Road Accident: ঘন কুয়াশায় আবছা চারপাশ, নির্মীয়মাণ কুয়োর দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা, ৭০ ফুট নীচে জলে পড়ল গাড়ি, মৃত্যু যুবকের
Noida Dense Fog: ৭০ ফুট গভীর কুয়োর জলে পুরোটাই ডুবে গিয়েছিল যুবরাজ মেহতার গাড়ি। প্রায় ৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় তাঁকে। তবে ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে যুবকের।

Road Accident: ঘন কুয়াশার জেরে মারাত্মক দুর্ঘটনা। মৃত্যু হয়েছে ২৭ বছরের এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের। জানা গিয়েছে, যুবকের নাম যুবরাজ মেহতা। ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার নয়ডার সেক্টর ১৫০- তে ঘটেছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কোনও বাণিজ্যিক কাজের জন্য একটি বড় এবং গভীর কুয়ো খোঁড়া হয়েছিল। তারই বাইরের দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা মারে যুবরাজের এসইউভি গাড়ি। অনুমান, ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকায় ঠিকভাবে ঠাহর করতে পারেননি যুবরাজ। আর ওই দেওয়ালে ধাক্কা লেগে প্রায় ৭০ ফুট গভীর কুয়োতে পড়ে যায় যুবকের গাড়ি।
পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ সাঁতার জানতেন না। কুয়োর জলে ভেসে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কোনওমতে বেরিয়েও এসেছিলেন গাড়ি থেকে। গাড়ির ছাদে চড়ে বসে চিৎকার করে ডাকছিলেন সাহায্যের জন্য। বারবার ফোন করেছিলেন নিজের বাবাকে। ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সাহায্যে জন্য আর্তি জানিয়েছিলেন ওই যুবক। কিন্তু প্রায় মরতে বসা ওই যুবকের কান্নায় সেই সময় সাড়া দেননি কেউই। যুবরাজ যে কুয়োতে পড়ে গিয়েছেন, তাঁরা সাহায্যের প্রয়োজন, এটা বোঝানোর জন্য প্রায় সবরকম চেষ্টা করেছিলেন তিনি। আশা ছিল যদি কারও কানে তাঁর আবেদন পৌঁছয়। কিন্তু শেষ রক্ষা সম্ভব হয়নি। জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের।
দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকজন। তাঁরা সাহায্য করতে এগিয়ে এলেও কিছু করে উঠতে পারেননি কারণ গাড়িটি ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছিল। বাঁচার তাগিদে ওই অবস্থাতেই কোনওমতে বাবাকে ফোন করেছিলেন যুবরাজ। জানিয়েছিলেন, তিনি জল ভর্তি গভীর জুয়োতে পড়ে গিয়েছেন। ক্রমশ ডুবে যাচ্ছেন। তাঁকে যেন বাঁচানো হয়। মরতে চান না তিনি। ছেলের এমন ফোন পেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন যুবরাজের বাবা, স্থানীয় পুলিশ, ডুবুরি এবং এনডিআরএফ- এর দল। শুধু হয় উদ্ধারকাজ। কিন্তু যুবরাজকে উদ্ধার করতে পার্য ৫ ঘণ্টা লেগে যায়। ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
এই ঘটনায় যুবরাজের পরিবারের তরফে ওই নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কেন অত গভীর কুয়োর মুখ কোনওভাবে ঢেকে রাখা হয়নি, কেনই বা রাস্তায় এটুকু নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে সেখানে কাজ চলছে, এইসব অভিযোগই উঠেছে নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে। রাস্তায় কোনও প্রতিফলক ছিল। তার সঙ্গে ছিল ঘন কুয়াশা। সব মিলিয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ ওই এলাকা দেখতেই পাননি যুবরাজ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কোনও অবহেলা পাওয়া গেলে তার জন্য উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















