন্যাশনাল পার্কে তিনজনকে হত্যায় ‘দোষী’ সাব্যস্ত হল তিনটি সিংহ। তারা বাকি জীবনটা বন্দিদশায় কাটাবে। দেশে ইদানিং নানা ঘটনায় একাধিক কারণে পশু ও মানুষের দ্বন্দ্ব-সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে, এমন আশঙ্কার মধ্যেই গির ন্যাশনাল পার্কের ১৭টি সিংহ-সিংহীর মধ্যে তিনটিকে মানুষ হত্যায় দায়ী করল কর্তৃপক্ষ। ২৫ দিন ধরে ওই সিংহ-সিংহীদের বন্দি করে রেখে ওদের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন পশু বিশেষজ্ঞরা। ওদের পায়ের ছাপ, মল পরীক্ষা করা হয়। তিনটি সিংহের মলে মানব শরীরের অংশ পাওয়া গিয়েছে। ওদের মধ্যে একটি প্রাপ্তবয়স্ক সিংহ, বাকি দুটি সিংহী। জুনাগড়ের জঙ্গলের প্রধান কনজারভেটর এ পি সিংহ বলেছেন, এ থেকে আমরা সিদ্ধান্তে এসেছি যে, সিংহটি মানুষকে আক্রমণ করে মেরে খেয়েছে। বাকি দুটি আধা-পরিণত সিংহী শুধু মানব শরীরের কিছু উচ্ছিষ্ট অংশ খেয়েছে। ওরা সরাসরি হামলা, হত্যায় জড়িত ছিল না। ঠিক হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক সিংহটিকে জুনাগড়ের উপকণ্ঠে শক্করবাগ চিড়িয়াখানায় খাঁচাবন্দি করে রাখা হবে। সিংহীদুটিকে খাঁচাবন্দি করা হবে বন দফতরের রেসকিউ সেন্টারে। ওরা যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও মারাত্মক ঘটনা ঘটিয়ে না ফেলে, সেই সম্ভাবনা অঙ্কুরে বিনাশ করতেই এহেন আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। বন দপ্তরের কর্তারা বলছেন, একবার কোনও জানোয়ার ‘নরখাদক’ হয়ে উঠলে সে যখন তখন যে কোনও মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। বাকি ১৪টিকে ন্যাশনাল পার্কে ছেড়ে দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল ও মে মাসে স্থানীয় একটি ১৪ বছরের কিশোর, এক ৫০ বছর বয়সি মহিলা ও ৬১ বছরের এক ব্যক্তি সিংহের আক্রমণে নিহত হয়েছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে লোকালয়ে হানা দিয়ে সিংহের হামলার ঘটনা এটাই প্রথম। এরপরই এলাকার কোডিয়া গ্রামের শখানেক চাষি প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়ানো প্রায় তিরিশটি সিংহকে ধরে অন্যত্র সরানোর দাবি করেন। রাজনৈতিক দলগুলিও তাঁদের পাশে দাঁড়ায়। এমনকী বিজেপি দাবি করে, প্রয়োজনে বিপদের মুখে আত্মরক্ষার জন্য গ্রামবাসীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হোক। প্রসঙ্গত, গির ন্যাশনাল পার্কে গত বছরের সুমারির হিসাবে ৫২৩টি সিংহ আছে। বন্য জীবন বিশেষজ্ঞদের মত, বেআইনি মাইনিং, জঙ্গল কেটে সাফ হওয়ার ফলে শিকারের অভাব দেখা যাচ্ছে। ফলে ওই অভয়ারণ্য ছেড়ে বেরিয়ে লোকালয়ে কখনও সখনও হানা দিচ্ছে সিংহকূল।
খবর (News) লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য দেখুন এবিপি লাইভ। ব্রেকিং নিউজ এবং ডেলি শিরোনাম দেখতে চোখ রাখুন এবিপি আনন্দ লাইভ টিভিতে
আরও পড়ুন






















