ঐতিহ্যের সঙ্গে আড়ম্বরের মেলবন্ধন : অনন্ত-রাধিকার বিয়েতে পবিত্র ভারতীয় রীতিনীতির ওপর ছিল বিশ্বের নজর
যেখানে অনেক আধুনিক বিয়ে সুবিধার স্বার্থে আচার-অনুষ্ঠানকে সহজতর করে তোলে, সেখানে অম্বানি ও মার্চেন্ট পরিবার বেছে নিয়েছিল ভিন্ন পথ।

অনন্ত অম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টের বিয়ে কেবল একটি অতিরঞ্জিত অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল ভারতীয় ঐতিহ্যের একটি খাঁটি, হৃদয়স্পর্শী উদযাপন। যেখানে অনেক আধুনিক বিয়ে সুবিধার স্বার্থে আচার-অনুষ্ঠানকে সহজতর করে তোলে, সেখানে অম্বানি ও মার্চেন্ট পরিবার বেছে নিয়েছিল ভিন্ন পথ। তাদের প্রতিটি পবিত্র রীতিনীতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত দর্শায়, ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি তারা কতটা গভীর শ্রদ্ধাশীল।
হিন্দু ঐতিহ্যে বিয়ে সামাজিক চুক্তির চেয়েও অনেক বেশি কিছু; এটি একটি ঐশ্বরিক চুক্তি - একটি মানসিক, আধ্যাত্মিক ও সাম্প্রদায়িক বন্ধন যা ধর্ম (কর্তব্য) ও সামাজিক সম্প্রীতির সমন্বয়। এই প্রাচীন পবিত্র রীতিনীতিগুলিকে মেনে চলার সিদ্ধান্ত বিশ্বের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠিয়েছিল। যা বুঝিয়েছিল, ঐতিহ্য তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও ভালবাসা প্রকাশ করা যায়।
অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আধ্যাত্মিক গুরু ও প্রবীণদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে জাঁকজমক ও চাকচিক্যের বাইরে আরও গভীর মাত্রা দিয়েছে।
তারকাখচিত অনুষ্ঠান হলেও অন্যদের থেকে আলাদা
১২ জুলাই মুম্বাইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে এই দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের অতিথিদের তালিকায় বিশ্বের নামকরা তারকারা থাকায় এই বিয়ে "ভারতে বছরের সেরা বিয়ে" হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। বলিউড, বিজনেস, রাজনীতি ও বিশ্বের পপ সংস্কৃতির সেলিব্রিটিরা উৎসবে যোগ দিতে ছুটে এসেছিলেন এখানে।
শাহরুখ খান ও সলমান খান থেকে শুরু করে কিম কার্দাশিয়ান, টনি ব্লেয়ার পর্যন্ত, এই অনুষ্ঠানটি মহাদেশ জুড়ে আইকনদের একত্রিত করেছিল। জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপনে ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত ও হলদি অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে কোরিওগ্রাফ করা নাচ ও প্রার্থনার আচার-অনুষ্ঠান পর্যন্ত সবকিছুই করা হয়েছিল প্রাচীন রীতিনীতিকে সম্মান জানিয়ে।
মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল এই অনুষ্ঠান
এই বিয়ের অনুষ্ঠান কেবল বিয়ের দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আসলে, কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছিল এই পর্ব। প্রথম 'প্রি-ওয়েডিং' অনুষ্ঠানটি গুজরাটের জামনগরে হয়েছিল, যেখানে রিহানা আট বছরের মধ্যে তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের অনুষ্ঠান করেছিলেন। অতিথিরা "জঙ্গল ফিভার" পোশাক পরে অনন্ত অম্বানির প্রাণী উদ্ধার কেন্দ্র ভান্তারাও পরিদর্শন করেছিলেন।
পরে, মে মাসে, বিয়ের দলটি একটি বিলাসবহুল ভূমধ্যসাগরীয় ক্রুজে যাত্রা শুরু করে, যেখানে ব্যাকস্ট্রিট বয়েজ, কেটি পেরি ও পিটবুলের চমক দেওয়া পারফরম্যান্স ছিল। মূল অনুষ্ঠানের আগে, অম্বানি পরিবার একটি গণ বিবাহের অনুষ্ঠান করে। যেখানে ৫০ জনেরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত দম্পতির বিয়ে দেওয়া হয়- যা এই ঐশ্বর্যের মধ্যে এক মানবিক স্পর্শ যোগ করে।
বিয়ের আগের দিনগুলিতে ১১ জুলাই সঙ্গীত রাত, মেহেন্দি উদযাপন ও হলদি অনুষ্ঠানের এক দর্শনীয় মিশ্রণ দেখা যায়, যা সবই ভক্তি ও আনন্দে পরিপূর্ণ ছিল। এখানে বলিউড তারকা আলিয়া ভাট, সলমান খান ও রণবীর সিং-এর সঙ্গে জাস্টিন বিবারের একটি বিশেষ পারফরম্য়ান্স দেখা যায়, যা বিনোদনের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক গভীরতাকে দর্শায়।
ঐতিহ্য, ভালোবাসা ও বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতির বার্তা
বিয়ের বিপুল আয়োজন ও ব্যয়ের উপর বিশ্বব্যাপী মন্তব্য সত্ত্বেও এই বিয়ে আরেকটি কারণে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল : ভারতীয় ঐতিহ্যের ওপর বিশ্বাস ও বিশ্বজুড়ে মানুষকে একত্রিত করার ক্ষমতা। এমন এক যুগে এই অনুষ্ঠান হয়েছে, যখন সাংস্কৃতিক শিকড় প্রায়শই আধুনিকতার মোড়কে ঢেকে যাচ্ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে অম্বানি-মার্চেন্টের বিয়ে সকলকে পবিত্রতা ও আনন্দের আবহে ভারতীয় বিয়ের সংজ্ঞা স্মরণ করিয়েছে।






















