ডার্বি হারের জের, ইস্টবেঙ্গল ক্লাব-তাঁবুতে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ফুটবলাররা, কোচের অপসারণ দাবি

কলকাতা: ডার্বি হারের পর ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের বিক্ষোভ। কোচের উদ্দেশে গো ব্যাক স্লোগান। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ। শুক্রবার সকাল থেকে কার্যত রণক্ষেত্র ইস্টবেঙ্গল। ট্রফির খরা। ডার্বিতে হার। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ-দুঃখ-আবেগ, ফেটে পড়ল শুক্রবার সকালে। লাল হলুদ মশালে ক্ষোভের আগুন। সেই আগুনের মুখে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলার থেকে কর্মকর্তারা। খেলার মাঠ হঠাত্ই রণক্ষেত্র। ঘটনার সূত্রপাত এদিন সকাল ৯টা। ছুটি কাটিয়ে তখন সবে ক্লাবে ঢুকেছেন দলের ফুটবলারেরা। দিনটা গুড ফ্রাইডে। সেই গুড ফ্রাইডে যে কুখ্যাত ফ্রাইডে দ্য ফোর্টিনথ্ হয়ে উঠবে, তখনও কি তাঁরা জানতেন? আঁচটা টের পেলেন গোলকিপার রেহনেশ। ফিরতি ডার্বিতে জোড়া গোল খাওয়ায় ইতিমধ্যেই যাঁকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়। তাঁকে ঘিরে শুরু বিক্ষোভ। নয়া বিতর্ক। রেহনেশ সমর্থকদের লক্ষ্য করে কুরুচিকর ভঙ্গী করেন বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত মাঠে ঢুকে অবশ্য ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। তা অবশ্য রোষের আগুনে জল ঢালতে পারেনি। ৯ এপ্রিল, বাগানের কাছে হার শেষ করে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের আইলিগ-স্বপ্ন। ক্লাবের ঐতিহ্য-আবেগ-সম্মানে লাগে আঘাত। লাল হলুদ স্কোয়াড যেন রাতারাতি ধ্বংসস্তূপ। তবু, ভাঙা মন নিয়েই প্র্যাক্টিসে নামেন ফুটবলাররা। অনুশীলনের মধ্যেই গ্যালারিতে চলতে থাকে বিক্ষোভ। রেহনেশ, মর্গ্যান, ওয়েডসনদের লক্ষ্য করে বারবার উড়ে আসে স্লোগান। লাল হলুদের অনুশীলন শেষ হওয়ার পরও ক্রমশ বাড়তে থাকে বিক্ষোভের মাত্রা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পিছনের দরজা দিয়ে বের করে নিয়ে ড্রেসিংরুমে যাওয়া হয় ফুটবলার ও কোচকে। ক্লাবের এক শীর্ষকর্তাকে ঘিরে চলতে থাকে বিক্ষোভ। এরপরই ক্লাবের মূল ফাটক বন্ধ করে দেন সমর্থকেরা। ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় গোটা টিমকে ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ। ফাটক আটকে মর্গ্যানকে আটকানোর চেষ্টা হয়। চলে ধাক্কাধাক্কি। কোনওক্রমে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে পড়েন লাল হলুদের হেডস্যার। তাঁর গাড়ি ঘিরে শুরু বিক্ষোভ। অন্যান্য ফুটবলারদের গাড়িও ঘিরে ধরেন তাঁরা। শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ। অবশেষে পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে এলেন কোচ স্বয়ং। এগিয়ে এলেন ফুটবলারেরা। চলল সমর্থকদের শান্ত করার চেষ্টা। বেশ কয়েকজন সমর্থককে ক্লাবে ডাকেন শীর্ষকর্তারা। শোনা হয় তাঁদের দাবিও। মর্গ্যান-রেহনেশদের অপসারন-সহ বেশ কিছু দাবি-দাওয়া রাখেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসে পুলিশ। দুপুর দেড়টা নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রাত পোহালেই নববর্ষ। ময়দানের বারপুজো। নয়া মরসুমের আগে যেখানে জয়ের শপথ নেন ফুটবলারেরা। তার আগেই বাংলা বছরের শেষ দিনে ক্ষোভ-বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল ময়দান। তবে, ফুটবল-বিশেষজ্ঞদের মতে ডার্বিতে হারই এই ক্ষোভ-বিক্ষোভের একমাত্র কারণ নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে লাল হলুদের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার অভাব। ব্যর্থতা। পরিসংখ্যান বলছে, লাল হলুদের হাতে শেষবার জাতীয় লিগ এসেছে ২০০৩-০৪ মরসুমে। তারপর শুধুই অন্ধকার। গত ১৩ বছরে একবারও লিগ আসেনি তাদের হাতে। ২০০৭, ২০০৯, ২০১০-এর পর শেষবার তারা ফেডারেশন কাপ জিতেছে ২০১২-তে। সাফল্য বলতে কেবলমাত্র টানা ৭ বছর ধরে কলকাতা লিগ জয়। ২০১০ থেকে ২০১৭। কিন্তু, জাতীয় লিগের কাছে কলকাতা লিগের সে কৌলিন্য কোথায়? এই মরসুমের আইলিগে খেতাবের দৌড়ে এগিয়ে থেকেও পরপর ম্যাচ হারায় পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তারপর, কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতল ডার্বি-হার। পয়েন্টের বিচারে পিছিয়ে পড়ে খেতাবি লড়াইয়ের প্রায় বাইরে। আগুনে ঘি ঢালে কোচ-ক্লাবকর্তা কাজিয়া। এমনকী, কাঠগড়ায় ফুটবলাররাও। তার মধ্যেই ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের বিস্ফোরক দাবি, এই লাল হলুদ স্কোয়াড তাঁর বাছা নয়। লিগের মাঝপথেই কার্যত দ্বিধাবিভক্ত লাল হলুদ শিবির। মর্গ্যানের হাত ধরেই আইলিগ থেকে ফেড কাপে রানার আপ হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ২০১১-তে এরিয়ান্সের কাছে ৪-১ গোলে হারের পর সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। আবার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার নিরিখে বারবার দাবি উঠেছে মর্গ্যানকে ফেরানোর। ফিরলেন মর্গ্যান। তবু, পাল্টালো না ছবিটা। ফের বিক্ষোভ।






















