Keratin Treatment: হেয়ার স্ট্রেটনিং, কেরাটিন ট্রিটমেন্টে লুকিয়ে মারাত্মক বিপদ, বলছেন বিশেষজ্ঞরা, ভারতে এখনও পর্যন্ত একটি পণ্যই নিষিদ্ধ
Hair Straightening Risks: চুল স্ট্রেট করা কি স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক? কেন বাড়ছে উদ্বেগ? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

নয়াদিল্লি: চিরুনি চালাতে গিয়ে আটকানো বালাই নেই। তাই সিল্কি-স্মুথ চুল ভাল লাগে সকলেরই। তাই গাঁটের কড়ি খরচ করে চুল স্ট্রেট এবং কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করাতে ছোটেন মেয়েরা। কিন্তু তাতে কি ব্যবহৃত রাসায়নিক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যে কারণে হেয়ার স্ট্রেটনিং নিষিদ্ধ করতে তৎপরতা চোখে পড়ছে। (Hair Straightening Risks)
হেয়ার স্ট্রেটনিং করাতে যে সব উপকরণ ব্যবহার করা হয়, তাতে ফর্মালডিহাইড নামের যে রাসায়নিক থাকে, তাকে ঘিরেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কিছু উপকরণে সরাসরি ফর্মালডিহাইড যোগ করা হয়। কিছুতে আবার থাকে ফর্মালিন বা মিথিলিন গ্লাইকল, যার উপর ব্লো ড্রায়ার বা ফ্ল্যাট আয়রন প্রয়োগ হলে ফর্মালডিহাইড গ্যাস নির্গত হতে পারে। (Keratin Treatment)
ওই ফর্মালডিহাইডকে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান বা কার্সিনোজেন হিসেবে চিহ্নিত করেছে ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার’ সংস্থা। তারা জানিয়েছে, ওউ রাসায়নিক দ্বারা সৃষ্ট ধোঁয়া বা বাষ্প শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে চোখ, নাক, শ্বাসনালি জ্বালা করতে পারে। কাশি, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, ঘড়ঘড় শব্দ হয়, অস্বস্তি হয় বুকে। যাঁরা স্ট্রেটনিং করাচ্ছেন তাঁদের যেমন ক্ষতি এতে, তেমনই বিউটি পার্লার বা স্যালোঁ কর্মীদের জন্যও ওই রাসায়নিক অত্যন্ত ক্ষতিকর, বিশেষ করে বিউটি পার্লার বা স্যালোঁ কর্মী, যাঁরা সপ্তাহে একাধিকবার ওই কাজ করেন।
View this post on Instagram
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রসাধনী পণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি নিজেদের পণ্যকে ‘ফর্মালডিহাইড ফ্রি’ বলে দাবি করতেই পারেন। কিন্তু সরাসরি না হলেও, অন্য কোনও রূপে ওই সব পণ্যে ফর্মালডিহাইড থাকেই, যা চুল থেকে শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই ওই সব পণ্য ব্যবহার করার আগে ভাল করে উপাদানগুলি দেখে নেওয়া উচিত। বদ্ধ ঘরে ওই সব ট্রিটমেন্ট না করাই ভাল। দক্ষ কর্মীদেরই ওই কাজ করা উচিত।
কিছু সংস্থা আবার ফর্মালডিহাইডের বিকল্প হিসেবে গ্লাইঅক্সিলিক অ্যাসিড ব্যবহার করেন নিজেদের পণ্যে। কিন্তু তাতেই ঝুঁকি এড়ানো গেল মনে করার কোনও কারণ নেই বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ২০২৪ সালে The New England Journal of Medicine একটি ঘটনা তুলে ধরে, যেখানে ২৬ বছর বয়সি তরুণীর কিডনি মারাত্মক রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিন-তিন বার হেয়ার স্ট্রেট করিয়েছিলেন তিনি। Kidney International Reports জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, গ্লাইঅক্সিলিক অ্যাসিড শুষে নিতে পারে ত্বক। সেক্ষেত্রে গ্লাইঅক্সিলিক অ্যাসিড অক্সালেটে পরিণত হয়, যার সংস্পর্শে এসে জমাট বাঁধে ক্যালসিয়াম, যা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিডনি। PubMed-এর গবেষণাপত্রেও দেখা গিয়েছে, একাধিক ক্ষেত্রে রোগীদের ডায়লিসিসের উপর নির্ভরশীল হতে হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠলেও উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
আরও পড়ুন: জলের জন্য হাহাকার মহারাষ্ট্রে, ওয়াটার-কার্ফু জারি হল, জরিমানা, FIR দায়েরের নিদান
আর সেই নিয়েই নড়েচড়ে বসছে একাধিক দেশ। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্গত দেশগুলি ফর্মালডিহাইড যুক্ত প্রসাধনী সামগ্রী নিষিদ্ধ করেছে। কানাডা আবার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে ব্লো ডায়ার এবং ফ্ল্যাট আয়রন ব্যবহার করা হয় এমন পণ্যে ন্যূনতম (০.০১ শতাংশ) ফর্মালডিহাইড ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছে।
২০২৬ সালে এপ্রিল মাসে ভারতের সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের তরফে ‘Beauty Garage 3X Keratin Hair Straightener’ পণ্যটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়, যাতে ফর্মালডিহাইড ছিল ১০ শতাংশ। ওই পণ্যে ৯.৯৭৮ শতাংশ ফর্মালডিহাইড ছিল, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে শুধুমাত্র একটি পণ্যের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করা হয়। ভারতের বাজারে এখনও বিভিন্ন ধরনের কেরাটিন ট্রিটমেন্ট রমরমিয়ে চলছে, যার উপর তেমন নিষেধাজ্ঞা নেই।
ইজ়রায়েল যদিও পুরোপুরি ভাবে গ্লাইঅক্সিলিক অ্যাসিড যুক্ত পণ্য নিষিদ্ধ করে ২০২৩ সালে। ফ্রান্সে তরফেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি ফর্মালডিহাইড এবং গ্লাইঅক্সিলিক বাদ দিয়ে বর্তমানে যে থিওগ্লাইকোলেট এবং হাইড্রক্সাইড নির্ভর পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে, তাতেও স্ক্যাল্প জ্বালা করা, স্ক্যাল্প পুড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা চোখে পড়ছে অহরহ। দুর্বল হয়ে পড়ছে চুলের তন্তু।
তাই হেয়ার স্ট্রেট না করিয়ে স্টাইলিংয়ের উপর জোর দিচ্ছেন অনেকে। নকল চুলের ব্যবহারও বাড়ছে। অর্গানিক পণ্যের দিকেও ঝোঁক বাড়ছে অনেকের। প্রসাধনীর জগতে অন্য দেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া। তাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে এমন কোনও পণ্য ভারতের বাজারে আনা যায় কি না, তার উপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ সার্থক আহুজাও।
ফর্মালডিহাইডের সঙ্গে গলার উপরিভাগের ক্যান্সার, সাইনোনেসাল ক্যান্সার, রক্ত এবং অস্থিমজ্জার ক্যান্সারের সংযোগ পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, কিডনির রোগেরও যোগ পাওয়া গিয়েছে ইতিমধ্যে।






















