Iran War: কেন এত রহস্য, কেনই বা আড়ালে মোজতবা খামেনেই, এতে কী লাভ ইরানের?
Mojtaba Khamenei: আয়াতোল্লা আলি খামেনেই বেঁচে থাকাকালীনও বেশ প্রভাব ছিল মোজতবার।

নয়াদিল্লি: দেশের সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়ার পরও জনসমক্ষে আসেননি। লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করলেও, ধরা দেননি ক্যামেরায়। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়েও নানা খবরাখবর আসতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ শাসক, আয়াতোল্লা মোজতবা খামেনেইয়ের ভবিষ্যৎই প্রশ্নের মুখে। কিন্তু খুব শীঘ্র মোজতবা প্রকাশ্যে নাও আসতে পারেন, এমনকি তিনি আড়াল থেকে সরকার চালাতে পারেন বলেও মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ। (Mojtaba Khamenei)
আয়াতোল্লা আলি খামেনেই বেঁচে থাকাকালীনও বেশ প্রভাব ছিল মোজতবার। কিন্তু কখনওই সেভাবে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি তাঁকে। বরং আড়ালে থেকেই ক্ষমতার অলিন্দে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সফল হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যখন ভীষণ যুদ্ধ চলছে, ভবিষ্যৎ ঘিরে যখন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, সেই সময় মোজতবা কেন আড়ালে, প্রশ্ন উঠছে দেশের অন্দরেও। সরকার বিরোধীরা ‘AI শাসক’ বলে কটাক্ষও করছেন তাঁকে। যদিও কূটনীতিকরা এর মধ্যে কৌশল দেখছেন। (Iran News)
ইয়েল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক তথা ইতিহাসবিদ এ আজিজ এ নিয়ে মুখ খুলেছেন। CNN-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বহু বছর বাবার ছত্রছায়ায়, ক্ষমতার অলিন্দে থেকেছেন মোজতবা। বাবার চারদশকের শাসনকালে হাতে গোনা কয়েক বারই প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কণ্ঠস্বর শোনার সুযোগ হয়েছে কমজনেরই। হঠাৎ করে নেমে আসা যুদ্ধ এবং বাবার অবর্তমানে আকস্মিক উত্থান, মোজতবাকে ঘিরে এই মুহূর্তে রহস্য তৈরি হয়েছে। কাল্পনিক এক চরিত্রের সৃষ্টি হয়েছে, যার শিকড় পৌরাণিক কাহিনি এবং শিয়া ধর্মতত্ত্বের গভীরে প্রোথিত।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হাতে আয়াতোল্লা খামেনেইনির মৃত্যু মোজতবার প্রতি কৌতূহল আরও বৃদ্ধি করেছে বলে মত আজিজির। তাঁর যুক্তি, মোজতবাকে ‘শহিদ ইমামে’র সন্তান হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। আহত বাঘ হিসেবে দেখানো হচ্ছে তাঁকে, যাতে কারবালার যুদ্ধের শিয়াপন্থী ইমামদের মতো ভাবমূর্তি গড়ে তোলা যায়। ইরানের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বরাবরই এমন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর পরই ইরাকের সাদ্দাম হুসেন ইরান আক্রমণ করেন। সেই যুদ্ধ আট বছর ধরে চলে। হাজার হাজার মানুষ মারা যান। ওই যুদ্ধে সামনে থেকে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে মোজতবার। ফলে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ নেই।
মোজতবার অনুপস্থিতিতে ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভিত নড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতি সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অ্যাসেম্বলি রয়েছে। যুদ্ধের কৌশল রচনা করছে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস, তিলে তিলে যাদের গড়ে তোলেন আয়াতোল্লা খামেনেই। মোজতবাও তাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এমনকি মোজতবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার নেপথ্য়েও রেভলিউশনারি গার্ডসের ভূমিকা রয়েছে। মোজতবা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের উত্তরাধিকারী, এইটুকুই বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য় জরুরি বলে করছেন লন্ডনের থিঙ্কট্যাঙ্ক সংস্থা Middle East and North Africa Programme-এর ডিরেক্টর সনম বকিল। অন্য দিকে, আজিজির দাবি, ব্যক্তি মোজতবা এখানে গুরুত্বপূর্ণ নন। হামলায় তাঁর আহত হওয়া, পরিবারকে হারানো-এসবই সরকারকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। সেরে উঠলে মোজতবা ঠিকই প্রকাশ্য়ে আসবেন।
























