Shubhanshu Shukla: মহাকাশে অবাধ্য বুদবুদ! 'লাটিম' হয়ে বিজ্ঞানের ধাঁধা মেটালেন মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা
Shubhanshu Shukla: সম্প্রতি মহাকাশ স্টেশনে গত দু'সপ্তাহ ধরে জন্মানো 'মাইক্রোঅ্যালগি' থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে এমনই এক মজার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা।

নয়াদিল্লি: পৃথিবীর মাটিতে আমরা যে মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে অতটাও গুরুত্বই দিই না, মহাকাশে গেলে বোঝা যায় তা আমাদের কত কাজ সহজ করে দেয়। মাধ্যাকর্ষণ ছাড়া ছোট একটি কাজও যে কতটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, সম্প্রতি মহাকাশ স্টেশনে তার প্রমাণ পেলেন ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা। গত দু'সপ্তাহ ধরে জন্মানো 'মাইক্রোঅ্যালগি' (এক ধরণের ক্ষুদ্র শৈবাল) থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে এমনই এক মজার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)।
বিজ্ঞানের অভিনব সমাধান
মহাকাশে নমুনা সংগ্রহের সময় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় বাতাসের বুদবুদ। পৃথিবীতে সিরিঞ্জ উল্টো করলেই মাধ্যাকর্ষণের টানে বুদবুদগুলো সহজেই ওপরে উঠে যায়, যা বের করে দেওয়া সহজ। কিন্তু মহাকাশে বা 'মাইক্রোগ্র্যাভিটি'তে এই বুদবুদগুলো একেবারেই অবাধ্য; তারা না ওপরে ওঠে, না নীচে নামে—বরং তরলের ভেতর যেখানে খুশি ভেসে বেড়ায়।
কীভাবে সমস্যার সমাধান করলেন শুভাংশু শুক্লা?
এই সমস্যার সমাধানে ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু এক অভিনব বুদ্ধি বের করেন। কোনও যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই তিনি নিজে হাতে সিরিঞ্জ নিয়ে ল্যাবরেটরির ভেতরে বনবন করে ঘুরতে শুরু করেন। এই ঘূর্ণনের ফলে তৈরি হওয়া কৃত্রিম বল বা Centrifugal Force তরলকে সিরিঞ্জের নলের দিকে ঠেলে দেয় এবং বাতাসকে উল্টো দিকে সরিয়ে দেয়। ১২টি ব্যাগ থেকে ৪৮টি নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁকে অসংখ্যবার এইভাবে ঘুরতে হয়েছে।
Any experiment in space quickly reminds you that gravity does a lot of unpaid work on Earth. Without it, even the simplest tasks turn into puzzles. Here, I was extracting samples from bags of microalgae I had been growing for the past two weeks.
— Shubhanshu Shukla (@gagan_shux) February 9, 2026
The challenge: collecting samples… pic.twitter.com/HLQPuA9cEj
দূর থেকে যদি এই দৃশ্য কেউ দেখেন, তাঁর মনে হতে বাধ্য যে, মহাকাশ স্টেশনে শুভাংশু শুক্লা বুঝি কোনও বিচিত্র ঘরানার নাচে (Interpretive Dance) মেতেছেন। তবে শুভাংশুর এই 'নাচ' আসলে ছিল বিজ্ঞানের এক সৃজনশীল লড়াই। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, মহাকাশে শুধু উচ্চ প্রযুক্তি থাকলেই হয় না, মাঝে মাঝে পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্যরকম উদ্ভাবনী চিন্তারও প্রয়োজন হয়। শুভাংশু যা করেছেন একেবারে সুচারুভাবে।























