Medical Science News: প্রৌঢ়ের শরীর থেকে জ্যান্ত পাঁকাল মাছ বের করলেন ডাক্তাররা, সেঁধিয়ে ছিল তলপেটে
Eel Found in Man's Body: পাঁকাল মাছ ঢুকে গিয়েছিল মৎস্যজীবীর শরীরে। অস্ত্রোপচার করে বের করে আনলেন চিকিৎসকরা। তখনও জীবিত ছিল।

নয়াদিল্লি: হঠাৎ করেই তলপেটে যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল। আপনাআপনি সেরে যাবে ভেবেছিলেন। কিন্তু যন্ত্রণা কমা তো দূর, বরং যত সময় এগোতে থাকে, ততই বাড়তে থাকে যন্ত্রণা। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ছুটতে হল এক ব্যক্তিকে। সেখানে গিয়ে জানা গেল, তাঁর পেটে সেঁধিয়ে রয়েছে জ্যান্ত পাঁকাল মাছ, যা ভিতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে তাঁকে। (Eel Found in Man's Body)
বাংলাদেশ থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। পেশায় মৎস্যজীবী, ৫৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির শরীরের ভিতর জ্যান্ত পাঁকাল মাছ লুকিয়েছিল। প্রথমে বিষয়টি বোঝাই যায়নি। কারণ শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকই ছিল। হৃদস্পন্দন সামান্য বেশি ছিল, মিনিটে ১১০ বার। শেষ পর্যন্ত এক্স রে-তে আসল সমস্যা ধরা পড়ে। (Medical Science News)
এক্স রে-তে দেখা যায়, অর্ধচন্দ্রাকারে সরু, লম্বা ছায়ার মতো কিছু একটা রয়েছে ওই ব্যক্তির তলপেটের ডানদিকে। সেটি ‘পেরিটোনাইটিস’ বলে ইঙ্গিত মেলে, অর্থাৎ পেটের উপর যে পেরিটোনিয়াম পর্দার আস্তরণ থাকে, তাতে প্রদাহজনিত সমস্য। ব্যাকটিরিয়া হা ছত্রাক সংক্রমণ থেকে এমনটা ঘটতে পারে। অন্য অঙ্গ থেকে তরল চুঁইয়ে পড়ার দরুণও ঘটতে পারে ওই রোগ। সময়ে চিকিৎসা না হলে প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়িয়ে পাড়তে গোটা শরীরে।
কিছু ঘটেছিল কি না, জানতে চাওয়া হলে চিকিৎসকদের ওই ব্যক্তি জানান, একদিন আগে আচমকাই পায়ুদ্বার দিয়ে একটি পাঁকাল মাছ শরীরের ভিতর ঢুকে যায়। আপনাআপনি বেরিয়ে যাবে বলেই মনে করেছিলেন তিনি। চিকিৎসা করাতে যাননি তাই। বিষয়টি জানতে পেরে ওই রোগীকে প্রথমে আই ভি অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। তরল এবং অ্যান্টি আলসারের ওষুধও দেওয়া হয়, যাতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বহির্ভাগের ক্ষত সারে,গভীরে ছড়িয়ে পড়ে না।
চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, ওই ব্যক্তির সেপটিসেমিয়া হতে পারে, অর্থাৎ রক্ত বিষিয়ে যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে ওই রোগীর অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। সেই মতো ল্যাপারোটমির মাধ্যমে পেটের দেওয়ালে ছিদ্র করে, তলপেট থেকে মাছটিকে বের করে আনা হবে বলে ঠিক হয়। সেই মচো মাছটিকে বের করে আনা হয়। মাছটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২.২ ফুট। অস্ত্রোপচার করে বের করে আনার পরও জীবিত ছিল মাছটি।
চিকিৎসকদের ধারণা, মলাশয়ের দেওয়াল ভেদ করেই হয়ত পেরিটোনিয়াল গহ্বরে প্রবেশ করে মাছটি। ফলে মাছটির শ্বাস-প্রশ্বাসও চালু ছিল। পেরিটোনিয়াল গহ্বরে হালকা হলুদ রংয়ের তরল থাকে, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ঘর্ষণ রোখে। জল, গ্লুকোজ, ইলেকট্রোলাইট, প্রোটিন, এনজাইম, শ্বেত রক্তকণিকা এবং ইউরিয়া থাকে। কোনও রকম সংক্রমণের ঝুঁকি যাতে না থাকে, তার জন্য রোগীর পেটে একটি ছিদ্র তৈরি করেন চিকিৎসকরা, যাতে তার মাধ্যমে বৃহদন্ত্র থেকে বর্জ্য বেরিয়ে আসতে পারে বাইরে। অস্ত্রোপচারের পর কোনও রকম উপসর্গ না থাকায় শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া হয় ওই রোগীকে। Ovid জার্নালে এই বিরল ঘটনা তুলে ধরেছেন চিকিৎসকরা।
এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাইরে থেকে কোনও আঘাতের জেরে অন্ত্রে ছিত্র তৈরি হওয়ার ঘটনা সচরাচর চোখে পড়ে না। জীবন্ত কোনও প্রাণীর সংস্পর্শে তেমনটা ঘটাও বিরল। তাই জ্যান্ত মাছের জন্য বৃহদন্ত্রে ছিদ্র তৈরি হওয়ার ঘটনাটি অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা। এর আগে, হংকংয়ে ৫০ বছর বয়সি এক হ্যক্তির শরীরে পাঁকাল মাছ ঢুকে যায়। তবে আপনা থেকে নয়, কোষ্ঠকাঠিন্যের টোটকা হিসেবে তিনি নিজেই মাছটিকে নিজের শরীরে প্রবেশ করিয়েছিলেন।























