Mohammed Siraj: খারাপ সময় ভুলতে চান না, ভাঙাচোরা সেই বাইক এখনও রেখে দিয়েছেন ওভালে ভারতের জয়ের নায়ক সিরাজ
Ind vs Eng: আইপিএলের লোভনীয় চুক্তি, ভারতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার জন্য প্রাপ্ত বড় অঙ্কের অর্থ, কোনও কিছুতেই তিনি ভোলেননি পুরনো সে দিনের কথা।

কলকাতা: বিদ্বজ্জনেরা বলেন, খারাপ সময় ভুলে যেতে নেই। বরং তা থেকে শিক্ষা নিতে হয়। তাতেই পথ চলার সুবিধা।
মহম্মদ সিরাজ অক্ষরে অক্ষরে সে কথা মেনে চলেন। আইপিএলের লোভনীয় চুক্তি, ভারতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার জন্য প্রাপ্ত বড় অঙ্কের অর্থ, কোনও কিছুতেই তিনি ভোলেননি পুরনো সে দিনের কথা। যখন হায়দরাবাদে প্রবল দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে নিজেকে ক্রিকেট মাঠে প্রতিষ্ঠিত করার সাধনায় মেতে ছিলেন। সেই সময় সতীর্থরা চড়ত দামি গাড়ি। আর সিরাজের ছিল সেকেন্ড হ্যান্ড একটি বাইক। যে বাইক স্টার্ট নিত না ঠিক মতো। লজ্জায় আড়ালে নিয়ে গিয়ে স্টার্ট দিতেন।
বাজাজ সংস্থার প্লাটিনা মডেলের সেই বাইক এখনও রেখে দিয়েছেন সিরাজ। ওভালে ভারতের জয়ের নায়ক এবিপি লাইভ বাংলাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বাইকটি দেখলে তাঁর নিজের লড়াইয়ের কথা মনে পড়ে যায়। আরও তাগিদ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন মাঠে।
সিরাজ বলেছিলেন, 'আমি ভীষণ অভাবী পরিবার থেকে উঠে এসেছি। একটা সময় আমার কোনও গাড়ি ছিল না। একটা বাজাজ প্লাটিনা বাইক ছিল। সেই বাইকের সেলফ স্টার্ট তো দূরের কথা, কিকও ছিল না। ধাক্কা মেরে স্টার্ট করতে হতো। হায়দরাবাদের হয়ে যারা রঞ্জি ট্রফি খেলত, প্রত্যেকে গাড়িতে আসত। আমার ওই প্লাটিনা বাইকে চড়ে আসতে খুব অস্বস্তি হতো। লজ্জা লাগত। মাঠ থেকে সকলে চলে যাওয়ার পর তারপর বাইকটা ধাক্কা মেরে স্টার্ট করে বেরতাম। বাবা অটো চালাতেন। সংসারে অনটন ছিল। খুব লড়াই করতে হয়েছে। তবে বিশ্বাস করি, লড়াই করে গেলে পুরস্কার পাবই। এখন জীবনে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে। তবে ওই বাইকটাকে এখনও রেখে দিয়েছি। ওটা দেখলে নিজের লড়াইটা মনে পড়ে যায়। আরও এগিয়ে চলার, পরিশ্রম করার তাগিদ পাই।'
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোটা সিরিজে প্রচুর বল করেছেন সিরাজ। কখনও ক্লান্ত হননি। বলছেন, 'দেশের হয়ে বল করলে ক্লান্তি আসে না।' ফিটনেসে অসম্ভব জোর দেন। সিরাজ এবিপি লাইভ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'ফিটনেস নিয়ে ভীষণ পরিশ্রম করি। জিমে অনেকটা করে সময় কাটাই। পেসারদের ফিটনেস ধরে রাখাটা খুব জরুরি। পাশাপাশি টেস্ট ম্যাচ খেলাটা খুব একটা সহজ নয়। লম্বা স্পেলে বল করতে হয়। দীর্ঘক্ষণ মাঠে ফিল্ডিং করতে হয়। তাই ফিটনেস ধরে রাখা ও শরীরের নমনীয়তা বজায় রাখায় বিশেষ গুরুত্ব দিই।'
বাবা ছিলেন অটোচালক। স্বপ্ন ছিল, ছেলে একদিন দেশের হয়ে খেলবে। চার বছর আগে ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফর চলাকালীন বাবার মৃত্যু হয়। তবে ভারতে না ফিরে দলের সঙ্গে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সিরাজ। পরে দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বাবার সমাধিস্থলে গিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছিলেন। যে ছবি দেখে অনেকের চোখে জল এসে গিয়েছিল। কতটা কঠিন ছিল সেই অধ্যায়? সিরাজ বলেছিলেন, 'খুব কঠিন সময় ছিল। বাবার স্বপ্নই ছিল তাঁর ছেলে দেশের হয়ে খেলবে, দেশের নাম উজ্জ্বল করবে। আমি ফিরে এলে বাবার স্বপ্নপূরণ হতো না। মায়ের সঙ্গে কথা বলি। মা বলে, বেটা, তুই আসিস না। বাবার ইচ্ছে পূরণ কর। সেই জন্যই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। আমার বাগদত্তাও সেই সময় ভীষণভাবে পাশে ছিল।'
হায়দরাবাদি পেসারের মনের সেই জোর, সংকল্প, আর দৃঢ়চেতা মানসিকতার ধাক্কায় ওভালে চুরমার হল ইংরেজ ব্যাটিং।




















